hadith book logo

তারাবীহ্‌ সালাতের রাকা‘আত একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

লেখকঃ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

হাদীসে মারফু:

ইবন আবি শাইবা তার মুসান্নাফে [. দারুত-তাজ, তাকদীম ওয়া যবত, কামাল ইউসুফ আল-হুত, প্রথম সংস্করণ ১৪০৯ হি.(বৈরুত: লেবানন) (২/৩৯৪)।] উল্লেখ করেছেন, আর তাবারানী তার মু‘জামে কাবীরে [. সুলাইমান ইবন আইয়াব আবুল কাসিম আত-তিবরানী, আল-মু‘জামুল-কাবীর (মু‘সেল, মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হেকাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হি. ১৯৮৩ খী্.) তাহকীক: হামদ ইবন আবদুল মাজীদ আস-সালাফী, ১১/৩৯৩)], সাগীরে, [(১/৪৪৪) দেখুন, মাজমাউয যাওয়ায়েদ (৩/১৭২)।] তার থেকে বায়হাকী তার সুনানে কুবরাতে, [মুসনাদু আবদ ইবন হামীদ ইবন্ নাসর আবু মুহাম্মদ আল কিসী, (২/৪৯৬)।] আবদ ইবন হুমাইদ ‘‘মুন্তাখাবে’’ [আবদ ইবন হামীদ ইবন নসর আবু মুহাম্মদ আল কিসী, আল মুন্তাখাব মিনাল মুসনাদ, মাকতাবাতুস সুন্নাহ (কায়রো, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৮-১৯৮৮ খ্রি.) তাহকীক: সুবহী আল বাদরী আস্ সামরাই, মাহমুদ মুহাম্মদ খলীল আস-সাঈদী, পৃ. (২১৮)।] — সকলেই ইবরাহিম ইবন উসমান আবু শাইবা থেকে তিনি আল-হিকাম হতে, তিনি মুকসিম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে বিশ রাকা‘আত তারাবিহর সালাত ও বিতরের সালাত আদায় করতেন।

যাইলা‘ঈ বলেন, বর্ণনাটি ইমাম আবু বকর ইবন আবু শাইবার দাদা আবু শাইবা ইবরাহিম ইবন উসমানের কারণে মা‘লূল বা ত্রুটিযুক্ত। তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত। এছাড়াও তার বর্ণিত হাদীসটি সহীহ হাদীসের বিপরীত যা আবু সালমাহ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত, নিশ্চয় তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি তাঁর (পূর্বোল্লেখিত) হাদীস বর্ণনা করেন। [. আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ আবু মুহাম্মদ আল-হানাফী আয-যাইলী, নাসবুর রায়িয়া ফী তাখরীজে আহাদিসিল হিদায়াহ, (দারুল হাদীস, মিশর, ১৩৫৭ হি.) তাহকীক: মুহাম্মদ ইউসুফ বিন -নূরী (৩/১৭২)।]

এ হাদীসের সব বর্ণনার মূলভিত্তি হলেন, আবু শাইবাহ ইবরাহীম ইবন উসমান আল-আবাসী আল-কূফী। আলেমগণের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। [. দেখুন, ইমাম বায়হাকী যা তার কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, (২/৪৯৬) ইবনুল হুম্মাম ফী শরহে ফাতহুল কাদীর, (১/৩২৩), যাহাবী তার মীযানুল ই‘তিদালে (১/৪৭)।] ইমাম বায়হাকী ও তাবারানী আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবু শাইবার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যাহাবী তাঁর মীযানুল ই‘তিদাল গ্রন্থে আবু শাইবাকে মুনকার বলেছেন। হাফিয ইবন হাজার আসকালানি যঈফ বলেছেন। আর অন্য কোনো সনদও তিনি পাননি। [. ফাতহুল বারী (৪/২৫৪)।]