hadith book logo

গল্পে আঁকা ইতিহাস ১ -আঁধার রাতের বন্ধু

লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

মহানুভবতার পুরস্কার

খোযায়মা কালবিলম্ব না করে ইকরামাকে নিয়ে ছুটলেন খলীফার দরবারে। খলীফা খোযায়মা’র হঠাৎ আগমনে বিস্মিত হলেন এই ভেবে, ‘সদ্য নিযুক্ত আমীরের কেননা এই হঠাৎ আগমন? কোনো দুর্ঘটনা নয় তো!”

অনুমতি পেয়ে খোযায়মা খলীফার খিদমতে হাজির হলেন এবং সালাম ও আদব নিবেদনের পর বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! সেই মুখোশধারী ঘোড়সওয়ারের পরিচয় আমি পেয়েছি। তিনি আমার সাথেই আছেন!’

‘কে সেই মহানুভব?!’

‘সাবেক শাসনকর্তা-ইকরামা!’

‘আচ্ছা!’

খলীফার তলব পেয়ে ইকরামা হাজির হলেন। খলীফা পুলকিত কণ্ঠে বললেন, ‘ইকরামা! তোমার মহত্ত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। বলো, কী পুরস্কার চাও?’

‘আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কোননা পুরস্কার চাই না।’

খলীফা দ্বিতীয়বার মুগ্ধ হলেন। বললেন, ‘কিন্তু আমি তোমাকে পুরস্কৃত করতে চাই!’

এরপর খলীফা ইকরামাকে আরব উপদ্বীপসহ আরমেনিয়া ও আজারবাইজানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। আর বললেন, ‘খোযায়মা’র ভাগ্য এখন তোমার হাতে! তাকে বরখাস্তও করতে পারো, আবার সহকারীরূপে বহালও রাখতে পারো!’

বন্ধু!

কী মনে হয় তোমার?

ইকরামা কি খোযায়মাকে বরখাস্ত করতে পারেন?

অসম্ভব!

অমন বন্ধুকেও কেউ হাতছাড়া করে?

ইকরামা আল্লাহর শোকর আদায় করলেন এরপর খলীফার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন আর খোজায়মা’র হাত ধরে বললেন, ‘খোযায়মা’র চেয়ে ভালো মানুষ কোথায় পাবো আমি এ-যুগে!’

খলীফা সোলায়মান বিন আবদুল মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত ইকরামা ও খোযায়মা স্ব স্ব পদে বহাল ছিলেন।

আর তাদের বন্ধুত্ব?

সে তোমরাই বলো! এমন দুটি পবিত্র হৃদয়ের মাঝে যে বন্ধুত্বের বন্ধন, তা কি কখনো ছিন্ন হতে পারে!