১
কালেমা শাহাদাত
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
উম্মতের ওপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় অধিকার:
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত অবশ্য কর্তব্য, অতীব আবশ্যক। ধন-সম্পদ, নিজের জীবন, পিতা-মাতা, সন্তান, পরিবার-পরিজন ও সমস্ত মানুষের মহব্বতের ওপর তার মহব্বতকে অগ্রাধিকার দেওয়া ঈমানী দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لايؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من أهله وماله والناس أجمعين» .
“ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তার নিকট পরিবার-পরিজন, সম্পদ ও সমস্ত মানুষ হতে অধিক প্রিয় না হবো।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪।]
২. তার ওপর দুরুদ ও সালাম পাঠ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦﴾ [ الاحزاب : ٥٦ ]
‘আল্লাহ তা‘আলা ও তার ফিরিশতাগণ নবীর ওপর সালাত পেশ করে। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর ওপর সালাত পেশ কর এবং তার প্রতি যথাযথ সালাম পেশ কর।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]
৩. তার কল্যাণ কামনা করা। অর্থাৎ তাঁর সুন্নাত ও শরী‘আতের হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, যাতে এর ভিতর কোনো ধরনের সংযোজন-বিয়োজন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না হতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قُلْنَا : لِمَنْ؟ قَالَ : «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ»
“দীন কল্যাণ কামনার নাম: তিনবার বলেছেন, আমরা প্রশ্ন করলাম: কার জন্য কল্যাণ কামনা হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তার কিতাবের জন্য, তার রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ঈমামদের জন্য এবং সমস্ত মানুষের জন্য।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫; সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ৪১৯৭, ৪১৯৮।]
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত তথা-পরিবার পরিজনের ব্যাপারে তার উপদেশ যথাযথ পালন করা। আহলে বাইত অর্থাৎ হাশেম ও আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ।
মুসলিম মাত্রই তাঁর বংশধরের পবিত্রতা এবং রাসূলের সাথে নৈকট্যতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিবে। অর্থাৎ তাদের অভাব মোচন করবে, মহব্বত করবে, তাদের সম্মান রক্ষা করবে। যেহেতু গাদিরে খুম-এর দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে বলেছেন:
«أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي» .
“আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪০৮।]
৫. তাঁর সাহাবীগণকে মহাব্বত করা এবং তাদের বিশ্বস্ততার ওপর আস্থা রাখা:
প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে মহব্বত করা। তাদের বিশ্বস্ততার ওপর আস্থা রাখা। তাদের সকলের শ্রেষ্টত্বের ঘোষণা দেওয়া। তাদের মাঝে সংঘটিত হয়ে যাওয়া বিরোধ নিয়ে সামালোচনা থেকে বিরত থাকা। তাদের নামের সাথে ‘রাদিয়াল্লাহু আনহুম’ বলা। তাদের ব্যাপারে অন্তর পরিচ্ছন্ন রাখা। তাদের কারো প্রতি বিদ্বেষ না রাখা। তাদের অপবাদ, গালি, কুৎসা রটনা ইত্যাদি থেকে নিজের মুখ নিরাপদ রাখা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنْفَقَ أَحَدُكُمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ»
“তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালি দিও না। যার হাতে আমার জান তার শপথ করে বলছি: তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করলেও তা তাদের এক অঞ্জলী বা তার অর্ধেক দানের সমানও হবে না।” [সুনান আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৪৬৫৮।]
সমাপ্ত
«لايؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من أهله وماله والناس أجمعين» .
“ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তার নিকট পরিবার-পরিজন, সম্পদ ও সমস্ত মানুষ হতে অধিক প্রিয় না হবো।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪।]
২. তার ওপর দুরুদ ও সালাম পাঠ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦﴾ [ الاحزاب : ٥٦ ]
‘আল্লাহ তা‘আলা ও তার ফিরিশতাগণ নবীর ওপর সালাত পেশ করে। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর ওপর সালাত পেশ কর এবং তার প্রতি যথাযথ সালাম পেশ কর।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]
৩. তার কল্যাণ কামনা করা। অর্থাৎ তাঁর সুন্নাত ও শরী‘আতের হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, যাতে এর ভিতর কোনো ধরনের সংযোজন-বিয়োজন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না হতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قُلْنَا : لِمَنْ؟ قَالَ : «لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ»
“দীন কল্যাণ কামনার নাম: তিনবার বলেছেন, আমরা প্রশ্ন করলাম: কার জন্য কল্যাণ কামনা হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তার কিতাবের জন্য, তার রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ঈমামদের জন্য এবং সমস্ত মানুষের জন্য।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫; সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ৪১৯৭, ৪১৯৮।]
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত তথা-পরিবার পরিজনের ব্যাপারে তার উপদেশ যথাযথ পালন করা। আহলে বাইত অর্থাৎ হাশেম ও আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ।
মুসলিম মাত্রই তাঁর বংশধরের পবিত্রতা এবং রাসূলের সাথে নৈকট্যতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিবে। অর্থাৎ তাদের অভাব মোচন করবে, মহব্বত করবে, তাদের সম্মান রক্ষা করবে। যেহেতু গাদিরে খুম-এর দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে বলেছেন:
«أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي» .
“আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪০৮।]
৫. তাঁর সাহাবীগণকে মহাব্বত করা এবং তাদের বিশ্বস্ততার ওপর আস্থা রাখা:
প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে মহব্বত করা। তাদের বিশ্বস্ততার ওপর আস্থা রাখা। তাদের সকলের শ্রেষ্টত্বের ঘোষণা দেওয়া। তাদের মাঝে সংঘটিত হয়ে যাওয়া বিরোধ নিয়ে সামালোচনা থেকে বিরত থাকা। তাদের নামের সাথে ‘রাদিয়াল্লাহু আনহুম’ বলা। তাদের ব্যাপারে অন্তর পরিচ্ছন্ন রাখা। তাদের কারো প্রতি বিদ্বেষ না রাখা। তাদের অপবাদ, গালি, কুৎসা রটনা ইত্যাদি থেকে নিজের মুখ নিরাপদ রাখা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنْفَقَ أَحَدُكُمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ»
“তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালি দিও না। যার হাতে আমার জান তার শপথ করে বলছি: তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করলেও তা তাদের এক অঞ্জলী বা তার অর্ধেক দানের সমানও হবে না।” [সুনান আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৪৬৫৮।]
সমাপ্ত