hadith book logo

মদীনাতুন্নবীর যিয়ারত

লেখকঃ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

৩। তার (ﷺ) থেকে দো‘আ ও ক্ষমা প্রার্থনার প্রত্যাশী হওয়া

যিয়ারতকারীর জন্য রাসূল আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে এই দাবী তার নিকট করা যাবে না। কারণ মৃত্যুর সাথে সাথে এই ক্ষমতা তাঁর আর নেই। তিনি বলেন :

«إذا مات ابن آدم انقطع عنه عمله»

মানুষ মারা গেলে তার আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। [মুসলিম-৪২২৩]

তবে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বানী- রাসূলের জীবদ্দশায় কার্যকর ছিল।

﴿ وَلَوۡ أَنَّهُمۡ إِذ ظَّلَمُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ جَآءُوكَ فَٱسۡتَغۡفَرُواْ ٱللَّهَ وَٱسۡتَغۡفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُواْ ٱللَّهَ تَوَّابٗا رَّحِيمٗا ﴾ [ النساء : ٦٤ ]

“তারা যখন নিজেদের অনিষ্ট করেছে, তখন যদি তারা আপনার কাছে এসে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও যদি তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তাহলে অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী ও মেহেরবানরূপে পেত।” [সুরা নিসা : ৬৪]

এই আয়াত তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দ্বারা ক্ষমা চাওয়ার উপর প্রমাণ হবে না। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তার বাণী إذ ظلموا এর মধ্যে إذ শব্দ ব্যবহার করেছেন; শব্দ إذا ব্যবহার করেন নি। আর إذ শব্দ অতীত কালের ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- ভবিষ্যৎ কালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বস্তুত: উক্ত আয়াত তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ, যারা রাসূলের জীবদ্দশায় ছিল। অতএব, তাঁর মৃত্যুর পর অন্য কারো জন্য তা প্রযোজ্য হবে না।

অতএব, এ বিষয়গুলো রাসূল (ﷺ) ও তার দুই সাথীর কবর যিয়ারতের সময় মেনে চলা উচিৎ। এসকল নীতিমালা বিশেষভাবে পুরুষদের জন্য। নারীদের জন্য উত্তম হলো, তারা রাসূলের কবর ও অন্য কারো কবর যিয়ারত করবে না। আবূ হুরায়রা রা. বলেন রাসূল (ﷺ) কবর যিয়ারতকারীনীকে অভিশাপ দিয়েছেন। [তিরমিযী: ৩২০]