hadith book logo

বিশ্বমানবতার প্রতি বিশ্বনবীর শাশ্বত অবদান

লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

৪। নৈরাশ্য ও হতাশার বিতাড়ন:

তদানীন্তন মানুষ ছিল হতাশাগ্রস্ত, নৈরাশ্যে জর্জরিত। আল্লাহর রহমত পাওয়ার কোনো আশাবাদ মানুষ পোষণ করত না। মানব প্রকৃতির প্রতি ছিল তীব্র ঘৃণা ও অত্যন্ত খারাপ ধারণা। কোনো কোনো প্রাচীন ধর্মমতও মানুষের মনে এই হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টির ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। উপমহাদেশের মানুষের মনে জন্মান্তরবাদ প্রবলভাবে বাসা বেঁধেছিল, যা মানুষের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে চক্রাকারে চলতে থাকে; ছিল বৈরাগ্যবাদ, যা মানুষকে বানিয়েছিল দুনিয়াত্যাগী-ঘর সংসার বিরাগী।

পক্ষান্তরে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করছিল, মানুষ জন্মগতভাবেই মহাপাপী। ঈসা-মসীহই শূলবিদ্ধ হয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে পাপী মানুষের জন্য প্রায়শ্চিত্তের ব্যাবস্থা করে গেছেন। ফলে খ্রিস্টধর্মালম্বী কোটি কোটি মানুষ নিজেদের সম্পর্কে অত্যন্ত হীন ধারণা পোষণ করতে থাকে। নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো আশাবাদই খুঁজে পায় না তারা এবং নিজেদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে চির বঞ্চিত ধারণা করতে থাকে।

এ প্রেক্ষিতে বিশ্বনবী উদাত্ত কন্ঠে ঘোষণা করেন, মানুষের প্রকৃতি নির্মল ও পরিচ্ছন্ন দর্পনের ন্যায়। মানুষ স্বাধীন; নিজের ভালো-মন্দ যাই করবে তারই প্রতিফল লাভ করবে অনিবার্যভাবে।

এ ঘোষণার ফলে মানুষের মনে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদের আলো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠে। মানুষ বুঝতে পারে, ভুল মুর্খতার মধ্যে লিপ্ত হওয়ার কারণেই সে গুনাহ করে। অতীত গুনাহের ক্ষমা লাভের চিররুদ্ধ দুয়ার তার সম্মুখে উন্মুক্ত হয়ে যায়।