hadith book logo

রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামাজিক বিপ্লবের স্বরূপ

লেখকঃ সিরজুল ইসলাম আলী আকবর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পর্যায়

রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় অবস্থান গ্রহণ এবং সেখানে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরও বায়তুল মাকদিসকে কিবলা বানিয়ে নামায পড়তেন। কিন্তু মদীনাকে কেন্দ্র করে ইবরাহীমী মিল্লাতের প্রতিষ্ঠা লাভের পর বায়তুল মাকদিসের পরিবর্তে হযরত ইবরাহীম (আ) কর্তৃক নির্মিত কাবাই কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হওয়া ছিল খুবই পছন্দনীয় এবং প্রয়োজনীয়। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাদানী জীবনের মোট ষোল মাস পর আল্লাহ তাআলা বায়তুল মাকদিসের পরিবর্তে কাবাকে কিবলা বানিয়ে ওহী নাযিল করেনঃ

فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ( البقرة : 144)

সুতরাং তোমার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও।(বাকারা : ১৪৪)

বস্তুত এ শুধু কিবলা পরিবর্তনের ঘোষণা নয়। এ হচ্ছে সমগ্র আরব তথা বিশ্বের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা। এর পূর্ব পর্যন্ত ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের কিবলা মুসলমানদেরও কিবলা ছিল, কিন্তু এবার মুসলমানদের কিবলা হয়ে গেলা কাবা তথা মসজিদুল হারাম। এর অর্থ ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিশ্বনেতৃত্ব নিঃশেষ হয়ে গেল। অতপর রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর নেতৃত্বের অনুসারী মুসলমানদেরই বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়ার সিদ্ধান্ত আল্লাহর নিকট থেকেই হয়ে গেল। তিনি আয়াত নাযিল করে তাঁর ঘোষণা দিলেন এ ভাষায়ঃ

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ( البقرة : 143)

আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর স্বাক্ষী হও এবং রাসূল স্বাক্ষী হন তোমাদের উপর।

অর্থাৎ তোমরা একই আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত জন সমাজ। তোমাদের সেই অভিন্ন আদর্শ ইসলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের নেতৃত্ব দান করেছেন তোমরা তাঁরই নেতৃত্বে সংগঠিত আর এ কারণেই তোমরা বিশ্বমানবের নেতৃস্থানীয় হয়ে গেছে। ফল কথা, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্ব অনুসরণ করতে থাকলেই তোমরা সর্বোত্তম ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জনগোষ্ঠী হয়ে থাকবে। আর রাসূলের নেতৃত্ব অনুসরণ পরিহার করলে তোমরা বিশ্বনেতৃত্বের আসন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে। সর্বোত্তম জনগোষ্ঠী হওয়ার অধিকারও থাকবে না তোমাদের। তখন তোমরা এক বিভ্রান্ত ও আদর্শবিচ্যুত জনতার ভিড়ে পরিণত হবে। তোমরা হবে অন্যান্য জাতি কর্তৃক নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও পদদলিত।

বর্তমান মুসলিম জাতির বাস্তব অবস্থা আয়াতটির সত্যতা অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছে। সেই সাথে তা এই শিক্ষা দিচ্ছে যে, তোমরা যদি আবার রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্বের অনুসারী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে পার, রাসূল কার্যতই তোমাদের জীবনে অনুসৃত হন তাহলে তোমরা আবার সর্বোন্নত জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারবে।