১
ইসলাম একমাত্র পরিপূর্ণ দীন
লেখকঃ মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ্-শানকীতী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
দশম মাসআলা: মনের গরমিল জনিত সমস্যা প্রসঙ্গে
আল্লাহ তা‘আলা সূরা হাশরের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধির অভাবকে এই সমস্যার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
﴿تَحۡسَبُهُمۡ جَمِيعٗا وَقُلُوبُهُمۡ شَتَّىٰ﴾
“তুমি মনে কর তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনের মিল নেই।” এরপরই আয়াতের বাকি অংশে মনের গরমিলের কারণ বর্ণনা করে বলেন,
﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَعۡقِلُونَ ١٤ ﴾ [ سُورَةُ الحشر : 14]
“এটা এই জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১৪]
আর এই জ্ঞান ও বুদ্ধিগত দুর্বলতাজনিত রোগের ঔষধ হলো ওহীর আলোর অনুসরণ করার মাধ্যমে নিজেকে আলোকিত করা। কারণ, ওহী এমন সব কল্যাণের পথ দেখায়, যা শুধুমাত্র জ্ঞান-বুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন সম্ভব না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَوَ مَن كَانَ مَيۡتٗا فَأَحۡيَيۡنَٰهُ وَجَعَلۡنَا لَهُۥ نُورٗا يَمۡشِي بِهِۦ فِي ٱلنَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُۥ فِي ٱلظُّلُمَٰتِ لَيۡسَ بِخَارِجٖ مِّنۡهَا﴾ [ سُورَةُ الأنعام : 122]
“যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমরা পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলোক দিয়েছি, সে ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সেই স্থান থেকে বের হওয়ার নয়?” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১২২]
তিনি এই আয়াতের মধ্যে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি মৃত ছিল, ঈমানের নূর তাকে জীবিত করে তোলে এবং তার চলার পথকে আলোকিত করে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿ٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 257]
“যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৭]
তিনি আরও বলেন,
﴿أَفَمَن يَمۡشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجۡهِهِۦٓ أَهۡدَىٰٓ أَمَّن يَمۡشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٢٢﴾ [ سُورَةُ الملك : 22]
“যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি ঠিক পথে চলে, না কি সেই ব্যক্তি যে ঋজু হয়ে সরল পথে চলে?” [সূরা আল-মুলকর: ২২] এই প্রসঙ্গে এগুলো ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
মোটকথা: মানবতার কল্যাণে প্রণীত দুনিয়ার নিয়মনীতি তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. প্রথম প্রকার: বিপর্যয় সৃষ্টিকারী বস্তু বিতাড়িত করা: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘জরুরি আবশ্যকীয় বিষয়’ হিসেবে পরিচিত। এর মূলকথা হলো, পূর্বে আলোচিত ছয়টি বিষয় অর্থাৎ দীন, জীবন, বিবেক-বুদ্ধি, বংশ, মান-সম্মান ও ধন-সম্পদ থেকে ক্ষতিকারক সব কিছু দূরীভূত করা।
২. দ্বিতীয় প্রকার: কল্যাণকর বস্তু আমদানি করা: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়’ হিসেবে পরিচিত। আর এর শাখা-প্রশাখার মধ্যে কিছু দিক হলো: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা এবং শরী‘আতের ভিত্তিতে পরিচালিত সমাজের সদস্যদের মধ্যে সংঘটিত সকল প্রকার পারস্পরিক লেনদেন ও বিনিময়।
৩. তৃতীয় প্রকার: উত্তম চরিত্র ও সুন্দর স্বভাব দ্বারা সুসজ্জিত হওয়া: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘সৌন্দর্য বিধানকারী ও পরিপূর্ণতা দানকারী গুণাবলি’ হিসেবে পরিচিত। এর শাখা-প্রশাখার কিছু দিক হলো: স্বভাগত বৈশিষ্টসমূহ যেমন, দাড়ি রাখা, গোঁফ খাট করা.. ইত্যাদি।
এর শাখা-প্রশাখার আরও কিছু দিক হলো: সকল প্রকার নোংরা বস্তুকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং নিকটাত্মীয় অভাবীদের মধ্যে দানকে আবশ্যক করা।
আর এই ধরনের সকল কল্যাণকর বিষয়সমূহ সর্বোত্তমভাবে সঠিক ও প্রজ্ঞাসম্মত পদ্ধতিতে সুসম্পন্ন ও সুসংরক্ষিত করা কেবল দীন ইসলামের মাধ্যমেই সম্ভব। আল-কুরআনের বাণী:
﴿الٓرۚ كِتَٰبٌ أُحۡكِمَتۡ ءَايَٰتُهُۥ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِن لَّدُنۡ حَكِيمٍ خَبِيرٍ ١﴾ [ سُورَةُ هود : 1]
“আলিফ-লাম-রা, এই কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও পরে বিশদভাবে বিবৃত প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্তার নিকট থেকে।” [সূরা হুদ, আয়াত: ১]
و صلى الله على محمد و على آله و صحبه أجمعين .
﴿تَحۡسَبُهُمۡ جَمِيعٗا وَقُلُوبُهُمۡ شَتَّىٰ﴾
“তুমি মনে কর তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনের মিল নেই।” এরপরই আয়াতের বাকি অংশে মনের গরমিলের কারণ বর্ণনা করে বলেন,
﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَعۡقِلُونَ ١٤ ﴾ [ سُورَةُ الحشر : 14]
“এটা এই জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১৪]
আর এই জ্ঞান ও বুদ্ধিগত দুর্বলতাজনিত রোগের ঔষধ হলো ওহীর আলোর অনুসরণ করার মাধ্যমে নিজেকে আলোকিত করা। কারণ, ওহী এমন সব কল্যাণের পথ দেখায়, যা শুধুমাত্র জ্ঞান-বুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন সম্ভব না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَوَ مَن كَانَ مَيۡتٗا فَأَحۡيَيۡنَٰهُ وَجَعَلۡنَا لَهُۥ نُورٗا يَمۡشِي بِهِۦ فِي ٱلنَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُۥ فِي ٱلظُّلُمَٰتِ لَيۡسَ بِخَارِجٖ مِّنۡهَا﴾ [ سُورَةُ الأنعام : 122]
“যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমরা পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলোক দিয়েছি, সে ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সেই স্থান থেকে বের হওয়ার নয়?” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১২২]
তিনি এই আয়াতের মধ্যে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি মৃত ছিল, ঈমানের নূর তাকে জীবিত করে তোলে এবং তার চলার পথকে আলোকিত করে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿ٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ﴾ [ سُورَةُ البقرة : 257]
“যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৭]
তিনি আরও বলেন,
﴿أَفَمَن يَمۡشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجۡهِهِۦٓ أَهۡدَىٰٓ أَمَّن يَمۡشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٢٢﴾ [ سُورَةُ الملك : 22]
“যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি ঠিক পথে চলে, না কি সেই ব্যক্তি যে ঋজু হয়ে সরল পথে চলে?” [সূরা আল-মুলকর: ২২] এই প্রসঙ্গে এগুলো ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
মোটকথা: মানবতার কল্যাণে প্রণীত দুনিয়ার নিয়মনীতি তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. প্রথম প্রকার: বিপর্যয় সৃষ্টিকারী বস্তু বিতাড়িত করা: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘জরুরি আবশ্যকীয় বিষয়’ হিসেবে পরিচিত। এর মূলকথা হলো, পূর্বে আলোচিত ছয়টি বিষয় অর্থাৎ দীন, জীবন, বিবেক-বুদ্ধি, বংশ, মান-সম্মান ও ধন-সম্পদ থেকে ক্ষতিকারক সব কিছু দূরীভূত করা।
২. দ্বিতীয় প্রকার: কল্যাণকর বস্তু আমদানি করা: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়’ হিসেবে পরিচিত। আর এর শাখা-প্রশাখার মধ্যে কিছু দিক হলো: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা এবং শরী‘আতের ভিত্তিতে পরিচালিত সমাজের সদস্যদের মধ্যে সংঘটিত সকল প্রকার পারস্পরিক লেনদেন ও বিনিময়।
৩. তৃতীয় প্রকার: উত্তম চরিত্র ও সুন্দর স্বভাব দ্বারা সুসজ্জিত হওয়া: এটা উসূলবিদদের নিকট ‘সৌন্দর্য বিধানকারী ও পরিপূর্ণতা দানকারী গুণাবলি’ হিসেবে পরিচিত। এর শাখা-প্রশাখার কিছু দিক হলো: স্বভাগত বৈশিষ্টসমূহ যেমন, দাড়ি রাখা, গোঁফ খাট করা.. ইত্যাদি।
এর শাখা-প্রশাখার আরও কিছু দিক হলো: সকল প্রকার নোংরা বস্তুকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং নিকটাত্মীয় অভাবীদের মধ্যে দানকে আবশ্যক করা।
আর এই ধরনের সকল কল্যাণকর বিষয়সমূহ সর্বোত্তমভাবে সঠিক ও প্রজ্ঞাসম্মত পদ্ধতিতে সুসম্পন্ন ও সুসংরক্ষিত করা কেবল দীন ইসলামের মাধ্যমেই সম্ভব। আল-কুরআনের বাণী:
﴿الٓرۚ كِتَٰبٌ أُحۡكِمَتۡ ءَايَٰتُهُۥ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِن لَّدُنۡ حَكِيمٍ خَبِيرٍ ١﴾ [ سُورَةُ هود : 1]
“আলিফ-লাম-রা, এই কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও পরে বিশদভাবে বিবৃত প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্তার নিকট থেকে।” [সূরা হুদ, আয়াত: ১]
و صلى الله على محمد و على آله و صحبه أجمعين .