hadith book logo

প্রশংসনীয় গবেষণা

লেখকঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা

এরূভাবে ওসামা বিন জায়েদ রা. জুহাইনা গোত্রের হুরাকাত যুদ্ধে যখন কলেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারীকে হত্যা করেন, তখন তার উপর দিয়ত বা কাফ্ফারা কিছুই ওয়াজিব হয়নি। কেননা, ওসামার রা. ধারণা ছিল যে, এরূপ সংকটময় মুহুর্তের ইসলাম গ্রহণ যোগ্য নয়, তাকে হত্যা করা জায়েয, যদিও মুসলিমকে কতল করা হারাম কাজ। বুখারী

সালফে সালেহীন ও অধিকাংশ ফকীহদের ব্যাপক তাবিলের মাধ্যমে বিদ্রোহীগণ ন্যায়পরায়নগণকে হত্যা জায়েয মনে করলে কেছাছ, কাফ্ফারা বা দিয়ত দিতে হবে না। যদিও মুসলিমদেরকে হত্যা করা ও তাদের সাথে যুদ্ধ করা হারাম।

শাস্তি প্রযোজ্য হবার যে সব শর্ত আমরা উপরে বর্ণণা করেছি, প্রত্যেক কথায় এর উল্লেখ জরুরী নয়। কেননা, এই সম্পর্কীয় জ্ঞান হৃদয়ে বিরাজমান। যেমন আমলের প্রতিদানের ওয়াদার জন্য শর্ত হলো খালেছভাবে আল্লাহর জন্য আমল করা এবং মুরতাদ হওয়ার কারণে আমল বরবাদ না হওয়া। অবশ্য এই শর্তটি প্রত্যেক নেক কাজের প্রতিদানের ওয়াদাপূর্ণ হাদিসেই উল্লেখ করা প্রয়োজন নয়।

অত: পর বলতে হয় যেখানে শাস্তি প্রতিষ্ঠার অনিবার্য বিষয়সমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে, কখনও ঐ শাস্তির হুকুম প্রতিবন্ধকতার কারণে রহিত হয়ে থাকে।

নিম্ন লিখিত কারণে নির্ধারিত শাস্তিও প্রযোজ্য হয় না

যদি কেউ তওবা করে

আল্লাহর দরবারে গুনাহ ক্ষমা করে দেয়ার প্রার্থনা করে

এমন সৎকাজ করে যা দ্বারা গুনাহ মুছে যায়

দুনিয়ায় বালা মুছিবত

গৃহীত সুপারিশকারীর সুপারিশ বা শাফায়াত

পরম করুণাময় আল্লাহর রহমত

যখন উল্লেখিত সমস্ত উপরণগুলির অনুপস্থিতি ঘটে, তখন আজাব বা শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। অবশ্য, উল্লেখিত উপকরণগুলির অনুপস্থিতি শুধু ঐ সমস্ত লোকের পক্ষে হয়ে থাকে, যারা সীমালঙ্ঘনকারী, নাফরমান অথবা প্রভুর সীমা হতে পলায়নরত জন্তুর ন্যায়।

আল্লাহর সীমা হতে পলায়নকারী কোন অশোভনীয় কাজের পরিণামে যে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে তার অর্থ এই যে, ঐ কাজটি হারাম এবং গর্হিত।

অতএব, যে ব্যক্তি এমন কাজে লিপ্ত হবে সে ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন হবে।

যেমন কারণ ( سبب ) পাওয়া গেলে কারণকৃত বস্তুর ( مُسَبَّبٌ ) উপস্থিতি অপরিহার্য এ কথা বলা একেবারে বাতিল বা অমূলক। কেননা, কারণকৃত বস্তুর ( مُسَبَّبٌ ) প্রাপকের জন্য ওর শর্ত পাওয়া অপরিহার্য। শর্ত বিদ্যমান না থাকলে কারণকৃত বস্তু পাওয়া যাবে না। শাস্তি প্রযোজ্যের জন্য আরও শর্ত হলো সকল প্রকারের প্রতিবন্ধকতা না থাকা।

আলোচনার বিষয়ে আরো পরিস্কার করে বললে বলতে হয় কোন ব্যক্তি হাদিসে আমল না করলে তা তিন প্রকারের বহির্ভূত নয়

১ম প্রকার

হয়তবা এই পরিত্যাগ মুসলিমের সম্মিলিত রায় অনুযায়ী জায়েয। যেমন: যার কাছে হাদিস পৌঁছেনি এবং ফতোয়া বা হুকুমের প্রতি প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও হাদিস সন্ধানে ত্রুটি করেনি, তার জন্য হাদিস ত্যাগ করা। এ অবস্থায় হাদিস পরিত্যাগকারী গুনাহগার হবে না। এ বিষয়ে কোন মুসলিম সন্দেহ করতে পারে না।

২য় প্রকার

না জায়েযভাবে হাদিসটি ত্যাগ করা। এরূপ পরিত্যাগ ইমামগনের পক্ষ হতে কখনও হতে পারে না। ইনশা আল্লাহ।

৩য় প্রকার

আলেমের পক্ষ হতে এরূপ আশংকা করা হয়ে থাকে, যেমন: কোন আলেম উক্ত মাসআলার হুকুম বুঝতে অক্ষম। এমতাবস্থায়, চিন্তার শেষ প্রান্তে পৌছার পূর্বই দলিল দ্বারা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও নিজ রায় প্রদান করেন, কিংবা অভ্যাসজনিত বস্তু বা কোন উদ্দেশ্য তার উপর জয়লাভ করে, যার ফলে সে ঐ বিষয়ে পূর্ণ চিন্তা ভাবনা হতে অপারগ থাকেন। ফলে তিনি যে ফতোয়া প্রদান করেন, তার বিপরীত দলিলও পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে, ঐ ব্যক্তি যে রায় প্রদান করেছে, তা শুধু তার ইজতেহাদের দলিলের উপর ভিত্তি করেই। কিন্তু ইজতেহাদের যে প্রান্তসীমা প্রয়োজন, মুজতাহিদ কখনও কখনও সেই পর্যায়ে পৌছাতে অক্ষম থাকেন।