১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ১ -আঁধার রাতের বন্ধু
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
কারাগারে রাত দিন
কারাগারে রাত দিন কারাগারের এক অন্ধ কুঠরীতে ইকরামা এখন বন্দি। ফুলের কোমল পরশে আর স্নিগ্ধ সুবাসে কেটেছে যার জীবন, তিনি এখন শক্ত যবের রুটি খেয়ে আর চটের বিছানায় শুয়ে দিন গুরান করেন! এক সময় তার মজলিস গমগম করেছে কৃতার্থ মানুষের ভিড়ে, তিনি এখন নির্জন কুঠরীতে আন্দাযে রাত-দিনের পার্থক্য করেন। তবু ইকরামা স্থির প্রশান্ত। নিরুদ্বিগ্ন ও আত্মসমাহিত। ধৈর্য ও প্রশান্তির এমন অপূর্ব সুন্দর মুখচ্ছবি বড়ো একটা দেখা যায় না।
কিন্তু ইকরামার স্ত্রী?
তার মাথায় যেনো বিপদ-মুসীবতের পাহাড় ভেঙে পড়লো। কোনো সম্ভ্রান্ত ও শরীফ (ভদ্র) মানুষ যখন বন্দি হন, তখন তার যতো না কষ্ট, তার শতগুণ কষ্ট ও যন্ত্রণা হয় ‘গৃহ-কারাগারে’ আবদ্ধ তার পরিবার-পরিজনের। কেননা তারা দু’ধারী তলোয়ারের মতো প্রিয়জনের বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা এবং প্রতিবেশীদের বিদ্রুপ-যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়। অথচ নীরবে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না। সবচে’ অসহনীয় হলো- কিছু কিছু মানুষের ভিতরের উল্লাস চেপে রেখে কৃত্রিম সান্ত্বনা দানের নিষ্ঠুরতা। ইকরামার স্ত্রীও তেমনি অসহনীয় অবস্থার সম্মুখীন হতে লাগলেন।
দু’একজন অবশ্য তাকে আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেয় নতুন শাসনকর্তা খোযায়মা’র কাছে ধরনা দেয়ার। কেননা তিনি দয়ালু মানুষ। অবলা নারীর অসহায়ত্ব অবশ্যই তার হৃদয়কে নাড়া দেবে। ইকরামার স্ত্রী এ-সব পরামর্শ শোনেন আর ভাবেন– তার হাতে তো আরো অব্যর্থ অস্ত্র রয়েছে। একটা শব্দের অস্ত্র, যা ব্যবহার করা মাত্র স্বামী তার মুক্তি পেতে পারেন। দুঃখের অমানিশা দূর হয়ে তাদের জীবনে উদ্ভাসিত হতে পারে সুখের আলো!
নয়া আমীরকে তিনি যদি শুধু বলেন– ম‘ুখোশধারী ঘোড়সওয়ারকে স্বরণ করো- হে অকৃতজ্ঞ আমীর!’
তাহলেই তো সব মুশকিল আসান হয়ে যেতে পারে!
কিন্তু বলতে যে মানা!
তিনি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বামী যে বলেছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ যেনো না জানে আমার এ-গোপন
অভিযানে খবর!’
স্বামীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির অমর্যাদা কী করে করতে পারেন তিনি?
হোক না তা স্বামীর জীবন রক্ষার জন্যেই!
‘জান’ বড় না ‘মান’ বড়?
এভাবে একদিন দুদিন করে কেটে গেলো ত্রিশটি দিন।
যন্ত্রণার আগুনে দগ্ধ পূর্ণ একটি মাস।
ইকরামার স্ত্রী এরপর আর পারলেন না।
নারীর চিরন্তন মমতা ভাসিয়ে নিয়ে গেলো তার ধৈর্যের বাঁধ এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রতিজ্ঞা।
কিন্তু ইকরামার স্ত্রী?
তার মাথায় যেনো বিপদ-মুসীবতের পাহাড় ভেঙে পড়লো। কোনো সম্ভ্রান্ত ও শরীফ (ভদ্র) মানুষ যখন বন্দি হন, তখন তার যতো না কষ্ট, তার শতগুণ কষ্ট ও যন্ত্রণা হয় ‘গৃহ-কারাগারে’ আবদ্ধ তার পরিবার-পরিজনের। কেননা তারা দু’ধারী তলোয়ারের মতো প্রিয়জনের বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা এবং প্রতিবেশীদের বিদ্রুপ-যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়। অথচ নীরবে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না। সবচে’ অসহনীয় হলো- কিছু কিছু মানুষের ভিতরের উল্লাস চেপে রেখে কৃত্রিম সান্ত্বনা দানের নিষ্ঠুরতা। ইকরামার স্ত্রীও তেমনি অসহনীয় অবস্থার সম্মুখীন হতে লাগলেন।
দু’একজন অবশ্য তাকে আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেয় নতুন শাসনকর্তা খোযায়মা’র কাছে ধরনা দেয়ার। কেননা তিনি দয়ালু মানুষ। অবলা নারীর অসহায়ত্ব অবশ্যই তার হৃদয়কে নাড়া দেবে। ইকরামার স্ত্রী এ-সব পরামর্শ শোনেন আর ভাবেন– তার হাতে তো আরো অব্যর্থ অস্ত্র রয়েছে। একটা শব্দের অস্ত্র, যা ব্যবহার করা মাত্র স্বামী তার মুক্তি পেতে পারেন। দুঃখের অমানিশা দূর হয়ে তাদের জীবনে উদ্ভাসিত হতে পারে সুখের আলো!
নয়া আমীরকে তিনি যদি শুধু বলেন– ম‘ুখোশধারী ঘোড়সওয়ারকে স্বরণ করো- হে অকৃতজ্ঞ আমীর!’
তাহলেই তো সব মুশকিল আসান হয়ে যেতে পারে!
কিন্তু বলতে যে মানা!
তিনি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বামী যে বলেছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ যেনো না জানে আমার এ-গোপন
অভিযানে খবর!’
স্বামীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির অমর্যাদা কী করে করতে পারেন তিনি?
হোক না তা স্বামীর জীবন রক্ষার জন্যেই!
‘জান’ বড় না ‘মান’ বড়?
এভাবে একদিন দুদিন করে কেটে গেলো ত্রিশটি দিন।
যন্ত্রণার আগুনে দগ্ধ পূর্ণ একটি মাস।
ইকরামার স্ত্রী এরপর আর পারলেন না।
নারীর চিরন্তন মমতা ভাসিয়ে নিয়ে গেলো তার ধৈর্যের বাঁধ এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রতিজ্ঞা।