hadith book logo

যিকিরের তাৎপর্য ও ফযীলত

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

যিকরের চিত্র: যিকর দুই ভাবে করা যায়:

এক- মনে মনে যিকর: অর্থাৎ মনে মনে বা কলবের মধ্যে আল্লাহকে সর্বদায় স্মরণ করা। তিনি কি করতে আদেশ করেছেন, কি করতে নিষেধ করেছন তা সারাক্ষণ খেয়াল করা। তার কোন বিধান থেকে উদাসীন বা গাফেল না থাকা। কোন্‌ কাজ করলে তিনি খুশি হবেন আর কোন্‌ কাজ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হবেন সদা সোচ্চার থাকা। যে কাজই করিনা কেন তিনি সবই দেখছেন। একদিন তার সামনে দাড়িয়ে সারা জীবনের হিসেব পেশ করতে হবে। তিনি সন্তুষ্ট হলে জান্নাত দান করবেন আর অসন্তষ্ট হলে জাহান্নামের লেলিহান শিখায় জলতে হবে অনন্তকাল ধরে। এই অনুভূতি সমগ্র হৃদয় জুড়ে হামেশাই সজাগ রাখতে হবে। প্রতি নিয়ত তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে। ভুলা যাবেনা ক্ষণিকের জন্যও । এটিই হল কলবের যিকর। এই যিকর হতে মুহূর্তের জন্য গাফেল হলেই যে কোন মুহূর্তে পদস্খলন অনিবার্য।

বিষয়টি বুঝার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যায়। ধরুন আপনি একলক্ষ টাকা সাথে নিয়ে বাজারে গিয়েছেন। সে টাকার কথা আপনি কেমন খেয়াল রাখবেন? মুহূর্তের জন্যও কি তা ভুলবেন? অবশ্যই নয়। কারণ আপনি ভাল করেই ঈমান রাখেন বা বিশ্বাস করেন যে, বে-খেয়াল হলেই যেকোনো মুহূর্তে সর্বনাস হয়ে যেতে পারে। এজন্য আপনি সাপ খেলা, বানর খেলা, ক্রিকেট খেলা কিংবা রাস্তায় দাড়িয়ে টেলিভিশনে কোন অনুষ্ঠান অবশ্যই দেখবেন না। এটা হল টাকার যিকর। এর চাইতে অধিক গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর যিকর করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহকে স্মরণ রাখতে হবে এবং খুব চৌকান্না থাকতে হবে। কারণ আপনাকে আল্লাহ থেকে উদাসীন করার জন্য ইবলিস আপনার ডানে বামে, সামনে পেছনে, হাটে বাজারে, মাঠে ঘাটে, বাড়িতে গাড়িতে, বন্ধুর নিকটে এমনকি আপনার রক্ত কণিকার মধ্যেও ভয়ংকর ফাঁদ পেতে রেখেছে। শয়তান বলেছে:

لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ

ثُمَّ لَآَتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ

অর্থ: (হে আল্লাহ) তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য আমি অবশ্যই অবশ্যই তোমার সরল পথে ও(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেতে বসে থাকব; তারপর তাদের সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান দিক থেকে,বাম দিক থেকে (চতুর্দিক থেকে)তাদের নিকট আসব (এবং তাদেরকে বিভ্রান্ত করব) আর তুমি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেনা। (সূরা আরাফ/১৬,১৭)

সমগ্র হৃদয় জুড়ে আল্লাহর স্মরণ ও যিকরকে উত্তম রূপে আবাদ রাখতে পারলে আল্লাহই আপনাকে হেফাজত করবেন শয়তানের সমস্ত ষড়যন্ত্র ও অনিষ্ট থেকে।

দুই-আমল বা কাজের মাধ্যমে যিকর: যেমন, তার প্রশংসা করা, গোপনে বা প্রকাশ্যে তার কাছে কিছু আবেদন-নিবেদন করা। তিনি আপনার কাছে যা-যা চান তা যত্ন সহকারে আদায় করে দেয়া। তিনি যেগুলো পছন্দ করেন সে গুলো আপনারও পছন্দের বিষয়ের তালিকায় স্থান পাওয়া। তিনি যা অপছন্দ করেন তা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি। অন্য ভাবে বলা যায়:আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুসরণের মাধ্যমে প্রমাণ রাখা যে প্রভু ! তোমাকে ভুলিনি, কখনই ভুলব না।