hadith book logo

রোজাদার বোনদের প্রতি

লেখকঃ আব্দুল মালেক আল কাসেম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, সুন্দর আচরণ ও তাদের খেদমত করা আমাদের উপর অপরিহার্য দায়িত্ব হিসাবে স্থির করেছেন। তিনি বলেন:

﴿ فَلاَ تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا ﴾ [ الإسراء :23].

তবে তাদেরকে উফ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। (সূরা আল ইসরা, আয়াত ২৩)

তিনি আরো বলেন:

﴿ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ ﴾ [ الإسراء :24].

আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও। (সূরা আল ইসরা, আয়াত ২৪)

আল্লাহর পথে জিহাদ যুদ্ধ করা একটি শ্রেষ্ঠ আমল। এতে রয়েছে অত্যন্ত কষ্ট ও জীবনের ঝুকি। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জিহাদে যোগদানের অনুমতি চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত? সে বলল, হ্যা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তাদের মধ্যে জিহাদ করো। অর্থাৎ তাদের সেবা-যত্ন করা তোমার জন্য একটি জিহাদ। (বর্ণনায় : বুখারী)

মাতা-পিতার প্রতি করুণা করা, তাদের দয়া ভালবাসার সাথে আদর যত্ন করা, তাদের আনুগত্য করা, তাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করা, তাদের উপহার দেয়া, তাদের খুশী করা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য আদায় করতে পারি। মনে রাখতে হবে মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা শ্রেষ্ঠ নেক আমলের মধ্য গণ্য।

যেমন হাদীসে এসেছে :

عن ابن مسعود - رضي الله عنه - قال : سألت رسول الله - صلى الله عليه وسلم -: أي الأعمال أحب إلى الله ؟ قال : { الصلاة على وقتها } . . قلت : ثم أي ؟ . . قال : { بر الوالدين } قلت : ثم أي ؟ قال : { الجهاد في سبيل } [ متفق عليه ].

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াক্ত মত নামাজ আদায় করা। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

হে বোন! আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন! আপনি সর্বদা আপনার মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করবেন। তারা জীবিত থাক বা মৃত। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। তাদের পক্ষে দান ছদকা করবেন। হয়ত আল্লাহ দয়াময় আপনার মাতা-পিতাকে ক্ষমা করে দেবেন।

পবিত্র এ মাসে অন্যান্য আত্নীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক সুন্দর করুন। তাদের প্রতি যে দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে সেগুলো আদায়ে যত্নবান হোন। তবে অযথা গল্প-গুজব, পরদোষ চর্চা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।