১
যা না জানলেই নয়
লেখকঃ নোমান বিন আবুল বাশার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
শরীয়তে ইত্তেবার মর্যাদা অনেক। নিম্নোক্ত আলোচনায় তা প্রতীয়মান হয়।
(১) ইত্তেবা ‘ইবাদত কবুলের শর্ত:
কোন ইবাদত কবুল হবে না যতক্ষণ না তাতে নবী আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পূর্ণ অনুসরণ পাওয়া যাবে এবং তাঁর আনীত শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বরং রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত কৃত ইবাদত দ্বারা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত তো তাঁর নির্দেশ অনুযায়ীই সম্পাদিত হতে হবে। নিজের খেয়াল খুশি মত নয়। রাসূল স. বলেন, যে ব্যক্তি এমন আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত। (মুসলিম)
(২) ইত্তেবা ইসলামের দু’টি মৌলিক বিষয়ের একটি:
ইসলাম কবুল হওয়ার মৌলিক বিষয় দু’টি।
(ক) ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহকেই ইলাহ (মা’বুদ) হিসেবে গণ্য করে তাঁর ইবাদত করা।
(খ) মুহাম্মদ স. কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর ইত্তেবা বা অনুসরণ করা। কোন ব্যক্তির ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণিত হবে না এবং তার কোন কথা, আমল ও বিশ্বাস গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না ইত্তেবা ও ইখলাসের বাস্তবায়ন ঘটবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا﴾ [ الكهف : 110]
‘‘যে ব্যক্তি তার পালন কর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার পালন কর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’’ (সুরা কাহফ: ১১০)
(৩) ইত্তেবা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম:
রাসূল স. বলেন: অস্বীকারকারীগণ ব্যতীত আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অস্বীকারকারী কারা? তিনি বললেন: যারা আমার অনুসরণ করে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা আমার বিরোধিতা করে তারাই অস্বীকারকারী। (বুখারি) উক্ত বাণী একথার প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব।
(৪) রাসূলের আনুগত্য আল্লাহ তাআলার মুহববতের দলিল:
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾ [ آل عمران : 31]
(হে নবী!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তাআলা ও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।’’ (আলে ইমরান: ৩১)
কতিপয় সালাফে সালেহীন বলেছেন, যখন রাসূল স. এর যুগে একদল লোক আল্লাহকে মুহববত করে বলে দাবি করল, তখন আল্লাহ তা’আলা উক্ত আয়াত নাজিল করেন। আয়াতে আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, তাঁর মুহববত রাসূলের অনুসরণকে অপরিহার্য করে। আর রাসূল স. এর অনুসরণ বান্দার জন্যে আল্লাহর মুহববত অপরিহার্য করে। এখানে আল্লাহ তা’আলা মুহববতের দাবিদারদের পরীক্ষা নিলেন। যারা অনুসরণ করবে তাদের দাবি সত্য বলে বিবেচিত হবে। যারা অনুসরণ করবে না তারা মিথ্যাবাদী বলে পরিগণিত হবে।
(৫) ইত্তেবা রাসূল স. এর মুহববতের অন্যতম পন্থা:
আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর রাসূলকে মুহববত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছ- তোমাদের কেউ মু’মিন বলে বিবেচিত হবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট স্বীয় পিতা, সন্তানসহ অন্যান্য সকল মানুষ অপেক্ষা বেশি প্রিয়ভাজন না হব। (বুখারি, মুসলিম)
রাসূলের এ মুহববত পরিপূর্ণ ইত্তেবা ব্যতীত হাসিল করা সম্ভব নয়।
(৬) ইত্তেবা মুমিনের অন্যতম অপরিহার্য গুণ:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾ [ النور : 51]
মু’মিনদের বক্তব্য এই যে, যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম এবং তারাই প্রকৃত সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ থেকে বেঁচে থাকে, তারাই কৃতকার্য। (সুরা নূর: ৫১)
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার তাওফীক দান করুন। আমিন!
কোন ইবাদত কবুল হবে না যতক্ষণ না তাতে নবী আকরাম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পূর্ণ অনুসরণ পাওয়া যাবে এবং তাঁর আনীত শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বরং রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত কৃত ইবাদত দ্বারা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত তো তাঁর নির্দেশ অনুযায়ীই সম্পাদিত হতে হবে। নিজের খেয়াল খুশি মত নয়। রাসূল স. বলেন, যে ব্যক্তি এমন আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত। (মুসলিম)
(২) ইত্তেবা ইসলামের দু’টি মৌলিক বিষয়ের একটি:
ইসলাম কবুল হওয়ার মৌলিক বিষয় দু’টি।
(ক) ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহকেই ইলাহ (মা’বুদ) হিসেবে গণ্য করে তাঁর ইবাদত করা।
(খ) মুহাম্মদ স. কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর ইত্তেবা বা অনুসরণ করা। কোন ব্যক্তির ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণিত হবে না এবং তার কোন কথা, আমল ও বিশ্বাস গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না ইত্তেবা ও ইখলাসের বাস্তবায়ন ঘটবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا﴾ [ الكهف : 110]
‘‘যে ব্যক্তি তার পালন কর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার পালন কর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’’ (সুরা কাহফ: ১১০)
(৩) ইত্তেবা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম:
রাসূল স. বলেন: অস্বীকারকারীগণ ব্যতীত আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অস্বীকারকারী কারা? তিনি বললেন: যারা আমার অনুসরণ করে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা আমার বিরোধিতা করে তারাই অস্বীকারকারী। (বুখারি) উক্ত বাণী একথার প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব।
(৪) রাসূলের আনুগত্য আল্লাহ তাআলার মুহববতের দলিল:
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾ [ آل عمران : 31]
(হে নবী!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তাআলা ও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।’’ (আলে ইমরান: ৩১)
কতিপয় সালাফে সালেহীন বলেছেন, যখন রাসূল স. এর যুগে একদল লোক আল্লাহকে মুহববত করে বলে দাবি করল, তখন আল্লাহ তা’আলা উক্ত আয়াত নাজিল করেন। আয়াতে আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, তাঁর মুহববত রাসূলের অনুসরণকে অপরিহার্য করে। আর রাসূল স. এর অনুসরণ বান্দার জন্যে আল্লাহর মুহববত অপরিহার্য করে। এখানে আল্লাহ তা’আলা মুহববতের দাবিদারদের পরীক্ষা নিলেন। যারা অনুসরণ করবে তাদের দাবি সত্য বলে বিবেচিত হবে। যারা অনুসরণ করবে না তারা মিথ্যাবাদী বলে পরিগণিত হবে।
(৫) ইত্তেবা রাসূল স. এর মুহববতের অন্যতম পন্থা:
আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর রাসূলকে মুহববত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছ- তোমাদের কেউ মু’মিন বলে বিবেচিত হবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট স্বীয় পিতা, সন্তানসহ অন্যান্য সকল মানুষ অপেক্ষা বেশি প্রিয়ভাজন না হব। (বুখারি, মুসলিম)
রাসূলের এ মুহববত পরিপূর্ণ ইত্তেবা ব্যতীত হাসিল করা সম্ভব নয়।
(৬) ইত্তেবা মুমিনের অন্যতম অপরিহার্য গুণ:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾ [ النور : 51]
মু’মিনদের বক্তব্য এই যে, যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম এবং তারাই প্রকৃত সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ থেকে বেঁচে থাকে, তারাই কৃতকার্য। (সুরা নূর: ৫১)
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার তাওফীক দান করুন। আমিন!