hadith book logo

মদীনাতুন্নবীর যিয়ারত

লেখকঃ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে কি?

পূর্ববর্তী আলেমগণের কিতাবে রাসূল (ﷺ) এর কবর যিয়ারত উদ্দেশ্যে সফর বৈধতা সম্পর্কে কোনো বিষয় পাওয়া যায় না বরং ইহা এমন আলোচনা যার উৎস কৃত্রিম ভালবাসা, হটকারিতা ও শরীয়তের সীমালঙ্ঘন। এটা এমন কোনো বিষয় নয় যার স্বতন্ত্র আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ সম্পর্কে পরবর্তী আলেমগণ কিছু আলোচনা করেছেন। তবে আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট যার উপর এই উম্মতের পূর্বসূরীগণ ও ইমামগণ আছেন।

উল্লেখ্য মদীনাতুন্নবীতে যে যাবে সে একমাত্র মসজিদের উদ্দেশ্যে যাবে। যেহেতু মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করার বৈধতা আছে। চাই সেখানে কবর থাকুক বা না থাকুক। অতঃপর সে কবরের নিকটে আসবে এবং শরীয়ত অনুযায়ী যিয়ারত করবে। যেমন ইসলামী শহরগুলিতে সাধারণ মুসলিমদের কবর যিয়ারত করা হয়, উপদেশ গ্রহণ ও কবরবাসীর জন্য দো‘আর উদ্দেশ্যে। যে শরীয়াতের বর্ণনা নিয়ে গবেষণা করবে সে অবগত হবে যে, মসজিদে নববীর দর্শন ও সেখানে সালাত আদায় হচ্ছে অনুমোদিত এবং যে এর বিপরীত দাবী করবে সে প্রমান উপস্থাপন করবে। তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, রাসূল (ﷺ) এর কবর দর্শনের উদ্দেশ্যে সফর মুস্তাহাব বা ওয়াজিব। তাহলে প্রমাণ কোথায়? সাহাবায়ে কেরাম বা তাবে‘ঈগণ কি এমনটা করেছেন? এ জন্যেই ইমাম মালেক (র.) এই ধরনের কথা বলাকে অপছন্দ করেছেন মুওয়াত্তা কিতাবে উল্লেখ করেছেন। রাসূল (ﷺ) বলেন :

«اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد، إشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبورأنبيائهم مساجد»

হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে মূর্তি তুল্য করবেন না যার উপাসনা করা হয়। আল্লাহ ঐ জাতির উপর কঠোর রাগান্বিত হয়েছেন যারা স্বীয় নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ১/১৭২]

অতএব, প্রত্যেক মুসলিমের শরীয়ত অনুযায়ী চলা কর্তব্য এবং রাসূল (ﷺ) এর অনুসরণে সচেষ্ট থাকা, তার সুন্নাত কে গোপনে ও প্রকাশ্যে মজবুতভাবে আকড়ে ধরা, তাকে ভালবাসা ও সম্মান করা এবং যারা তাকে ভালবাসে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার আর শত্রুতা পোষনকারীদের সঙ্গে শত্রুতা রাখা কর্তব্য। জানা উচিত, তার অনুসরণ ব্যতীত আল্লাহ তাআলা পর্যন্ত পৌছা সম্ভব নয়, অধিকাংশ ইমাম প্রমাণ করেছেন যে, রাসূল (ﷺ) এর কবর যিয়ারতের ফযিলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ ভিত্তিহীন। যা দ্বারা প্রমাণ উপস্থান করা উপযুক্ত নয় এবং উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রন্থকার তা বর্ণনাও করেন নি।