hadith book logo

তারাবীহ্‌ সালাতের রাকা‘আত একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

লেখকঃ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

তারাবীহ্ এর অর্থ ও নামকরণের তাৎপর্য

‘তারাবীহ্’ শব্দটি বহুবচন, একবচনে ‘তারওয়ীহাতুন’ ‘‘ ترويحة ’’ মূলে শব্দটি মাসদার। [কসেম ইবন্ আবদুল্লাহ ইবন্ আমীর আলী আল কুনুনী, আনিসুল ফুকাহা ফী তা’রিফাতিল আলফামিল মুতাদাওয়ালাহ বাইনাল ফুকাহা ( জিদ্দা: দারুল ওফা, প্রথম সংস্করণ ১৪০৬) তাহকীক : ড. আহমদ ইবন্ আবদুর রাজ্জাক আল কাবীসী, পৃ. ১০৭।] কেউ কেউ বলে মূলত: তারবীহা ترويحة বৈঠক বা বসাকে বুঝায়। [প্রাগুক্ত পৃ. ১০৭।]

ইবনুল আসীর বলেন, تراويح শব্দটি ترويحة এর বহুবচন। আর এটি راحة থেকে تفعيلة ওযনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন تسليمة শব্দটি سلام থেকে এসেছে। [আবু সা’আদাত মুবারক ইবন্ মুহাম্মদ আল জাযরী, আন নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল ‘আছার’, বৈরুত: আল মাকতাবুল ইলমিয়াহ, ১৩৯৯ হিজরী, ১৯৭৯ খ্রি.) তাহকীক: তাহের আহমদ আযযাওয়ী, মাহমুদ মুহাম্মদ আত্ তানাহী (২/৬৫৮) আয্-যাবীদী, তাজুল উরুস (বেনগাজী: দারু লিবিয়া, তা. বি) খ.১ পৃ.১৬০৪।]

পরিভাষায়, এটি এমন এক সালাত যা রমযান মাসে ইশার সালাতের পর পড়া হয়। [সা‘দী আবু যাইব, আল কামুসূল ফিকহী ( বৈরুত; দারুল ফিকর, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৮ হি. ঈৃ. ১৫৫।]

অথবা বলা হয়: রমযান মাসে দু’ দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করা, যার রাকা‘আত সংখ্যা সম্পর্কে ফকীহগণের মতভেদ রয়েছে এবং অন্যান্য মাসআলা সম্পর্কেও। [আল মাওসুয়াতিল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা (কুয়েত: ওযারাতুশ শুইনিল ইসলামীয়্যাহ ওয়াল আওকাফ) মাদ্দাহ: صلاة التراويح ২৭ খণ্ড, পৃ. ১০২।]

মূলত একে তারাবীহ্‌ বলা হয়, যেহেতু এর দ্বারা শান্তি বা প্রশান্তি চাওয়া হয়। কেননা চার রাকা‘আত সালাতের পর মুসল্লিগণ বিশ্রাম নেন। [আনিসুল ফুকাহা, পৃ. ১০৭।.] অথবা প্রত্যেক দু’ রাকা‘আত পর। [ইবনুল আসীর, আন নিহায়াহ ফি গারীবিল হাদীস, খ. ২য়, পৃ. ৬৫৮।] ফাইয়্যুমী বলেনঃ বিশ্রাম কষ্ট ও ক্লান্তিকে দূর করে— আর তারাবীহ্‌র সালাত راحة থেকে নির্গত হয়েছে, কেননা, এক ترويحة চার রাকা‘আতে। আর মুসল্লিগণ চার রাকা‘আত পর বিশ্রাম নেন। [আহমদ ইবন্ মুহাম্মদ ইবন্ আলী আল মাকরী আল ফুয়ুমী, আল মিসবাহুল মুনীর বৈরূত: আল মাকাতাবাতুল ইলমিয়্যাহ,) পৃ. ২১৪।] বলা হয়ে থাকে, এ সালাতটি দীর্ঘ এবং এতে প্রত্যেক চার রাকা‘আত পর মুসল্লিগণ বিশ্রাম নেয় বিধায় একে তারাবীহ্‌ বলা হয় । [আল মাওসুয়াতিল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়া,( ২৭/১০২)।]