১
ইসলামে জিযয়াহ্র বিধান
লেখকঃ ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
চতুর্থত: পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের সাক্ষী :
হয়তো কেউ বলতে পারে, মুসলিমরা কি এ যিম্মা রক্ষা করে তাদের নবীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছে ? এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের তিনটি সাক্ষী উল্লেখ করছি, যা আমাদের মহান ঐতিহ্য।
ওল ডোরান্ট বলেন : ‘যিম্মিরা তথা নাসারা, যরথুস্ত, ইহুদি ও সাবিয়গণ উমাইয়া খিলাফতের অধীন অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে, খ্রিষ্টান জগতে বর্তমান যুগে যার নজির নেই, তারা ধর্মের ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীন ছিল, গীর্জা ও উপাসনালয়ের ব্যাপারে নিরাপদ ছিল, শুধু তাদেরকে একটি বিশেষ রঙের আলামত ব্যবহার করতে হয়েছিল এবং তাদের প্রত্যেকের উপর উপার্জন হিসেবে ট্যাক্স নির্ধারিত ছিল, যা সাধারণত দুই দিনার বা তিন দিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এটা শুধু অমুসলিম যোদ্ধাদের উপর নির্ধারিত ছিল, এ থেকে পাদরি, নারী, নাবালক সন্তান, দাস, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অন্ধ ও গরিবরা মুক্ত ছিল, তা সত্বেও যারা সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করত, তাদের উপর জিযয়াহ্ মওকুফ ছিল, তাদের উপর যাকাত ধার্য ছিল না, যার পরিমাণ বাৎসরিক আয়ের শতকরা আড়াই ভাগ, অধিকন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল তাদেরকে হিফাযত করা। [কিস্সাতুল হাদারাহ : (১২/১৩১)]’
ঐতিহাসিক ‘আদম মিতয’ স্বীয় কিতাব "Islamic Civilization" এ বলেন : ‘যিম্মিরা প্রত্যেকে তাদের সাধ্যমত জিযয়াহ্ প্রদান করত, এ জিযয়াহ্ রাষ্ট্র রক্ষার ট্যাক্সের অনুরূপ ছিল, শুধু সামর্থবানরাই তা প্রদান করত, অভাবী, যাজক কিংবা গীর্জায় অবস্থানকারীরা প্রদান করত না, তবে তাদের সামর্থ থাকলে ভিন্ন কথা। [আল-হাদারাতুল ইসলামিয়া : (১/৯৬)]’
স্যার টমাস আরনোল্ড স্বীয় কিতাব "Call to Islam" এ জিযয়াহ্ আরোপ করার উদ্দেশ্য এবং যাদের উপর জিযয়াহ্ আরোপ করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে বলেন : ‘এ জিযয়াহ্ আরোপ করার উদ্দেশ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার কারণে নাসারাদের এক প্রকার শাস্তি দেয়া কখনোই ছিল না, কতক গবেষকরা যেমন মনে করেন, বরং এটা তারা অন্যান্য যিম্মিদের ন্যায় আদায় করত। এরা ছিল অমুসলিম, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভোগের বিনিময়ে তারা এ জিযয়াহ্ প্রদান করত, যার যিম্মাদার ছিল মুসলিমের তলোয়ার।’
ইতিহাস এবং নীতিবান অমুসলিম লেখকদের লিখনি থেকে এভাবেই প্রমাণিত হয় ইসলামের সাম্য ও মানবতা, ইসলাম সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, অসাধু গবেষকগণ কল্পকাহিনীর ন্যায় ধারণার উপর নির্ভর করে যা রচনা করে।
হে আল্লাহ ! মানুষেরা যা নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত, আমাদেরকে সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
সমাপ্ত
ওল ডোরান্ট বলেন : ‘যিম্মিরা তথা নাসারা, যরথুস্ত, ইহুদি ও সাবিয়গণ উমাইয়া খিলাফতের অধীন অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে, খ্রিষ্টান জগতে বর্তমান যুগে যার নজির নেই, তারা ধর্মের ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীন ছিল, গীর্জা ও উপাসনালয়ের ব্যাপারে নিরাপদ ছিল, শুধু তাদেরকে একটি বিশেষ রঙের আলামত ব্যবহার করতে হয়েছিল এবং তাদের প্রত্যেকের উপর উপার্জন হিসেবে ট্যাক্স নির্ধারিত ছিল, যা সাধারণত দুই দিনার বা তিন দিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এটা শুধু অমুসলিম যোদ্ধাদের উপর নির্ধারিত ছিল, এ থেকে পাদরি, নারী, নাবালক সন্তান, দাস, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অন্ধ ও গরিবরা মুক্ত ছিল, তা সত্বেও যারা সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করত, তাদের উপর জিযয়াহ্ মওকুফ ছিল, তাদের উপর যাকাত ধার্য ছিল না, যার পরিমাণ বাৎসরিক আয়ের শতকরা আড়াই ভাগ, অধিকন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল তাদেরকে হিফাযত করা। [কিস্সাতুল হাদারাহ : (১২/১৩১)]’
ঐতিহাসিক ‘আদম মিতয’ স্বীয় কিতাব "Islamic Civilization" এ বলেন : ‘যিম্মিরা প্রত্যেকে তাদের সাধ্যমত জিযয়াহ্ প্রদান করত, এ জিযয়াহ্ রাষ্ট্র রক্ষার ট্যাক্সের অনুরূপ ছিল, শুধু সামর্থবানরাই তা প্রদান করত, অভাবী, যাজক কিংবা গীর্জায় অবস্থানকারীরা প্রদান করত না, তবে তাদের সামর্থ থাকলে ভিন্ন কথা। [আল-হাদারাতুল ইসলামিয়া : (১/৯৬)]’
স্যার টমাস আরনোল্ড স্বীয় কিতাব "Call to Islam" এ জিযয়াহ্ আরোপ করার উদ্দেশ্য এবং যাদের উপর জিযয়াহ্ আরোপ করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে বলেন : ‘এ জিযয়াহ্ আরোপ করার উদ্দেশ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার কারণে নাসারাদের এক প্রকার শাস্তি দেয়া কখনোই ছিল না, কতক গবেষকরা যেমন মনে করেন, বরং এটা তারা অন্যান্য যিম্মিদের ন্যায় আদায় করত। এরা ছিল অমুসলিম, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভোগের বিনিময়ে তারা এ জিযয়াহ্ প্রদান করত, যার যিম্মাদার ছিল মুসলিমের তলোয়ার।’
ইতিহাস এবং নীতিবান অমুসলিম লেখকদের লিখনি থেকে এভাবেই প্রমাণিত হয় ইসলামের সাম্য ও মানবতা, ইসলাম সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, অসাধু গবেষকগণ কল্পকাহিনীর ন্যায় ধারণার উপর নির্ভর করে যা রচনা করে।
হে আল্লাহ ! মানুষেরা যা নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত, আমাদেরকে সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
সমাপ্ত