১
ইসলাম একমাত্র পরিপূর্ণ দীন
লেখকঃ মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ্-শানকীতী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
ষষ্ঠ মাসআলা: অর্থনীতি প্রসঙ্গে
আল-কুরআন অর্থব্যবস্থার সেই মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছে, যে নীতিমালার দিকে অর্থনীতির সকল শাখা-প্রশাখা ধাবিত। এর ব্যাখ্যা এই যে, অর্থনীতির সকল বিষয় দু’টি মূলনীতির দিকে ধাবমান:
প্রথমত: সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি;
দ্বিতীয়ত: সম্পদ ব্যয়ের খাতসমূহে তা ব্যয় করার ক্ষেত্রে উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি।
সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে ব্যক্তিত্ব ও দীনের সাথে সামঞ্জস্যশীল বিভিন্ন উপায় ও উপকরণের মাধ্যমে সম্পদ উপার্জনের পদ্ধতিসমূহ খোলামেলা বর্ণনা করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সঠিক পথ আলোকপাত করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ١٠﴾ [ سُورَةُ الجمعة : 10]
“অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [সূরা আল-জুম‘আ, আয়াত: ১০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَءَاخَرُونَ يَضۡرِبُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ يَبۡتَغُونَ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ﴾ [ سُورَةُ المزمل : 20]
“আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে।” [সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ২০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 198]
“তোমাদের রব-এর অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৮]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡ﴾ [ سُورَةُ النساء : 29]
“কিন্তু তোমাদের পরস্পরের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা করা বৈধ।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 275]
“অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿فَكُلُواْ مِمَّا غَنِمۡتُمۡ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا﴾ [ سُورَةُ الأنفال : 69]
“যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ, তা বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৬৯] এই প্রসঙ্গে এগুলো ছাড়াও আরও আয়াত রয়েছে।
আরও লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
﴿وَلَا تَجۡعَلۡ يَدَكَ مَغۡلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ ٱلۡبَسۡطِ﴾ [ سُورَةُ الإسراء : 29]
“তুমি তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রসারিতও করো না।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৯]
তিনি আরও বলেন,
﴿وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا ٦٧﴾ [ سُورَةُ الفرقان : 67]
“এবং যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না; বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৭]
তিনি আরও বলেন,
﴿وَيَسَۡٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلِ ٱلۡعَفۡوَۗ ﴾ الآية [ سُورَةُ البقرة : 219]
“লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বল, যা উদ্বৃত্ত।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৯] আরও লক্ষ্য করুন, যেই খাতে ব্যয় করা বৈধ নয়, সেই খাতে ব্যয় করতে তিনি কীভাবে নিষেধ করেন। তিনি বলেন,
﴿فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيۡهِمۡ حَسۡرَةٗ ثُمَّ يُغۡلَبُونَ﴾ [ سُورَةُ الأنفال : 36]
“তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, অতঃপর তারা পরাভূত হবে।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৬]
প্রথমত: সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি;
দ্বিতীয়ত: সম্পদ ব্যয়ের খাতসমূহে তা ব্যয় করার ক্ষেত্রে উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি।
সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে ব্যক্তিত্ব ও দীনের সাথে সামঞ্জস্যশীল বিভিন্ন উপায় ও উপকরণের মাধ্যমে সম্পদ উপার্জনের পদ্ধতিসমূহ খোলামেলা বর্ণনা করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সঠিক পথ আলোকপাত করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ١٠﴾ [ سُورَةُ الجمعة : 10]
“অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [সূরা আল-জুম‘আ, আয়াত: ১০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَءَاخَرُونَ يَضۡرِبُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ يَبۡتَغُونَ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ﴾ [ سُورَةُ المزمل : 20]
“আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে।” [সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ২০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 198]
“তোমাদের রব-এর অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৮]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡ﴾ [ سُورَةُ النساء : 29]
“কিন্তু তোমাদের পরস্পরের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা করা বৈধ।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 275]
“অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿فَكُلُواْ مِمَّا غَنِمۡتُمۡ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا﴾ [ سُورَةُ الأنفال : 69]
“যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ, তা বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৬৯] এই প্রসঙ্গে এগুলো ছাড়াও আরও আয়াত রয়েছে।
আরও লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
﴿وَلَا تَجۡعَلۡ يَدَكَ مَغۡلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ ٱلۡبَسۡطِ﴾ [ سُورَةُ الإسراء : 29]
“তুমি তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রসারিতও করো না।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৯]
তিনি আরও বলেন,
﴿وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا ٦٧﴾ [ سُورَةُ الفرقان : 67]
“এবং যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না; বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৭]
তিনি আরও বলেন,
﴿وَيَسَۡٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلِ ٱلۡعَفۡوَۗ ﴾ الآية [ سُورَةُ البقرة : 219]
“লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বল, যা উদ্বৃত্ত।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৯] আরও লক্ষ্য করুন, যেই খাতে ব্যয় করা বৈধ নয়, সেই খাতে ব্যয় করতে তিনি কীভাবে নিষেধ করেন। তিনি বলেন,
﴿فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيۡهِمۡ حَسۡرَةٗ ثُمَّ يُغۡلَبُونَ﴾ [ سُورَةُ الأنفال : 36]
“তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, অতঃপর তারা পরাভূত হবে।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৬]