hadith book logo

প্রত্যেক শীয়ার প্রতি আমার নসিহত

লেখকঃ শায়খ আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

তৃতীয় বাস্তবতা

শীয়াদের আকিদা: “শুধু আহলে বাইত ও তার অনুসারীগণ নবীদের আলামত অর্জন করেছেন, যেমন পাথর ও লাঠি, সাধারণ মুসলিমগণ নয়”।

দলিল: “আল-কাফি” গ্রন্থের লেখক কুলাইনি বলেছেন:

عن أبي بصير عن جعفر عليه السلام قال : خرج أمير المؤمنين عليه السلام في ليلة مظلمة وهو يقول : همهمة، همهمة، وليلة مظلمة، خرج عليكم الإمام عليه قميص آدم، وفي يده خاتم سليمان، وعصا موسى !!.

আবু বসির, জাফর আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিরুল মুমেনিন আলাইহিস সালাম এক অন্ধকার রাতে বের হন, তিনি বলতে ছিলেন: হামহামাহ, হামহামাহ [অর্থ: গুন্, গুন্] ও অন্ধকার রাত। তোমাদের ইমাম বের হয়েছেন, তার গায়ে রয়েছে আদমের কোর্তা, তার হাতে রয়েছে সুলাইমানের আংটি ও মুসার লাঠি”!। তিনি অন্যত্র বলেন:

عن أبي حمزة عن أبي عبد الله عليه السلام قال سمعته يقول ألواح موسى عندنا وعصا موسى عندنا، ونحن ورثة النبيين !!.

আবু হামযাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি: “মুসার কিতাব আমাদের নিকট, মুসার লাঠি আমাদের নিকট এবং আমরা নবীদের ওয়ারিশ”!! দেখুন: “আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ, (পৃ.২২৭)

হে শীয়া, এ বিশ্বাস তোমাকে কয়েকটি বিষয় স্বীকার করতে বাধ্য করে, যা একেবারেই ভ্রান্ত ও বাতিল, যদি বিবেকি হও তা থেকে তুমি নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করতে পার না, বা তা অস্বীকার করার সুযোগ তোমার নেই, যেমন:

১. আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা, কারণ তিনি বলেছেন: যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে ও আহলে বাইতকে কোন বিষয়ে খাস করেছেন? তিনি বলেন: না, তবে আমার তলোয়ারের খাপে যা রয়েছে তা ব্যতীত, অতঃপর তিনি সেখান থেকে একটি সহিফা বের করেন, তাতে চারটি বিষয় লেখা ছিল, আহলে হাদিস যেমন বুখারি ও মুসলিম প্রমুখগণ তা উল্লেখ করেছেন ।

২. অথবা আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা আলি বলেননি মর্মে তার ওপর মিথ্যারোপ করা।

৩. প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বাস ধারণকারী নিজের সাথে হঠকারীকারী, বরং এটা তার বোকামি, নির্বুদ্ধিতা ও নিজের প্রতি অসম্মান বোধের অকাট্য প্রমাণ, কারণ যদি তাকে বলা হয়: কোথায় সে আঙটি, কোথায় সে লাঠি? তাহলে উত্তর প্রদানে হতভম্ব হয়ে যাবে সে, কখনো সে লাঠি বা আঙটি বের করতে পারবে না। এ থেকে প্রমাণ হয় ঘটনাটি আদ্যোপান্ত মিথ্যা রচনা। এখানে আরো প্রশ্ন ওঠে যে, বিষয়টি যদি এমনি হয় তাহলে আহলে বায়েত কেন শত্রুদের দমন ও নিঃশেষ করার জন্য সে লাঠি ও আঙটির ব্যবহার করে না, অথচ ইতিপূর্বে তারা অনেক কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে?!

৪. এসব আকিদার মূল উদ্দেশ্য শীয়াদের হিদায়েত ও সাধারণ মুসলিমদের গোমরাহি প্রমাণ করে শীয়া মাযহাব প্রতিষ্ঠা করা, কারণ মুসলিম উম্মাহ থেকে তার অস্তিত্ব একেবারে বিচ্ছিন্ন ও আলাদা। এভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের ধ্বংসকামী ষড়যন্ত্রকারী শীয়া নেতৃবর্গ ও তাদের অনুসারীরা নিজেদের হীন আশা পূরণ করতে চায়। যদি এ বিশ্বাস দ্বারা শীয়াদের এটাই উদ্দেশ্য হয় তাহলে এটা খুব খারাপ উদ্দেশ্য, এ বিশ্বাস পোষণকারী খুব খারাপ, এ বিশ্বাসের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপনকারীও খারাপ।