১
আত্মশুদ্ধি
লেখকঃ খালেদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-মুসলেহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
অষ্টম চিকিৎসা ও ঔষধ: উত্তম এবং সৎ ও ধার্মিক লোকদের সহচর্য গ্রহণ করা:
কারণ, তারা এমন লোকজন যাদের সঙ্গী ও সাথীগণ কখনও দুর্ভাগা হন না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন:
﴿وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَا تُطِعۡ مَنۡ أَغۡفَلۡنَا قَلۡبَهُۥ عَن ذِكۡرِنَا وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ وَكَانَ أَمۡرُهُۥ فُرُطٗا ٢٨﴾ [ الكهف : ٢٨ ]
“(হে রাসূল!) নিজেকে তুমি রাখবে তাদেরই সঙ্গে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহ্বান করে তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না; যার চিত্তকে বা অন্তরকে আমরা আমাদের স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি, সে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে তুমি তার আনুগত্য করো না।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ২৮]
ইমাম আহমাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
«المرء على دين خليله، فلينظر أحدكم من يخالل»
“একজন মানুষ তার বন্ধুর দীনের ওপরেই বড় হতে থাকে, কাজেই তোমাদের প্রত্যেকে যেন পর্যবেক্ষণ করে দেখে সে কার বন্ধুত্ব গ্রহণ করেছে।”
ইমাম মালিক ইবন দীনার বলেন,
إنك أن تنقل الحجارة مع الأبرار خير من أن تأكل الحلوى مع الفجار
“ধার্মিক লোকদের সাথে তোমার পাথর বহণ করাও পাপাচারী ও লম্পট লোকদের সাথে মিষ্টি খাওয়া থেকে উত্তম।” অতএব, ভালো, উত্তম, সৎ ও ধার্মিক লোকদের সহচর্য গ্রহণ করবে এবং তাদের সাহচর্য লাভের চেষ্টা করবে, যাদের দেখা হলে আল্লাহকে স্মরণ আসে। কারণ, তাদের সাহচর্য অন্তরের জীবন। একজন সালাফ বলেছেন:
إن كنت لألقى الرجل من إخواني فأكون بلقياه عاقلاً أياماً
“আমি কখনও কখনও আমার বন্ধুদের কারও সাথে সাক্ষাৎ করি, অতঃপর তার সাথে এ সাক্ষাতের মাধ্যমে অনেক দিন বুদ্ধিমান হয়ে থাকি।”
অন্য একজন সালাফ বলেছেন:
كنت أنظر إلى أخ من إخواني فأعمل على رؤيته شهراً
“আমি আমার বন্ধুদের মধ্য থেকে কোনো একজনের দিকে তাকিয়ে এক মাস আমল করতে সমর্থ হই।”
এ সব হচ্ছে অন্তরের প্রতিষেধক এর মূলনীতি এবং আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন মাধ্যম। তাই তা উপলব্ধির চেষ্টা এবং তা ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা কর। কারণ, প্রকৃত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও তার সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। যাদের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং যাদের অভ্যন্তর ভাগ সুস্থ হয়েছে তাদের থেকে অধিক পরিপূর্ণ, অধিকতর সৌভাগ্যবান, অধিক উত্তম, অধিক সুখী, অধিক আনন্দময় ও অধিক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি আর কেউ নেই।
‘আরশে আযীমের মালিক মহান আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি, যারা তাঁর কাছে খাঁটি ও অটুট অন্তর নিয়ে আগমন করবেন, আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
﴿يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ ٨٨ إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ ٨٩﴾ [ الشعراء : ٨٨، ٨٩ ]
“সেদিন, যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।” [সূরা আশ- শু‘আরা, আয়াত: ৮৮-৮৯]
আবারও ‘আরশে আযীমের মালিক মহান আল্লাহর কাছে দো‘আ করি, তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে তাঁর শরী‘আতের ওপর সুদৃঢ় থাকার তাওফীক দান করেন এবং তিনি আমাদেরকে যেন একনিষ্ঠ অন্তর এবং সৎ আমল করার তাওফীক দান করেন এবং আমাদের অন্তরে যেন তাকওয়া দান করেন এবং যেন তা পবিত্র করেন এবং তিনিই অন্তরের উত্তম পবিত্রকারী।
পরিশেষে আমাদের দাবী থাকবে যে, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আর আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং জাহান্নাম থেকে সতককারী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতি রহমত নাযিল করুন। (আমিন)
আত্মশুদ্ধি: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির ওপরই নির্ভর করে তার বাহ্যিক আচার-আচরণ। আত্মা বিশুদ্ধ না হলে মানুষের আমলও বিশুদ্ধ হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহত্তর ও সুমহান যা নিয়ে এসেছেন তা হলো অন্তরের সংশোধন ও পরিশুদ্ধতার ব্যবস্থাপত্র। গ্রন্থটিতে এ বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
﴿وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَا تُطِعۡ مَنۡ أَغۡفَلۡنَا قَلۡبَهُۥ عَن ذِكۡرِنَا وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ وَكَانَ أَمۡرُهُۥ فُرُطٗا ٢٨﴾ [ الكهف : ٢٨ ]
“(হে রাসূল!) নিজেকে তুমি রাখবে তাদেরই সঙ্গে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহ্বান করে তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না; যার চিত্তকে বা অন্তরকে আমরা আমাদের স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি, সে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে তুমি তার আনুগত্য করো না।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ২৮]
ইমাম আহমাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
«المرء على دين خليله، فلينظر أحدكم من يخالل»
“একজন মানুষ তার বন্ধুর দীনের ওপরেই বড় হতে থাকে, কাজেই তোমাদের প্রত্যেকে যেন পর্যবেক্ষণ করে দেখে সে কার বন্ধুত্ব গ্রহণ করেছে।”
ইমাম মালিক ইবন দীনার বলেন,
إنك أن تنقل الحجارة مع الأبرار خير من أن تأكل الحلوى مع الفجار
“ধার্মিক লোকদের সাথে তোমার পাথর বহণ করাও পাপাচারী ও লম্পট লোকদের সাথে মিষ্টি খাওয়া থেকে উত্তম।” অতএব, ভালো, উত্তম, সৎ ও ধার্মিক লোকদের সহচর্য গ্রহণ করবে এবং তাদের সাহচর্য লাভের চেষ্টা করবে, যাদের দেখা হলে আল্লাহকে স্মরণ আসে। কারণ, তাদের সাহচর্য অন্তরের জীবন। একজন সালাফ বলেছেন:
إن كنت لألقى الرجل من إخواني فأكون بلقياه عاقلاً أياماً
“আমি কখনও কখনও আমার বন্ধুদের কারও সাথে সাক্ষাৎ করি, অতঃপর তার সাথে এ সাক্ষাতের মাধ্যমে অনেক দিন বুদ্ধিমান হয়ে থাকি।”
অন্য একজন সালাফ বলেছেন:
كنت أنظر إلى أخ من إخواني فأعمل على رؤيته شهراً
“আমি আমার বন্ধুদের মধ্য থেকে কোনো একজনের দিকে তাকিয়ে এক মাস আমল করতে সমর্থ হই।”
এ সব হচ্ছে অন্তরের প্রতিষেধক এর মূলনীতি এবং আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন মাধ্যম। তাই তা উপলব্ধির চেষ্টা এবং তা ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা কর। কারণ, প্রকৃত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও তার সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। যাদের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং যাদের অভ্যন্তর ভাগ সুস্থ হয়েছে তাদের থেকে অধিক পরিপূর্ণ, অধিকতর সৌভাগ্যবান, অধিক উত্তম, অধিক সুখী, অধিক আনন্দময় ও অধিক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি আর কেউ নেই।
‘আরশে আযীমের মালিক মহান আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি, যারা তাঁর কাছে খাঁটি ও অটুট অন্তর নিয়ে আগমন করবেন, আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
﴿يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ ٨٨ إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ ٨٩﴾ [ الشعراء : ٨٨، ٨٩ ]
“সেদিন, যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।” [সূরা আশ- শু‘আরা, আয়াত: ৮৮-৮৯]
আবারও ‘আরশে আযীমের মালিক মহান আল্লাহর কাছে দো‘আ করি, তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে তাঁর শরী‘আতের ওপর সুদৃঢ় থাকার তাওফীক দান করেন এবং তিনি আমাদেরকে যেন একনিষ্ঠ অন্তর এবং সৎ আমল করার তাওফীক দান করেন এবং আমাদের অন্তরে যেন তাকওয়া দান করেন এবং যেন তা পবিত্র করেন এবং তিনিই অন্তরের উত্তম পবিত্রকারী।
পরিশেষে আমাদের দাবী থাকবে যে, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আর আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং জাহান্নাম থেকে সতককারী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতি রহমত নাযিল করুন। (আমিন)
আত্মশুদ্ধি: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির ওপরই নির্ভর করে তার বাহ্যিক আচার-আচরণ। আত্মা বিশুদ্ধ না হলে মানুষের আমলও বিশুদ্ধ হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহত্তর ও সুমহান যা নিয়ে এসেছেন তা হলো অন্তরের সংশোধন ও পরিশুদ্ধতার ব্যবস্থাপত্র। গ্রন্থটিতে এ বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।