১
ইসলাম একমাত্র পরিপূর্ণ দীন
লেখকঃ মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ্-শানকীতী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
অষ্টম মাসআলা: মুসলিমদের ওপর কাফিরদের প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে বিদ্যমান থাকার সময়েই এই বিষয়টি তাদের নিকট জটিল ব্যাপার মনে হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং তাঁর কিতাবে এই ব্যাপারে আসমানী ফাতওয়া দেন, যার দ্বারা এই সমস্যাটি দূর হয়ে গেছে। ঘটনাটি হলো, যখন ওহুদের যুদ্ধের দিন মুসলিমগণ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিলেন, তখন তারা এই জটিলতার সম্মুখীন হন এবং তারা বলেন, কীভাবে মুশরিকগণকে আমাদের উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হলো এবং আমাদের ওপর তাদেরকে প্রভাবশালী করা হলো, অথচ আমরা হকের (সত্যের) ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি এবং তারা বাতিলের (অসত্যের) ওপর প্রতিষ্ঠিত? তখন আল্লাহ তা‘আলা নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে এ ব্যাপারে [ইবন আবু হাতেম তার তাফসীরের মধ্যে (নং ১৮২২ -আলে ইমরান) হাসান বসরী রহ. থেকে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।] তাদেরকে ফাতওয়া দিলেন:
﴿أَوَلَمَّآ أَصَٰبَتۡكُم مُّصِيبَةٞ قَدۡ أَصَبۡتُم مِّثۡلَيۡهَا قُلۡتُمۡ أَنَّىٰ هَٰذَاۖ قُلۡ هُوَ مِنۡ عِندِ أَنفُسِكُمۡۗ﴾ [ سُورَةُ آل عمران : 165]
“কী ব্যাপার! যখন তোমাদের ওপর মুসীবত এলো, তখন তোমরা বললে: ‘এটা কোথা থেকে আসল?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। বল, ‘এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট থেকে।’” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৫] আর তাঁর বাণী: “এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট থেকে” -কে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছে তাঁর নিম্নোক্ত বাণী:
﴿وَلَقَدۡ صَدَقَكُمُ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥٓ إِذۡ تَحُسُّونَهُم بِإِذۡنِهِۦۖ حَتَّىٰٓ إِذَا فَشِلۡتُمۡ وَتَنَٰزَعۡتُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِ وَعَصَيۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ مَآ أَرَىٰكُم مَّا تُحِبُّونَۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنۡيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلۡأٓخِرَةَۚ ثُمَّ صَرَفَكُمۡ عَنۡهُمۡ لِيَبۡتَلِيَكُمۡۖ﴾ [ سُورَةُ آل عمران : 152]
“আল্লাহ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন যখন তোমরা আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিনাশ করছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারালে এবং নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করলে এবং যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদেরকে দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের কতক দুনিয়া চাচ্ছিলে এবং কতক আখেরাত চাচ্ছিলে। অতঃপর তিনি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫২]
সুতরাং তিনি এই আসমানী ফাতওয়ায় বর্ণনা করেছেন যে, তাদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্ব বা প্রভাবের কারণ তাদের নিজেদেরই সৃষ্ট; আর তা হচ্ছে তাদের ব্যর্থতা, নির্দেশ পালনে মতভিন্নতা, তাদের একাংশ কর্তৃক রাসূলের অবাধ্যতা এবং দুনিয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা। কারণ, তীরন্দাজ বাহিনী পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করে কাফিরদেরকে মুসলিমদের পেছন দিক থেকে এসে আক্রমন করা থেকে বিরত রাখছিলেন; কিন্তু যুদ্ধের প্রথম দিকে মুশরিকদের পরাজয়ের সময় তারা গনীমতের মালের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। এভাবে তারা দুনিয়ার সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তা অর্জনের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশকে উপেক্ষা করেছিল। [যেমনটি বর্ণিত আছে বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে, যা ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেছেন, জিহাদ অধ্যায় ( كتاب الجهاد ), পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের ময়দানে মতবিরোধ অপছন্দনীয় এবং যে তার নেতার অবাধ্য হয় তার পরিণতি ( باب ما يكره من التنازع و الاختلاط في الحرب و عقوبة من عصى إمامه ), ৪/২৬।]
﴿أَوَلَمَّآ أَصَٰبَتۡكُم مُّصِيبَةٞ قَدۡ أَصَبۡتُم مِّثۡلَيۡهَا قُلۡتُمۡ أَنَّىٰ هَٰذَاۖ قُلۡ هُوَ مِنۡ عِندِ أَنفُسِكُمۡۗ﴾ [ سُورَةُ آل عمران : 165]
“কী ব্যাপার! যখন তোমাদের ওপর মুসীবত এলো, তখন তোমরা বললে: ‘এটা কোথা থেকে আসল?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। বল, ‘এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট থেকে।’” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৫] আর তাঁর বাণী: “এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট থেকে” -কে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছে তাঁর নিম্নোক্ত বাণী:
﴿وَلَقَدۡ صَدَقَكُمُ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥٓ إِذۡ تَحُسُّونَهُم بِإِذۡنِهِۦۖ حَتَّىٰٓ إِذَا فَشِلۡتُمۡ وَتَنَٰزَعۡتُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِ وَعَصَيۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ مَآ أَرَىٰكُم مَّا تُحِبُّونَۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنۡيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلۡأٓخِرَةَۚ ثُمَّ صَرَفَكُمۡ عَنۡهُمۡ لِيَبۡتَلِيَكُمۡۖ﴾ [ سُورَةُ آل عمران : 152]
“আল্লাহ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন যখন তোমরা আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিনাশ করছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারালে এবং নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করলে এবং যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদেরকে দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের কতক দুনিয়া চাচ্ছিলে এবং কতক আখেরাত চাচ্ছিলে। অতঃপর তিনি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫২]
সুতরাং তিনি এই আসমানী ফাতওয়ায় বর্ণনা করেছেন যে, তাদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্ব বা প্রভাবের কারণ তাদের নিজেদেরই সৃষ্ট; আর তা হচ্ছে তাদের ব্যর্থতা, নির্দেশ পালনে মতভিন্নতা, তাদের একাংশ কর্তৃক রাসূলের অবাধ্যতা এবং দুনিয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা। কারণ, তীরন্দাজ বাহিনী পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করে কাফিরদেরকে মুসলিমদের পেছন দিক থেকে এসে আক্রমন করা থেকে বিরত রাখছিলেন; কিন্তু যুদ্ধের প্রথম দিকে মুশরিকদের পরাজয়ের সময় তারা গনীমতের মালের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। এভাবে তারা দুনিয়ার সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তা অর্জনের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশকে উপেক্ষা করেছিল। [যেমনটি বর্ণিত আছে বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে, যা ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেছেন, জিহাদ অধ্যায় ( كتاب الجهاد ), পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের ময়দানে মতবিরোধ অপছন্দনীয় এবং যে তার নেতার অবাধ্য হয় তার পরিণতি ( باب ما يكره من التنازع و الاختلاط في الحرب و عقوبة من عصى إمامه ), ৪/২৬।]