hadith book logo

শিশুদের লালন-পালন [মাতা-পিতার দায়িত্ব ও সন্তানের করণীয়]

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন জামীল যাইনূ রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

গান-বাজনার বিধান:-

১. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ﴾ .

অধিকাংশ তাফসীরকারকদের মতে لَهْوَ الْحَدِيثِ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, গান। বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ইবনে মাসউদ রা. বলেন, এখানে উদ্দেশ্য হল, গান। হাসান বসরী রহ. বলেন, আয়াতটি গান-বাজনা ও বাদ্য-যন্ত্র বিষয়ে নাযিল হয়েছে।

২.মহান আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে খেতাব করে বলেন,

﴿وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ﴾

৩.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحر «الزنا» والحرير، والخمر والمعازف» – الموسيقى - .

অর্থ, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি কাপড় পরিধান, মদ-পান ও গান-বাজনাকে হালাল জানবে।

একই অর্থে অপর একটি হাদিসে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় হতে একটি জামাত এমন হবে, যারা ব্যভিচার করা, রেশমি কাপড় পরিধান, মদ্য-পান ও গান-বাজনাকে হালাল বলে বিশ্বাস করবে, অথচ তা হারাম।

হাদীসে বর্ণিত “মায়াযেফ” বলা হয়, যে সব বাদ্য যন্ত্রে সূর রয়েছে। যেমন, বাঁশি, তবলা, ঢোল ইত্যাদি। এমনকি ঘণ্টিও তার অন্তর্ভুক্ত। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, [ الجرس مزامير الشيطان ] . অর্থ, ঘণ্টা হল, শয়তানের বাদ্য-যন্ত্র। হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঘণ্টার আওয়াজও ইসলাম পছন্দ করে নি। জাহিলিয়্যাতের যুগে মুশরিকরা তাদের চতুষ্পদ জন্তুর গলায় এ ধরনের ঘণ্টা ঝুলিয়ে দিত। এছাড়া খ্রিষ্টানরা যে নাকুস ব্যবহার করে, তার সাথে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। সুতরাং ঘণ্টা ব্যবহার হতে বিরত থাকতে হবে। যদি একেবারেই প্রয়োজন হয়, তবে তার পরিবর্তে কলিং বেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. ইমাম শাফেয়ী রহ. থেকে কিতাবুল কাযাতে বর্ণিত হয়েছে যে, গান হচ্ছে অনর্থক কাজ ও অপছন্দনীয় কাজ। যে ব্যক্তি গান-বাজনায় ব্যস্ত থাকে সে অবশ্যই নির্বোধ, তার সাক্ষ্য কবুল করা হবে না, প্রত্যাখ্যান করা হবে।