hadith book logo

কালেমা শাহাদাত

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ

‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ: মৌখিকভাবে স্বীকৃতির সাথে সাথে অন্তরে অবিচল, অটল ও অগাধ বিশ্বাস রাখা যে, তাদের নিকট আল্লাহর রিসালত বা বাণী পৌঁছানোর জন্য মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ দায়িত্বপ্রাপ্ত রাসূল। আল্লাহ বলেন,

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا﴾ [ الاعراف : ١٥٨ ]

“বলে দিন, হে সকল মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮] অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

﴿مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ﴾ [ الفتح : ٢٩ ]

“মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।” [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯] অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

﴿تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا ١﴾ [ الفرقان : ١ ]

“কতই না বরকতময় তিনি, যিনি তার বান্দার প্রতি ফুরক্বান (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি সৃষ্টিকুলের সকলের জন্যে সতর্ককারী হন।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১]

‘আল্লাহ তা‘আলা তাকে শির্কসহ সমস্ত অপছন্দ-পরিত্যাজ্য কার্যকলাপ থেকে ভীতি প্রর্দশনকারী, নির্ভেজাল তাওহীদসহ সমস্ত পছন্দনীয়-গ্রহণীয় কার্যকলাপের দিকে আহ্বানকারীরূপে প্রেরণ করেছেন।’ আল্লাহ বলেন,

﴿قُمۡ فَأَنذِرۡ ٢ وَرَبَّكَ فَكَبِّرۡ ٣﴾ [ المدثر : ٢، ٣ ]

“উঠুন সতর্ক করুন, আপন রবের মহত্ব ঘোষণা করুন।” [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ২-৩]

অর্থাৎ তাদেরকে শির্ক থেকে এবং মূর্তিপূজা থেকে ও আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ সকল জিনিস থেকে ভীতিপ্রর্দশন করুন। তাওহীদ ও আল্লাহর অনুমোদিত বিধান মতে তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করুন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗاۚ﴾ [ فاطر : ٢٤ ]

“আমরা আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ২৪]

অর্থাৎ আমি তাকে তওহীদ, আনুগত্য ও অধিক সাওয়াবের সুসংবাদদানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি, সাথে সাথে শির্ক, গুনাহ ও কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শকও করেছি। অধিকন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাকে শুধু পৌঁছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এখানেই যথেষ্ট করতে বলেছেন। এর পর কে মানলো আর কে মানলো না এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُۥۚ﴾ [ المائ‍دة : ٦٧ ]

“হে রাসূল, পৌঁছে দিন আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম পৌঁছালেন না।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬৭] অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَّا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلۡبَلَٰغُۗ﴾ [ المائ‍دة : ٩٩ ]

“রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৯৯]

তিনি আমৃত্যু তার ওপর প্রেরিত অহী সংযোজন-বিয়োজন ব্যতীত হুবহু আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। যা আদিষ্ট হয়েছেন তা পঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করেছেন। উম্মতের কল্যাণ কামনার সর্বশেষ উদাহরণটুকু পেশ করেছেন। এ জন্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেছেন:

«مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ، فَقَدْ كَذَبَ ولو كان كاتما شيئا لكتم عبس وتولى . لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ» .

“যদি কেউ তোমাকে বলে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ যা অহী হিসেবে নাযিল করেছেন তার কিয়দংশ গোপন করেছেন, সে মিথ্যুক। কারণ, যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো জিনিস গোপন করতেন, তাহলে অবশ্যই অত্র আয়াত দু’টি গোপন করতেন:

(১) عَبَسَ وَتَوَلَّى “তিনি ভ্রু-কুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।” [সূরা আবাসা, আয়াত: ১]

(২) لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ “এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নেই।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১২৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে যা পৌঁছিয়েছেন তাই সর্ম্পূণ দীন। কোনো ধরনের কমতি রাখেন নি, যেখানে সংযোজন প্রয়োজন হবে। কোনো ধরনের জটিলতা রাখেন নি, যা দূরীভূত করতে হবে। আবার এমন সংক্ষিপ্ত করেন নি, যেখানে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ﴾ [ المائ‍دة : ٣ ]

“আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩] অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ﴾ [ النحل : ٨٩ ]

“আর আমরা আপনার প্রতি নাযিল করেছি এমন কিতাব যাতে রয়েছে প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯]

অতএব, কোনো ব্যক্তির এতে সংযোজন বিয়োজন বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ ঘোষণা শুনার পর যদি কেউ তাতে কোনো রকম পরিবর্তন করে, তবে পরিবর্তনকারীর ওপর এর পাপ বর্তাবে। আল্লাহ তাকে সময় মত পাকড়াও করবেন।