১
শিশুদের লালন-পালন [মাতা-পিতার দায়িত্ব ও সন্তানের করণীয়]
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন জামীল যাইনূ রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
ছবি ও মূর্তির বিধান:
ইসলাম মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে এবং আল্লাহর সাথে অন্য মাখলুক যেমন, আল্লাহর অলি, নেককার বান্দা, মূর্তি, কবর, মাজার, ছবি ইত্যাদির পূজা করা বা কোন কিছুকে তার সাথে শরীক করা হতে নিষেধ করে। মহান আল্লাহ তা‘আলা যেদিন থেকে মানুষের হেদায়েতের জন্য নবী রাসূলদের দুনিয়াতে পাঠান, সেদিন থেকেই তারা মানুষদের তাওহীদের দাওয়াত দেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ﴾
অর্থ, আর আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করি, তিনি দাওয়াত দেন যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে দূরে থাক।
তাগুত: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব কিছুর ইবাদত করা হয়, তাদের তাগুত বলা হয়। মুশরিকরা যে সব মূর্তির পূজা করত, সূরা নূহতে মহান আল্লাহ তা‘আলা তাদের আলোচনা করেন। যেমন, বুখারী শরীফে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. আল্লাহর তা‘আলার বাণী-
﴿وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا﴾
আর তারা বলে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক, ও নাসরকে। বস্তুত তারা অনেককে পতভ্রষ্ট করেছে, আর (হে আল্লাহ) আপনি যালিমদেরকে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বাড়াবেন না।
এর ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতে উল্লেখিত নাম গুলো হল, নূহ আ. এর সম্প্রদায়ের নেককার লোক ও মহৎ ব্যক্তিবর্গ। এরা মারা গেলে শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট ওহী পাঠান যে, তোমরা তাদের বসার স্থানে তাদের আকৃতিতে মূর্তি তৈরি কর এবং তাদের নামেই মূর্তিগুলোর নাম করণ কর। তখন তারা তাই করল। তখন পর্যন্ত তারা তাদের কোন ইবাদত করত না। তারপর যখন এ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেল, পরবর্তী প্রজন্ম এসে তাদের পূর্বসূরিদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে না জেনে মূর্তিগুলোর ইবাদত করতে আরম্ভ করে। এ ঘটনাটি দ্বারা একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, মানবজাতির মধ্যে শিরকের বিস্তার লাভের প্রধান কারণ হল, ছবি বা মূর্তি। কিন্তু বর্তমানে দু:খের বিষয় হল, অনেকেই মনে করে, এ ধরনের ছবি হালাল। কারণ, এখন এ ধরনের লোক পাওয়া যায় না, যারা ছবির ইবাদত করে। তাদের এ দাবি সঠিক নয়। কারণ, ছবি হল, শিরক এর প্রবেশের দরজা।
১.একটি কথা মনে রাখতে হবে, বর্তমানেও ছবি ও মূর্তির পূজা করা হয়ে থাকে। যেমন, ঈসা আ. ও তার মাতা মারিয়াম আ. মারা যাওয়ার পর, মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আকৃতির ইবাদত, এখনো করা হয়। ঈসা আ. এর ছবি সম্বলিত অনেক বড় বড় পোষ্টার বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়। এ গুলোকে ইবাদতের লক্ষ্যে ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়, এ গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
২.বর্তমান যুগেও বড় বড় নেতাদের ছবির প্রতি মানুষের মাথা নত করা হয়। মানুষ যখন তাদের মূর্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা তাদের সম্মানে দাড়িয়ে যায়, কোমর বাঁকা করে পিঠ ঝুলিয়ে দেয়। যেমন, আমেরিকাতে জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্রান্সে নেপোলিয়ন ও রাশিয়াতে লেনিনের ছবিকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যারা তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাদের সম্মানে মাথা ঝুঁকায়। বর্তমানে প্রতিকৃতি নির্মাণের এ ধারণাটি আরব জাহান ও মুসলিম দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কাফেরদের অন্ধ অনুকরণ করে যাচ্ছে, তারা তাদের নেতাদের প্রতিকৃতি রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করে। এভাবে অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহেও মূর্তির বিস্তার হচ্ছে। যে সব টাকা দিয়ে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়ে থাকে, সে সব দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা, হাসপাতাল, জন-কল্যাণমূলক ট্রাস্ট তৈরি করে তাদের নামে নাম করণ করা যেতে পারে; তাতে কোন সমস্যা নাই। তাতে মানুষের উপকার আরও বেশি হবে। আর তাদের নামে নাম করণ করার মধ্যে কোন ক্ষতি নাই।
৩.কালের বিবর্তনে দেখা যাবে, যারা বর্তমানে প্রতিকৃতি গুলোর সেজদা করছে না, তারাও এক সময় এসে এগুলোর সেজদা করতে আরম্ভ করবে এবং ইবাদত করতে শুরু করবে। যেমনটি ইউরোপ, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে নূহ আ. এর সম্প্রদায়ের লোকেরাই হল ইতিহাসের সূচনা। কারণ, তারাই প্রথমে তাদের নেতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে, তারপর তাদের সম্মান ও ইবাদত করে।
৪.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনে আবু তালিব রা. কে এ বলে নির্দেশ দেন যে, তুমি কোন মূর্তিকে দেখা মাত্র নিষ্পেষিত করে দেবে এবং কোন উঁচা কবর দেখলে তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ﴾
অর্থ, আর আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করি, তিনি দাওয়াত দেন যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে দূরে থাক।
তাগুত: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব কিছুর ইবাদত করা হয়, তাদের তাগুত বলা হয়। মুশরিকরা যে সব মূর্তির পূজা করত, সূরা নূহতে মহান আল্লাহ তা‘আলা তাদের আলোচনা করেন। যেমন, বুখারী শরীফে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. আল্লাহর তা‘আলার বাণী-
﴿وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا﴾
আর তারা বলে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক, ও নাসরকে। বস্তুত তারা অনেককে পতভ্রষ্ট করেছে, আর (হে আল্লাহ) আপনি যালিমদেরকে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বাড়াবেন না।
এর ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতে উল্লেখিত নাম গুলো হল, নূহ আ. এর সম্প্রদায়ের নেককার লোক ও মহৎ ব্যক্তিবর্গ। এরা মারা গেলে শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট ওহী পাঠান যে, তোমরা তাদের বসার স্থানে তাদের আকৃতিতে মূর্তি তৈরি কর এবং তাদের নামেই মূর্তিগুলোর নাম করণ কর। তখন তারা তাই করল। তখন পর্যন্ত তারা তাদের কোন ইবাদত করত না। তারপর যখন এ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেল, পরবর্তী প্রজন্ম এসে তাদের পূর্বসূরিদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে না জেনে মূর্তিগুলোর ইবাদত করতে আরম্ভ করে। এ ঘটনাটি দ্বারা একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, মানবজাতির মধ্যে শিরকের বিস্তার লাভের প্রধান কারণ হল, ছবি বা মূর্তি। কিন্তু বর্তমানে দু:খের বিষয় হল, অনেকেই মনে করে, এ ধরনের ছবি হালাল। কারণ, এখন এ ধরনের লোক পাওয়া যায় না, যারা ছবির ইবাদত করে। তাদের এ দাবি সঠিক নয়। কারণ, ছবি হল, শিরক এর প্রবেশের দরজা।
১.একটি কথা মনে রাখতে হবে, বর্তমানেও ছবি ও মূর্তির পূজা করা হয়ে থাকে। যেমন, ঈসা আ. ও তার মাতা মারিয়াম আ. মারা যাওয়ার পর, মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আকৃতির ইবাদত, এখনো করা হয়। ঈসা আ. এর ছবি সম্বলিত অনেক বড় বড় পোষ্টার বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়। এ গুলোকে ইবাদতের লক্ষ্যে ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়, এ গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
২.বর্তমান যুগেও বড় বড় নেতাদের ছবির প্রতি মানুষের মাথা নত করা হয়। মানুষ যখন তাদের মূর্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা তাদের সম্মানে দাড়িয়ে যায়, কোমর বাঁকা করে পিঠ ঝুলিয়ে দেয়। যেমন, আমেরিকাতে জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্রান্সে নেপোলিয়ন ও রাশিয়াতে লেনিনের ছবিকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যারা তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাদের সম্মানে মাথা ঝুঁকায়। বর্তমানে প্রতিকৃতি নির্মাণের এ ধারণাটি আরব জাহান ও মুসলিম দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কাফেরদের অন্ধ অনুকরণ করে যাচ্ছে, তারা তাদের নেতাদের প্রতিকৃতি রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করে। এভাবে অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহেও মূর্তির বিস্তার হচ্ছে। যে সব টাকা দিয়ে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়ে থাকে, সে সব দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা, হাসপাতাল, জন-কল্যাণমূলক ট্রাস্ট তৈরি করে তাদের নামে নাম করণ করা যেতে পারে; তাতে কোন সমস্যা নাই। তাতে মানুষের উপকার আরও বেশি হবে। আর তাদের নামে নাম করণ করার মধ্যে কোন ক্ষতি নাই।
৩.কালের বিবর্তনে দেখা যাবে, যারা বর্তমানে প্রতিকৃতি গুলোর সেজদা করছে না, তারাও এক সময় এসে এগুলোর সেজদা করতে আরম্ভ করবে এবং ইবাদত করতে শুরু করবে। যেমনটি ইউরোপ, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে নূহ আ. এর সম্প্রদায়ের লোকেরাই হল ইতিহাসের সূচনা। কারণ, তারাই প্রথমে তাদের নেতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে, তারপর তাদের সম্মান ও ইবাদত করে।
৪.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনে আবু তালিব রা. কে এ বলে নির্দেশ দেন যে, তুমি কোন মূর্তিকে দেখা মাত্র নিষ্পেষিত করে দেবে এবং কোন উঁচা কবর দেখলে তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।