‘গল্পে আঁকা ইতিহাস’ শায়খ আলী তানতাভীর লেখা একমাত্র শিশুতোষ গল্প সিরিজ। তাঁর অন্যান্য প্রসিদ্ধ অনেক কিতাব আমার পড়ার সৌভাগ্য হলেও তাঁর এ-সিরিজটি আমি হাতে পেয়েছি কয়েক বছর আগে।
সত্যি কথা বলতে কি, হাতে পাওয়া মাত্রই আমি তা এক নিঃশ্বাসে পড়ার মতোই পড়ে ফেলি। তারপরই বসে যাই অনুবাদে। ভিতরে ভিতরে একটা উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। কারণ, সিরিজটি যার-তার নয়- আলী তানভীর! কে তিনি? অনেক বড় মানুষ! আরব বিশ্বের সেরা সাহিত্যিক। শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী। তাছাড়া এটি একটি গল্প-সিরিজ। ইতিহাসের গল্প। কেমন সেই ইতিহাস? আমাদের সোনালী যুগের ইতিহাস। যে ইতিহাসে ছড়িয়ে আছে আমাদের শিশু-কিশোরদের জীবন গড়ার হাজারো উপকরণ ও পাথেয়।
বইটি পড়া শেষ করে আমি জানার চেষ্টা করেছিলাম- আলী তানতাভী শিশুতোষ আর কী কী লিখেছেন। জানতে পারলাম আর কিছু লিখে যেতে পারেন নি। আমার আফসোস হলো- হায়! তিনি যদি আমাদের অসহায় শিশু-কিশোরদের জন্যে আরো অনেক অনে-ক লিখে যেতেন!
সিরিজটি কাদের জন্যে এবং কেনো লেখা হয়েছে, তা লেখক নিজেই তার শক্তিশালী ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। আমি সেদিকে না গিয়ে শুধু বলবো– আমাদের হাতের নাগালে শিশুতোষ বইয়ের নামে বামপল্লীতে এবং এখানে সেখানে আমরা যে সব বইয়ের ছড়াছড়ি ও কাটতি দেখি, তা আসলে শিশুকিশোরদের সুস্থ ইসলামী মানস গঠনে এবং ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাসকে তাদের সামনে মেলে ধরতে ইতিবাচক ভূমিকা তো পালন করছেই না উল্টো শিশু-কিশোর মানসকে গল্প ও শিশু-সাহিত্যের নামে তাদেরকে দ্বীন থেকে, দ্বীনের ভালোবাসা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে আমাদের শিশু-কিশোররা আমাদের দুশমনের খেলার পুতুলে পরিণত হচ্ছে— নিজেদের অনিচ্ছায়, অভিভাবকদের অজান্তে, অবহেলায়।
অবশ্য এর জন্যে শুধু ওরাই দায়ী নয়, আমরাও দায়ী। আমরা শিশুদের নিয়ে ভাবছি না। কিংবা যেভাবে ভাবা দরকার সেভাবে ভাবছি না। কিংবা শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে সুন্দর মার্জিত ও গঠনমুখী ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টির সুপ্রয়াস নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি না। মান ও গুণের দৈন্যতাও আছেই, যা আমাদের পিছিয়ে থাকার একটি বড় কারণ। তবে হতাশার কিছু নেই। আমাদের এ-সঙ্কটকাল আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। উন্মুচিত হচ্ছে আমাদের সামনে নতুন নতুন দিগন্ত।
আমাদের শিশু সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার যে মহান ধারা শুরু হয়েছে, আমার বিশ্বাস- ‘গল্পে আঁকা ইতিহাস’ সিরিজটি সে ধারায় কিছুটা হলেও গতি সৃষ্টি করবে।
বইটি এখন বের হচ্ছে ‘কিতাব কানন’ থেকে। ‘কিতাব কানন’ একটি নতুন প্রকাশনী। কিছু প্রতিশ্রুতি এবং কিছু লক্ষ্য নিয়ে এর সফর শুরু হয়েছে। আল্লাহ কবুল করুন!
শেষ করার আগে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলি। আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন উস্তায আল্লামা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম এই বইটি অনুবাদ করার পর আমাকে ডেকে
জিকির">দু’আ দিয়েছেন। সিরিজের প্রথম কয়েকটি বই নিপুণভাবে সম্পাদনা করে দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন আর দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে লিখতে হয়, লেখা শিখতে হয় এবং নিজের লেখাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেকেই নিজের ভুল বের করতে হয়।
আল্লাহ তাঁর নেক হায়াত আরো বাড়িয়ে দিন। তার মুবারক হাতে তৈরী হোক শিশু সাহিত্যের অফুরন্ত ভাণ্ডার।
বিনীত
ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী
বাড়ি-১/৭, সড়ক-২০ এন এস রোড,
ব্লক- এ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা।
০১৮১৫৪৬১২২৭