hadith book logo

অন্তর বিধ্বংসী বিষয় দুনিয়ার মহব্বত

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

আঠার. খারাপ পরিণতি

হাফেয আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক ইবন আব্দুর রহমান আল-আসবিলী রহ. বলেন, খারাপ পরিণতির (মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তা হতে রক্ষা করুক) একাধিক কারণ ও মাধ্যম আছে। খারাপ পরিণতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো, দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া, অধিক লোভ করা এবং শুধুমাত্র দুনিয়ার অনুসন্ধানে আত্মনিয়োগ করা; আখিরাত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা ও আখিরাতের কল্যাণের প্রতি কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করা। একটি কথা মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাফরমানি ও গুনাহের দুঃসাহস মানুষকে খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও অনেক সময় দেখা যায়, মানুষের মধ্যে এক ধরনের গুনাহ প্রাধান্য বিস্তার করে, ফলে সে সত্যকে অস্বীকার করতে ঔদ্ধত্য হয়। আবার একধরনের মানুষ আছে তার মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে তার সাহস অতিরিক্ত হয়ে থাকে, তখন অতিরিক্ত সাহসের কারণে সে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তার অন্তর বা আত্মা নিয়ন্ত্রণ হারা হয়, জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পায় এবং তার অন্তর থেকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নুর নিবে যায়। তখন তার নিকট তাকে তার এ করুণ পরিণতি হতে বাঁচানোর জন্য উপদেষ্টা বা বার্তাবাহক পাঠানো হয়। কিন্তু তার উপদেশ, আদেশ নিষেধ তার কোনো উপকারে আসে না এবং ওয়াজ নছিহত কোনো কাজে লাগে না। অনেক সময় এমন হয়, লোকটি এ করুণ অবস্থায় মারা যায়। তখন সে অনেক দুর থেকে একজন আহ্বানকারীর আহ্বান শুনতে পায়, যে তাকে ডেকে বলে এখন তোমার কি হবে? তোমাকে কত শত শত বার সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু তুমি আমাদের কথায় কর্ণপাত কর নি। এখন তার নিকট আহ্বানকারী কি বলে তার অর্থ স্পষ্ট হয় না, সে কি চায় তা এখন আর কেউ জানতে পারে না। যদিও আহ্বানকারী বার বার আহ্বান করে এবং পুনরায় ডাকতে থাকে।