১- যুদ্ধের ময়দানে পতাকা বহন করা একটি
সুন্নত। যিনি অভিযান পরিচালনা করেন মূলত তার কাছেই পতাকা থাকত।
২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পতাকা প্রদানের কথা বললেন তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা পাওয়ার আশা করলেন। এ দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে,
সাহাবায়ে কেরাম নেককাজ করার ক্ষেত্রে সর্বদা অগ্রগামী ও উৎসাহী ছিলেন। শিরোনামের সাথে এ হাদীসটির সম্পর্ক এখানেই।
৩- নেতৃত্ব গ্রহণের লোভ করা ঠিক নয়। যেমন আমরা এ হাদীসে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য দ্বারা বুঝতে পারলাম। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে কর্তৃত্ব করার লোভ ও নেতৃত্বের প্রার্থী হতে নিষেধ করেছেন।
৪- নিজের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে কোনো বিষয় বুঝে না আসলে তা জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হয়। যেমন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, আমি কিসের উপর তাদের সাথে লড়াই করব।
৫- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফজিলত প্রমাণিত হল এ হাদীসে।
৬-
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য
জিহাদ করার নির্দেশ দিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ হাদীস দ্বারা তাওহীদের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।
৭- সাহাবায়ে কেরাম কত যত্নের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ পালন করেছেন তার একটি প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এ হাদীস। তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এদিক ওদিক তাকাতে নিষেধ করেছেন। এ নির্দেশ এমনভাবে পালন করেছেন যে, প্রশ্ন করার সময় প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও অন্য দিকে তাকাননি। বরং চিৎকার করে প্রশ্ন করেছেন, যেন এর জন্য কোনো দিকে তাকাতে না হয়।
৮- কেউ তাওহীদ ও রিসালাতের স্বাক্ষ্য প্রদান করলে তার জান ও মাল হেফাজত করার দায়িত্ব সকল মুসলমানের। কোনো মুসলমানের পক্ষ থেকে তার প্রাণ ও সম্পদের প্রতি কোনো হুমকি আসতে পারে না।
৮- ইসলামের কোনো হক বা অধিকার ব্যতীত তার সম্পদের কোনো কিছু গ্রহণ করা যাবে না।
৯- আর সে যদি প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিয়ে মনে মনে কুফর-শিরক লালন করে, তবে তার হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে। মানুষের কাজ নয় তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে সন্দেহ করা, তার মুসলমানিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা তার ইসলাম সঠিক নয় বলে প্রত্যাখ্যান করা।
বি; দ্র: হাদীসগুলো ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক সংকলিত রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থ থেকে সংগৃহিত।
সমাপ্ত