১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় দুনিয়ার মহব্বত
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৩
ছয়. সত্যিকার মজার কারণ লাভের জন্য ব্যস্ত হওয়া অনর্থক কোনো লাভের দিকে না তাকানো
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রহ. বলেন, “দুনিয়াতে সবচেয়ে মজা ও উপভোগ্য বস্তু হলো মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মারেফাত লাভ ও তার মহব্বতের মজা; এর চেয়ে অধিক মজা বা স্বাদ আর কোনো কিছুতে হতে পারে না। কারণ, এটাই হলো দুনিয়ার আসল মজা ও সর্বোচ্চ নি‘আমত। এ ছাড়া দুনিয়াতে আর যে সব ক্ষণস্থায়ী ও সাময়িক উপভোগ্য রয়েছে, তা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো; যার কোনো স্থায়িত্ব নেই। মানবাত্মা, দেহ ও অন্তরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভালোবাসা ও তার মহব্বতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই দুনিয়াতে সব চেয়ে উত্তম জিনিস হলো, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহব্বত ও তার মারেফাত হাসিল করা। আর জান্নাতে সবচেয়ে উপভোগ্য ও মজাদার বস্তু হলো মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দিদার ও তার সাথে সাক্ষাত ও তাকে স্বচক্ষে দেখা। সুতরাং বলা যায় যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহব্বত ও তার মারেফাত লাভ করা চক্ষুর শীতলতা আত্মার প্রশান্তি ও অন্তরের তৃপ্তিদায়ক। আর দুনিয়ার নি‘আমত ও আনন্দ হলো, ক্ষণস্থায়ী ও সাময়িক। আজকে যারা আনন্দ উপভোগ করছে বা শান্তিতে আছে আগামী দিন তারা এ শান্তিতে থাকতে পারবে না; তার শান্তি অশান্তিতে পরিণত হবে এবং তার খুশি দুঃখে পরিণত হবে। অবশেষে লোকটি এক অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে কালাতিপাত করবে। সুতরাং মনে রাখতে হবে আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে কখনোই হায়াতে তাইয়্যেবার চিন্তা করা যায় না। অনেক আল্লাহ প্রেমিক সময় সময় বলতেন, আমরা যে শান্তিতে আছি জান্নাতীরা যদি এ ধরনের শান্তিতে থাকে তাহলে অবশ্যই বলতে হবে তারা কতনা শান্তিতে আছে। অপর এক আল্লাহ প্রেমিক বলেন, আমরা যে শান্তিতে আছি, তা যদি রাজা-বাদশাহ ও তাদের সন্তানেরা জানত, তাহলে আমাদের এ শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য তারা আমাদের সাথে তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করত [আল-জাওয়াবুল কাফী ১৬৮]।