hadith book logo

শিশুদের লালন-পালন [মাতা-পিতার দায়িত্ব ও সন্তানের করণীয়]

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন জামীল যাইনূ রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপর

কুরআনের আয়াত, বিশুদ্ধ হাদিস, সত্যিকার জ্ঞান ও সঠিক স্বভাব প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপরই আছেন। একজন মুসলিমের আক্বীদা বা বিশ্বাস এটিই হতে হবে। নিম্নে এর সপক্ষে কয়েকটি প্রমাণ উপস্থাপন করা হল।

১.আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى﴾ অর্থাৎ “আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বাহা] استوى এর অর্থ উপরে উঠা এবং উন্নীত হওয়া। যেমনটি বুখারির বর্ণনায় তাবেয়ীদের থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

২.বিদায় হজের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন যে ভাষণ দেন, তাতে তিনি বলেন, “আমি কি তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে আমার উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব তোমাদের নিকট পৌছাইনি?” উপস্থিত সবাই সমস্বরে বললে, হ্যাঁ। তারপর তিনি তার আঙ্গুলকে আসমানের দিকে উঁচু করলেন এবং সমবেত লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে তাদের সম্বোধন করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক।” [মুসলিম]

৩.সালাতে মুসল্লিরা বলেন, سبحان ربي الأعلى “আমার সুউচ্চ রব কতই না পবিত্র!” অনুরূপভাবে দো‘আর সময় মানুষ আসমানের দিকেই হাত উঠায়। [এতেও এ কথা স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ তা‘আলা উপরেই আছেন।]

৪.শিশুদের যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, আল্লাহ কোথায়? তখন সে স্বভাবতই বলে, আল্লাহ আসমানে অথবা ইশারা করে আসমানের দিকে দেখায়।

৫.মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, { وَهُوَ اللّهُ فِي السَّمَاوَاتِ } “ আর আল্লাহ, তিনি-তো আসমানসমূহে।” [সূরা আল-আন‘আম] আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, তাফসীরবিদগণ এ বিষয়ে ঐকমত পোষণ করেন যে, পথভ্রষ্ট দল জাহমিয়ারা যে কথা বলে, আমরা তা বলবো না। তারা বলে ‘আল্লাহ তা‘আলা সর্বত্র বিরাজমান’, অথচ মহান আল্লাহ তা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর في السموات বা আল্লাহ আসমানে এ কথার অর্থ হল على السموات - আল্লাহর আসমানের উপর। তবে মহান আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দেখেন, আমাদের কথা শোনেন, যদিও তিনি আরশের উপর অবস্থান করছেন।