hadith book logo

মুরাকাবা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

এ আয়াতসমূহ থেকে আমরা যা শিখতে পারিঃ

আলোচিত পাঁচটি আয়াতই মুরাকাবা সম্পর্কিত।

প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ এমন এক সত্তা তুমি সালাতে দাড়ালে যিনি তা প্রত্যক্ষ করেন। সেজদা অবস্থায় তোমার নড়াচড়াগুলোও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না।

দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সাথে আছেন।’’ এর অর্থ হল, তিনি সর্বক্ষণ, সর্বাবস্থায় ও সর্বত্র তোমাদের পর্যবেক্ষণ করেন। তার জ্ঞান, দর্শন, শ্রবন থেকে তোমরা কেহ বাহিরে নও।

এ আয়াতের অর্থ এ নয় যে, মহান আল্লাহর জাত বা সত্তা তোমাদের সাথে সাথে থাকেন। নাউজুবিল্লাহ।

আল্লাহ রাববুল আলামীনের সত্তা আরশের উপর সমাসীন। এ সম্পর্কে আল কুরআনে বহু আয়াত রয়েছে। তিনি সর্বত্র বিরাজমান নন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, দর্শন, শ্রবন সর্বত্র বিরাজমান। জগতসমূহের কোথাও সামান্য অনু পরিমাণ বস্ত্ত তার পর্যবেক্ষণের বাহিরে নয়। ‘আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান’ বলে যে আকীদা শিক্ষা দেয়া হয় তা সঠিক নয়। সঠিক আকীদা-বিশ্বাস হল, আল্লাহ তাঁর আরশে সমাসীন। আর সারা জগতের সব কিছুই তার জ্ঞান, দর্শন শ্রবনের আওতাভুক্ত। তাই ইমাম নববী রহ. এ আয়াতটিকে মুরাকাবা বা আল্লাহ তাআলার পর্যবেক্ষণ বিষয়ে এখানে উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় আয়াতের শিক্ষা হল, আসমানসমূহ ও জমীনের কোন বস্ত্ত ও বিষয় তাঁর কাছে গোপন নয়।

চতুর্থ আয়াতের শিক্ষা হল, যুদ্ধের সময় যুদ্ধের ঘাঁটিতে প্রহরীরা ওঁৎ পেতে বসে কড়া দৃষ্টিতে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে। আল্লাহও কড়া দৃষ্টিতে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে, এমন অনেক বিষয় আছে যা মানুষ সতর্ক থাকার পরেও তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আবার কোন কোন বিষয় আছে যা পর্যবেক্ষণ করা তাদের সাধ্যের বাহিরে থাকে। এমন সব বিষয়ও আল্লাহর পর্যবেক্ষণের বাহিরে নয়। মানুষ কোথায় চুপে চাপে তাকায়, সে কখন কি কল্পনা করে, নিয়্যত করে ও গোপন রাখে এগুলো অন্য মানুষ জানতে না পারলেও আল্লাহ তাআলা ভালভাবে জানেন।