১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ১ -আঁধার রাতের বন্ধু
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
ইকরামা ফাইয়ায
রবীআ গোত্রের ইকরামা ছিলেন তখন আরব-উপদ্বীপের শাসনকর্তা। বড়ো ভালো মানুষ তিনি। মনে যেমন প্রশস্ত, দানে তেমন মুক্তহস্ত। তাই লোকে বলে- “ইকরামা ফাইয়ায’- দানবীর ইকরামা! তিনি একদিন তার পরিষদকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘খোযায়মাকে আজকাল দেখছি না যে! তার কোনো অসুখ-বিসুখ হয় নি তো?”
একজন বললো, ‘আমাদেরও তো একই জিজ্ঞাসা। হয়তো দূরের কোনো সফরে গেছেন।’
একটু নীরবতার পর আরেকজন বললো, ‘আমি যদূর জানি- শহরেই আছেন তিনি। তবে মানুষের প্রতি অভিমান করে প্রতীজ্ঞা করেছেন, ঘরের দরোজা খুলে আর কখনো তিনি মানুষের সমাজে বের হবেন না!’
‘কেনো কেনো?!’ শাসনকর্তা যেমন অবাক হলেন তেমনি উদ্বিগ্ন হলেন।
লোকটি তখন শাসনকর্তাকে সব খুলে বললো। সব শুনে শাসনকর্তা বললেন, ‘তার সাহায্যে কেউ-ই এগিয়ে আসে নি? শহরে কি ধনী মানুষ নেই?!’
‘হুজুর! আল্লাহর কী লীলা! ধন আছে তো মন নেই, আবার মন আছে তো ধন নেই! আল্লাহ না করুন, আপনার জীবনে কখনো যদি দুঃসময় আসে, তাহলে দেখবেন- মানুষ ‘দিরহাম-দিনার’ নিয়ে আপনার সাহায্যে ছুটে আসবে, কিন্তু কখন? যখন তারা বুঝবে আবার আপনার ধন-জন হবে এবং তারা তাদের উপকারের বদলা পাবে। কিন্তু যদি টের পায় যে, আপনার ভাগ্যের সিতারা ডুবে যাচ্ছে এবং মাঝ দরিয়ায় আপনার যিন্দেগীর কিশতি কাত হয়ে গেছে তাহলে সবাই নিরাপদ দূরত্বে সরে যাবে। স্বার্থ ও মুনাফা চিন্তাই হলো এখন মানুষের বন্ধুত্বের বুনিয়াদ। শুধু আল্লাহকে ভালোবেসে নিঃস্বার্থভাবে কেউ আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না!’
‘তুমি ঠিক বলেছো।’ এই বলে শাসনকর্তা অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন। তাতে পরিষদের সবাই বেশ অবাক হলো। আর যারা ভেবেছিলো- এবার হয়তো খোযায়মার দুঃখের অবসান হবে, তারা বেশ হতাশ হলো।
একজন বললো, ‘আমাদেরও তো একই জিজ্ঞাসা। হয়তো দূরের কোনো সফরে গেছেন।’
একটু নীরবতার পর আরেকজন বললো, ‘আমি যদূর জানি- শহরেই আছেন তিনি। তবে মানুষের প্রতি অভিমান করে প্রতীজ্ঞা করেছেন, ঘরের দরোজা খুলে আর কখনো তিনি মানুষের সমাজে বের হবেন না!’
‘কেনো কেনো?!’ শাসনকর্তা যেমন অবাক হলেন তেমনি উদ্বিগ্ন হলেন।
লোকটি তখন শাসনকর্তাকে সব খুলে বললো। সব শুনে শাসনকর্তা বললেন, ‘তার সাহায্যে কেউ-ই এগিয়ে আসে নি? শহরে কি ধনী মানুষ নেই?!’
‘হুজুর! আল্লাহর কী লীলা! ধন আছে তো মন নেই, আবার মন আছে তো ধন নেই! আল্লাহ না করুন, আপনার জীবনে কখনো যদি দুঃসময় আসে, তাহলে দেখবেন- মানুষ ‘দিরহাম-দিনার’ নিয়ে আপনার সাহায্যে ছুটে আসবে, কিন্তু কখন? যখন তারা বুঝবে আবার আপনার ধন-জন হবে এবং তারা তাদের উপকারের বদলা পাবে। কিন্তু যদি টের পায় যে, আপনার ভাগ্যের সিতারা ডুবে যাচ্ছে এবং মাঝ দরিয়ায় আপনার যিন্দেগীর কিশতি কাত হয়ে গেছে তাহলে সবাই নিরাপদ দূরত্বে সরে যাবে। স্বার্থ ও মুনাফা চিন্তাই হলো এখন মানুষের বন্ধুত্বের বুনিয়াদ। শুধু আল্লাহকে ভালোবেসে নিঃস্বার্থভাবে কেউ আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না!’
‘তুমি ঠিক বলেছো।’ এই বলে শাসনকর্তা অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন। তাতে পরিষদের সবাই বেশ অবাক হলো। আর যারা ভেবেছিলো- এবার হয়তো খোযায়মার দুঃখের অবসান হবে, তারা বেশ হতাশ হলো।