hadith book logo

নবী ﷺ এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি

লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন ‌আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

দু’ সাজদার মাঝখানে বসা ও তার পদ্ধতি

১০. আল্লাহু আকবার বলে (সাজদাহ থেকে) মাথা উঠাবে। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান (উরু) ও হাঁটুর উপর রাখবে এবং নিম্নের দো‘আটি বলবে।

» رَبِّ اغْفِرْلِيْ، وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَعَافِنِيْ وَاجْبُرْنِيْ «

উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী, ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী ওয়া আ’ফিনী ওয়াজবুরনী।

“হে রব্ব আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হিদায়েত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে সুস্থ্যতা দান কর এবং আমার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ কর।”

আর এ বৈঠকে ধীর স্থির থাকবে [যাতে প্রতিটি হাড়ের জোর তার নিজস্ব স্থানে ফিরে যেতে পারে, রুকুর পরের ন্যায় স্থির দাঁড়ানোর মতো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পরে ও দু’সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে স্থিরতা অবলম্বন করতেন।]।

১১. আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় সাজদাহ করবে এবং দ্বিতীয় সাজদায় তাই করবে প্রথম সাজদায় যা করেছিল।

১২. সাজদাহ থেকে আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠাবে। ক্ষণিকের জন্য বসবে, যেভাবে উভয় সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে বসেছিল। এ ধরনের পদ্ধতিতে বসাকে “জলসায়ে ইসতেরাহা” বা আরামের বৈঠক বলা হয়। আলেমদের দু’টি মতের মধ্যে অধিক সহীহ মতানুসারে এ ধরনের বসা মুস্তাহাব এবং তা ছেড়ে দিলে কোনো দোষ নেই। এ বসা “জলসায়ে ইস্তেরাহা”তে পড়ার জন্য কোনো যিকির বা দো‘আ নেই।

অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য যদি সহজ হয় তাহলে উভয় হাঁটুতে ভর করে উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু কষ্ট হলে মাটিতে ভর করে দাঁড়াবে।

এরপর (প্রথমে) সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য কোনো সহজ সূরা পড়বে। তারপর প্রথম রাকাতে যেভাবে করেছে ঠিক সেভাবেই দ্বিতীয় রাকাতেও করবে [মুক্তাদী তার ইমামের পূর্বে কোনো কাজ করা জায়েয নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এ রকম করা থেকে সতর্ক করেছেন। ইমামের সাথে সাথে (একই সঙ্গে) করা মাকরূহ। সুন্নাত হলো যে, মুক্তাদীর প্রতিটি কাজ কোনো শিথিলতা না করে ইমামের আওয়াজ শেষ হওয়ার সাথে হবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইমাম এই জন্যই নির্ধারণ করা হয়, যাতে তাকে অনুসরণ করা হয়, তার প্রতি তোমরা ইখতেলাফ করবে না। সুতরাং ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবে তোমরাও আল্লাহু আকবার বলবে এবং যখন তিনি রুকু করবেন তোমরাও রুকু করবে এবং তিনি যখন “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ”বলবেন তখন তোমরা “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ”বলবে আর ইমাম যখন সাজদাহ করবেন তোমরাও সাজদাহ করবে।”[সহীহ বুখারী ও মুসলিম]]।