hadith book logo

আত্মশুদ্ধি

লেখকঃ খালেদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-মুসলেহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

দ্বিতীয় আপদ: বিদ‘আত এবং রাসূলের সুন্নাতের বিরোধিতা।

কারণ, বিদ‘আত বিদ‘আতীকে আল্লাহ থেকে দূরত্বই সৃষ্টি করে দেয়। বিদ‘আত অন্তরকে নষ্ট করে দেয় এবং অন্তর যা থেকে উপকৃত ও পবিত্র হবে তা হতেও কর্মহীন করে দেয়। অতএব, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত বা পথই উত্তম পথ এবং নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে ইসলামে নব-প্রবর্তন এবং প্রত্যেক নব-প্রবর্তনই হচ্ছে বিদ‘আত আর প্রত্যেক বিদ‘আতই হলো ভ্রষ্টতা। তাই অন্তর যখন বিদ‘আতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন তা অন্ধকারে পরিণত হয় এবং তার চিন্তা ও কল্পনা নষ্ট হয়ে যায়। তখন কীভাবে তার জন্য নিরাপত্তা হাসিল হওয়া সম্ভব? এ কারণেই সালাফ থেকে বিদ‘আতের অনুসারীদের সহচর্য গ্রহণ করা থেকে কঠোর ভাষায় সাবাধান করা হয়েছে। কারণ, তাদের সাহচার্যতা অন্তর নষ্টের কারণ হতে পারে। ফুদ্বাইল ইবন আইয়াদ্ব রহ. বলেন,

من جلس إلى صاحب بدعة أورثه الله العمى

“যে ব্যক্তি বিদ‘আতীর সথে বসবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে অন্ধত্বের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন”। অর্থাৎ তার অন্তর (সত্য গ্রহণ করা থেকে) দৃষ্টিহীন হয়ে যাবে। আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে এ থেকে রক্ষা চাই।

কবি বলেন,

إذا أنت لم تسقم و صاحبت مسقماً

وكنت لـه خدنـاً فأنت سقيـم

“যদি তুমি রোগী না হও কিন্তু পীড়িত ও রোগীর সঙ্গী-সাথী হয়ে থাকো এবং তার একান্ত সহচর হও, তাহলে তুমিও পীড়িত ও অসুস্থ হয়ে পড়বে।”

এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তরের সবচেয়ে বড় রোগ বিদ্বেষ ও প্রবৃত্তির কামনা ও বাসনা থেকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়েছেন মুসলিমদের জামা‘আতের সাথে মিলেমিশে থাকাকে, আর তা হলো বিদ‘আত বা ভ্রষ্টতা বা বিচ্ছিন্নতা বা ঝগড়া-বিবাদ করার মাধ্যমে মুসলিমদের জামা‘আত থেকে বের না হওয়া।