hadith book logo

অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সাওমের ভূমিকা

লেখকঃ মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সাওমের ভূমিকা

সিয়ামের এক মাসকালীন প্রশিক্ষণমূলক অবদান অত্যন্ত সূক্ষ্ণ, ব্যাপক ও গভীর। সিয়াম মানব মনের যাবতীয় কু-প্রবৃত্তির ওপর শক্ত লাগাম লাগিয়ে দেয় এবং সাওম পালনকারীকে যাবতীয় নাফরমানীর কাজকর্ম থেকে বিরত রাখে। অপরাধ (Crime) [অপরাধ: অপরাধ বলতে শরী‘আতের এমন আদেশ ও নিষেধ বুঝায় যা লংঘন করলে হদ অথবা তা‘যীর প্রযোজ্য হয়। আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন হাবীব আল-মাওয়ারদী (মৃ. ৪৫০/১০৫৮), আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা, (বৈরুত: ১৩৯৮/১৯৭৮), পৃ. ২১৯।] যে ধরনের ও যে প্রকৃতিরই হোক তা নফসের খাহেশ, কামনা, বাসনা, লোভ ও লালসা থেকেই উৎসারিত হয়। আর তার গোড়াতে তিনটি প্রবল শক্তি-উৎস নিহিত থাকে। প্রথম লোভ-লালসার শক্তি; দ্বিতীয় যৌনস্পৃহা ও কু-প্রবৃত্তি এবং তৃতীয় হচ্ছে অহমিকতা-দাম্ভিকতাবোধ। সিয়ামের প্রশিক্ষণমূলক প্রভাব রয়েছে এই তিনটি শক্তি-উৎসের ওপর। [মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম, অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম (ঢাকা- খায়রুন প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ জুন/১৯৯৭) পৃ. ৮৮।]

এক্ষেত্রে সাওম বিভিন্নভাবে অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যে সমস্ত গুণ, প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন করার প্রয়োজন তন্মধ্যে তাকওয়া, আত্মসংযম, ক্ষুধা ও পিপাসার নিয়ন্ত্রন, যৌন কর্মের নিয়ন্ত্রন, অশ্লীলতা ও অনার্থক কাজকর্ম বর্জন, সুশৃঙ্খল প্রবৃত্তি, সত্য বলার প্রবণতা, ধৈর্য চর্চা প্রভৃতি অন্যতম। পবিত্র এ সিয়াম এগুলোর প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের বাস্তব কসরত। মানুষ যাতে এসব গুণ লালন করতে পারে, একটি মাস ধরে সিয়াম মূলত তারই বিজ্ঞান-সম্মত ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, এই সমস্ত গুণ সৃষ্টি ও প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে সিয়ামের যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ সে সম্পর্কে এখানে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো: