১
একজন সফল গার্ডিয়ানের গুণাবলি
লেখকঃ মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
একজন সফল গার্ডিয়ানের গুণাবলি
পরিবারের নেতৃত্ব দেন একজন পুরুষ। আল কুরআন পুরুষের ঘাড়েই গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বভার অর্পণ করেছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে পুরুষের নেতৃত্ব আদিকাল থেকে চলে-আসা একটি কালচার, যা প্রাকৃতিক কারণেই ঘটে থাকে। পুরুষের মনোগঠন, সপ্রতিভ আচরণ, দৃঢ়চিত্ততা, সাহসিকতা, প্রতিকূল পরিবেশে - আবেগ নয়- বরং বুদ্ধিচালিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা, অধিকন্তু শীত-বর্ষা-হেমন্ত-বসন্ত রোদ-বৃষ্টি, আলো-অন্ধকার সকল পরিস্থিতিতে দেহ সঞ্চালিত করে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার শারীরিক ক্ষমতা পুরুষকে সমাসীন করেছে নেতৃত্বের আসনে। তাই পুরুষকেই পালন করতে হবে একটি পরিবারের মূল গার্ডিয়ানের ভূমিকা।
বর্তমান বিশ্বে হাতে-গোণা কয়েকটি দেশ ব্যতীত, সকল দেশেই নারীসমাজ ভোগ করছে, অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে, পুরুষের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা। তবু সাধারণ ব্যাকরণ ও তিক্ত-সত্য হল, সকল সমাজেই, এখনো, পুরুষরা পালন করে যাচ্ছে নেতৃত্ব প্রদানের মূল ভূমিকা। প্রত্যন্ত গ্রামের মাতব্বর-প্রধানদের থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিস্তীর্ণ ময়দানে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণদের অধিকাংশই পুরুষ। পৃথিবীর যেকোনো দেশে মন্ত্রীপরিষদ অথবা পার্লামেন্ট মেম্বারদের অধিকাংশই পুরুষ। পুরুষের জেনেটিক অবগঠন নেতৃত্বানুকুল। সে হিসেবে বর্তমান নারীবাদীদের কেউ কেউ মাতৃগর্ভে থাকাকালীন নারী-এব্রয়ও-তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে পুরুষের সাথে সমতা আনার দাবি উত্থাপন করেছেন, সেটা যদি করাও হয় তাহলেও তা হবে ঐশী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিপরীতে অবস্থান যা কখনো মানবতার জন্য কল্যাণকর হবে না, হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এর বড় প্রমাণ মানুষ প্রকৃতিগত বিধানের বিরুদ্ধে যেখানে যা করেছে তার সবগুলোই মানবতা, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য অকল্যাণকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য কোনো সুযোগে করা যাবে। এখানে যা বলতে চাচ্ছি তা হল, একটি পরিবারের মূল গার্ডিয়ানশিপ পুরুষের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। আর সে ক্ষেত্রে পুরুষকে অর্জন করতে হবে বেশ কিছু যোগ্যতা, যা সুচারুরূপে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা দেবে।
নবী-রাসূলগণ ছিলেন ইনসানে কামেল, মানবিক গুণাবলির পূর্ণাঙ্গতম প্রতিফলন যাদের জীবনে ঘটেছে। নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনাপ্রাপ্ত, তাই তারা ছিলেন নির্ভুল, আদর্শিক উচ্চতার শীর্ষচূড়ায় অধিষ্ঠিত। সাধারণ মানুষের পক্ষে নবী-রাসূলগণের মতো ইনসানে কামেল হওয়া দু:সাধ্য হলেও আমল-আখলাক-চরিত্র-আদর্শ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নবীদের উসওয়া বা আদর্শ সামনে রেখে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেয়া সম্ভব। অন্যথায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের জন্য উসওয়া বা আদর্শ হিসেবে পেশ করা হত না। ইরশাদ হয়েছে: {অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে}[ সূরা আল আহযাব:২১ ]
সে হিসেবে একজন মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল আদর্শ আপন করে নিয়ে তার প্রয়োগ ঘটাতে চেষ্টা-সাধনা করে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সামনে রেখে নিজেকে সবসময় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কোন দিকটায় ত্রুটি রয়েছে, কোন দিনটা আরো উন্নত, সুস্মিত করতে হবে। জীবনপর্যায়ের কতটুকু অংশে উসওয়ায়ে রাসূল স্থান করে নিতে পেরেছে। উসওয়ায়ে রাসূলের চাঁচে ফেলে নিজেকে উন্নত করার, পরিমার্জিত করার এক নিরবচ্ছিন্ন মেহনতে-শ্রমে নিজেকে নিক্ষেপ করতে হবে।
উসওয়ায়ে রাসূলের যথার্থ অনুসরণ একজন মানুষকে যোগ্য গার্ডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, পরিবারের দেখভাল, সন্তান লালনের দায়িত্ব যথার্থরূপে পালনের জন্য চারিত্রিক ও আদর্শিক যোগ্যতা দান করবে।
এটা হল একটা জেনারেল কথা যা কেবল গার্ডিয়ানশিপ নয় বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক বলে মনি করি। আর আমরা যেহেতু গার্ডিয়ানশিপ নিয়ে আলোচনায় বসেছি তাই এ ক্ষেত্রে নবীর উসওয়া-আদর্শ কী তা জ্বলজ্বলে করে বলা আবশ্যক বলে মনে করি।
এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে একজন সফল গার্ডিয়ানকে নিম্নবর্ণিত গুণসমূহ অর্জন করে সফল গার্ডিয়ানশিপ নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে হাতে-গোণা কয়েকটি দেশ ব্যতীত, সকল দেশেই নারীসমাজ ভোগ করছে, অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে, পুরুষের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা। তবু সাধারণ ব্যাকরণ ও তিক্ত-সত্য হল, সকল সমাজেই, এখনো, পুরুষরা পালন করে যাচ্ছে নেতৃত্ব প্রদানের মূল ভূমিকা। প্রত্যন্ত গ্রামের মাতব্বর-প্রধানদের থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিস্তীর্ণ ময়দানে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণদের অধিকাংশই পুরুষ। পৃথিবীর যেকোনো দেশে মন্ত্রীপরিষদ অথবা পার্লামেন্ট মেম্বারদের অধিকাংশই পুরুষ। পুরুষের জেনেটিক অবগঠন নেতৃত্বানুকুল। সে হিসেবে বর্তমান নারীবাদীদের কেউ কেউ মাতৃগর্ভে থাকাকালীন নারী-এব্রয়ও-তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে পুরুষের সাথে সমতা আনার দাবি উত্থাপন করেছেন, সেটা যদি করাও হয় তাহলেও তা হবে ঐশী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিপরীতে অবস্থান যা কখনো মানবতার জন্য কল্যাণকর হবে না, হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এর বড় প্রমাণ মানুষ প্রকৃতিগত বিধানের বিরুদ্ধে যেখানে যা করেছে তার সবগুলোই মানবতা, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য অকল্যাণকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য কোনো সুযোগে করা যাবে। এখানে যা বলতে চাচ্ছি তা হল, একটি পরিবারের মূল গার্ডিয়ানশিপ পুরুষের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। আর সে ক্ষেত্রে পুরুষকে অর্জন করতে হবে বেশ কিছু যোগ্যতা, যা সুচারুরূপে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা দেবে।
নবী-রাসূলগণ ছিলেন ইনসানে কামেল, মানবিক গুণাবলির পূর্ণাঙ্গতম প্রতিফলন যাদের জীবনে ঘটেছে। নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনাপ্রাপ্ত, তাই তারা ছিলেন নির্ভুল, আদর্শিক উচ্চতার শীর্ষচূড়ায় অধিষ্ঠিত। সাধারণ মানুষের পক্ষে নবী-রাসূলগণের মতো ইনসানে কামেল হওয়া দু:সাধ্য হলেও আমল-আখলাক-চরিত্র-আদর্শ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নবীদের উসওয়া বা আদর্শ সামনে রেখে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেয়া সম্ভব। অন্যথায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের জন্য উসওয়া বা আদর্শ হিসেবে পেশ করা হত না। ইরশাদ হয়েছে: {অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে}[ সূরা আল আহযাব:২১ ]
সে হিসেবে একজন মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল আদর্শ আপন করে নিয়ে তার প্রয়োগ ঘটাতে চেষ্টা-সাধনা করে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সামনে রেখে নিজেকে সবসময় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কোন দিকটায় ত্রুটি রয়েছে, কোন দিনটা আরো উন্নত, সুস্মিত করতে হবে। জীবনপর্যায়ের কতটুকু অংশে উসওয়ায়ে রাসূল স্থান করে নিতে পেরেছে। উসওয়ায়ে রাসূলের চাঁচে ফেলে নিজেকে উন্নত করার, পরিমার্জিত করার এক নিরবচ্ছিন্ন মেহনতে-শ্রমে নিজেকে নিক্ষেপ করতে হবে।
উসওয়ায়ে রাসূলের যথার্থ অনুসরণ একজন মানুষকে যোগ্য গার্ডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, পরিবারের দেখভাল, সন্তান লালনের দায়িত্ব যথার্থরূপে পালনের জন্য চারিত্রিক ও আদর্শিক যোগ্যতা দান করবে।
এটা হল একটা জেনারেল কথা যা কেবল গার্ডিয়ানশিপ নয় বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক বলে মনি করি। আর আমরা যেহেতু গার্ডিয়ানশিপ নিয়ে আলোচনায় বসেছি তাই এ ক্ষেত্রে নবীর উসওয়া-আদর্শ কী তা জ্বলজ্বলে করে বলা আবশ্যক বলে মনে করি।
এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে একজন সফল গার্ডিয়ানকে নিম্নবর্ণিত গুণসমূহ অর্জন করে সফল গার্ডিয়ানশিপ নিশ্চিত করতে হবে।