hadith book logo

স্বনির্ভরতা অর্জনে ইসলাম একটি পর্যালোচনা

লেখকঃ ড. হুসাইন আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

বায়তুল মাল

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বায়তুল মালও প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠিত বায়তুল জনকল্যাণ এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ সংক্রান্ত কাজ করত। [. সাইয়্যেদ হাসান মুসান্না নদভী, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা, ইফাবা, ঢাকা, খৃ. ১৯৮৩, পৃ.- ৩০।] যা দারিদ্র বিমোচন করে স্বনির্ভরতা অর্জনে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখে।

বর্তমান বিরাজিত অর্থব্যবস্থা যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষে নানা নামে ও চটকদার শ্লোগানে গড়ে উঠেছে এন.জি.ও বিভিণ্ণ প্রকার সাহায্য সংস্থা। যারা দুঃস্থ, অভাবী, অসহায় মানুষকে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে সুদের উপর ঋণ প্রদান করছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের পরিবর্তে পরনির্ভরশীলতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ইসলাম স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে যে বাস্তব শিক্ষা ও দিক নির্দেশনা প্রদান করেছে, যা অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করলে দরিদ্র অভাবীও অসহায় মানুষ অতি সহজে স্বনির্ভর জীবন যাপন করতে পারে। মূলত ইসলাম রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রাধীন ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠা, সুদ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে রহিত করণ, যাকাত ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক, মীরাসী আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে। পুঁজিকে উৎপাদন ক্ষেত্রে কাজে না লাগায়ে অসল ফেলে রাখা, কর্মক্ষম ব্যক্তি কর্মহীন সময় কাটানোর বিরোধীতা করছে, অপব্যয় নিষেধও মিতবায়ী হতে উৎসাহদান, পতিত জমি আবাদের ব্যবস্থা, দানশীলতা, ভিক্ষুকের হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করার মধ্যে দিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনের দিক নির্দেশনা প্রদান করছে। এ ক্ষেত্রে জাতিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সর্বস্তরের মানুষের এ সংক্রান্ত ইসলামী শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। ‘‘স্বনির্ভরতা অর্জনে ইসলামঃ একটি পর্যালোচনা’’ শীর্ষক প্রবন্ধে এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে । মানব কল্যাণে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস সামান্যতম কাজে লাগলে ও আমার শ্রম স্বার্থক হবে। আমিন