hadith book logo

সহীহ হাদীসে কুদসী

লেখকঃ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

﴿وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ﴾ আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের ‎অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে ‎বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন”

৩. ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত,

3 - «لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : ﴿وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُ﴾، قَالَ : دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ لَمْ يَدْخُلْ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَسَلَّمْنَا» قَالَ : فَأَلْقَى اللَّهُ الْإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ﴾ «قَالَ : قَدْ فَعَلْتُ» ﴿رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ﴾ «قَالَ : قَدْ فَعَلْتُ» ﴿وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا﴾ [ البقرة : ٢٨٦ ] «قَالَ : قَدْ فَعَلْتُ»

“যখন ﴿وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ﴾ “আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের ‎ অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে ‎ বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] ‎ এ আয়াত নাযিল হলো, তখন ইবন আব্বাস বলেন, তখন তাদের (সাহাবীদের) অন্তরে কিছু প্রবেশ করল যা পূর্বে তাদের অন্তরে প্রবেশ করে নি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমরা বল: শুনেছি, আনুগত্য করেছি ও মেনে নিয়েছি”। তিনি বলেন: ফলে আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন এবং তিনি নাযিল করলেন: ﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ﴾ “আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে ‎‎ দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার ‎ জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ‎ ওপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা ‎ যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে ‎ আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ বলেছেন: আমি কবুল করেছি”। ﴿وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ﴾ “হে ‎ আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে ‎‎ দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ‎ চাপিয়ে দিয়েছেন”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ বলেছেন: আমি কবুল করেছি”। ﴿وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا﴾ “আর আপনি আমাদেরকে ‎‎ ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। ‎ আপনি আমাদের অভিভাবক”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ বলেছেন: আমি কবুল করেছি”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] (সহীহ মুসলিম), হাদীসটি সহীহ।

৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

4 - «لَمَّا نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ﴿لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ٢٨٤﴾ [ البقرة : ٢٨٤ ] قَالَ : فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ بَرَكُوا عَلَى الرُّكَبِ فَقَالُوا : أَيْ رَسُولَ اللَّهِ؟ كُلِّفْنَا مِنْ الْأَعْمَالِ مَا نُطِيقُ الصَّلَاةَ وَالصِّيَامَ وَالْجِهَادَ وَالصَّدَقَةَ وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْكَ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَا نُطِيقُهَا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : « أَتُرِيدُونَ أَنْ تَقُولُوا كَمَا قَالَ أَهْلُ الْكِتَابَيْنِ مِنْ قَبْلِكُمْ : سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا؟ بَلْ قُولُوا : ( سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ) قَالُوا : سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ، فَلَمَّا اقْتَرَأَهَا الْقَوْمُ ذَلَّتْ بِهَا أَلْسِنَتُهُمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِي إِثْرِهَا : ﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ ٢٨٥﴾ [ البقرة : ٢٨٥ ] فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ نَسَخَهَا اللَّهُ تَعَالَى، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : ﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ﴾ «قَالَ : نَعَمْ» ﴿رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ﴾ «قَالَ : نَعَمْ» ﴿رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ﴾

«قَالَ : نَعَمْ» ﴿وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ﴾ «قَال : نَعَمْ »

“যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হলো:

﴿لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ٢٨٤﴾ [ البقرة : ٢٨٤ ]

“আল্লাহর জন্যই যা রয়েছে আসমানসমূহে এবং ‎ যা রয়েছে যমীনে। আর তোমরা যদি প্রকাশ ‎ করো যা তোমাদের অন্তরে রয়েছে অথবা ‎‎ গোপন কর, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের ‎ হিসাব নেবেন। অতঃপর তিনি যাকে চান ক্ষমা ‎ করোবেন, আর যাকে চান আযাব দেবেন। আর ‎ আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৪] ‎ তিনি বলেন: এ আয়াত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীদের ওপর কঠিন ঠেকল, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল, অতঃপর হাঁটু গেড়ে বসল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল? আমাদেরকে কতক আমলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যা আমরা সাধ্য রাখি: সালাত, সিয়াম, জিহাদ ও সদকা; কিন্তু আপনার ওপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে অথচ আমরা তার সাধ্য রাখি না! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা কি সেরূপ বলতে চাও তোমাদের পূর্বে কিতাবওয়ালা দুটি দল (ইয়াহূদী ও নাসারারা) যেরূপ বলেছে: শুনলাম ও প্রত্যাখ্যান করলাম? বরং তোমরা বল: “আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের ‎ রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর ‎ আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল”। ‎ তারা বলল: আমরা শুনলাম, মেনে নিলাম, হে আমাদের রব আপনার ক্ষমা চাই, আপনার নিকটই আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। যখন সকলে তা পড়ল, তাদের জবান দ্বিধাহীন তা উচ্চারণ করল। আল্লাহ তা‘আলা তার পশ্চাতে নাযিল করলেন:

﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ ٢٨٥﴾ [ البقرة : ٢٨٥ ]

“রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে ‎ নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর ‎ মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ‎ ওপর, তাঁর ফিরিশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর ‎ রাসূলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের ‎ কারোও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা ‎ বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে ‎ আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা ‎ করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল”। [সূরা আলি-বাকারা, আয়াত : ১৮৫] যখন তারা এর ওপর আমল করল, আল্লাহ তা রহিত করলেন, অতঃপর নাযিল করলেন:

﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ﴾

“আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে ‎‎ দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার ‎ জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ‎ উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা ‎ যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে ‎ আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। তিনি বলেন: হ্যাঁ।

﴿رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ﴾

“হে ‎ আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে ‎‎ দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ‎ চাপিয়ে দিয়েছেন”। তিনি বলেন: হ্যাঁ।

﴿رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ﴾

“হে আমাদের রব, আপনি ‎ আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার ‎ সামর্থ্য আমাদের নেই”। তিনি বলেন: হ্যাঁ।

﴿وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ﴾

“আর আপনি ‎ আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ‎‎ ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। ‎ আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, আপনি ‎ কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ‎ সাহায্য করুন।‎ তিনি বলেন: হ্যাঁ।” (সহীহ মুসলিম) হাদীসটি সহীহ।