hadith book logo

বিশ্বমানবতার প্রতি বিশ্বনবীর শাশ্বত অবদান

লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

৫। দীন ও দুনিয়ার অভিন্নতা:

প্রাচীন কালের প্রায় সব কয়টি ধর্মমতই মানুষের জীবনকে দু’টি পরস্পর বিরোধী ধারায় বিভক্ত করে দিয়েছে। একটি তার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবন আর অপরটি তার বৈষয়িক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন। একটির সাথে অপরটির কোনো দূরতম সম্পর্ক আছে বলে মেনে নেওয়া হয় নি।

এরই ফলে দুনিয়ার মানুষ যে ধর্ম পালন করত, তার কোনো প্রভাব তার বৈষয়িক জীবন পরিবার, রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর স্বীকার করত না। এসব ক্ষেত্রে তারা ধর্মীয় প্রভাব মুক্ত নীতিতে কার্যাবলী পরিচালনা করত। সে ক্ষেত্রে তারা হত সম্পূর্ণরূপে ধর্মহীন। মানব সমাজেও এ বিভক্তি এমন পরিস্থিতির উদ্ভব করে, যার দরুন এক শ্রেণীর মানুষ হয় শুধু ধার্মিক আর অপর শ্রেণীর মানুষ হয়ে উঠে শুধু রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়ক। ধার্মিক লোকেরা শুধু ধর্ম কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকত। রাজনীতি তথা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে তাদের কোনো উৎসুক বা অংশীদারিত্ব ছিল না। ফলে ধর্ম নিছক ব্যক্তিগত ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। আর রাজনীতি ও রাষ্ট্র হয়েছিল ব্যক্তি বা শ্রেণীর স্বেচ্ছাচারিতার লীলাক্ষেত্র। অবশ্য উভয় ক্ষেত্রের প্রধানরা পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে কুন্ঠিত হত না।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সর্বপ্রথম উচ্চ কন্ঠে ঘোষণা করলেন: ধর্ম, জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো জিনিস নয়। আর একমাত্র ইসলামই যখন মানব জীবনের সকল প্রকারের প্রয়োজন পূর্ণ দক্ষতা সহকারে পুরণ করতে সক্ষম, তখন ইসলাম ভিন্ন অন্য কোনো ধর্মই মানুষের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বস্তুত বিশ্বনবী বিশ্বমানবের জন্য এক বিশ্বদীন উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বলোককে যেমন বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন মনে করা যায় না, তেমনি বিশ্বমানবের জন্য এক সর্বাত্মক দীনই প্রয়োজন। সে দীনের চরমতম লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ও তার সন্তুষ্টি অর্জন। কুরআন প্রত্যেকটি মানুষের জন্য এ ঘোষণা করে দিয়েছে,

﴿قُلۡ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحۡيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ١٦٢ لَا شَرِيكَ لَهُۥۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرۡتُ وَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ١٦٣﴾ [ الانعام : ١٦٢، ١٦٣ ]

“বলো, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব। তার কোনো শরীক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬২-১৬৩]