১
মাবরুর হজ
লেখকঃ মুহাম্মদ ইবন জামীল যাইনু • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
হজ ও ওমরার ফযীলত
১-আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٩٧ ﴾ [ ال عمران : ٩٧ ]
“সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফুরী করে, তবে আল্লাতো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]
২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ»
“এক ওমরা হতে অন্য ওমরা, এ দুয়ের মাঝে (সঙ্ঘটিত পাপের) জন্য কাফ্ফারা। আর মাবরূর হজের বিনিময় জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৩।]
৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه»
“যে হজ করল এবং শরী‘আত অনুমতি দেয় না এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত রইল, যৌনস্পর্শ রয়েছে এমন কাজ ও থেকেও বিরত থাকল, সে তার যাবতীয় পাপ থেকে মাতৃ-গর্ভ হতে ভূমিষ্ট হওয়ার দিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে এল”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৫০, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৭১৩৬, আল্লামা শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
৪ তিনি আরও বলেছেন,
«خذوا عني مناسككم»
“তোমরা তোমাদের হজের মানাসিক (তথা বিধি-বাধান) আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৯৫২৪।]
৫- হজ ও ওমরার যাবতীয় ব্যয় হালাল মাল হতে হওয়া আবশ্যক। যাতে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا»
“নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ভিন্ন কবুল করেন না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৫।]
৬- হজ মুসলিমদের জন্য একটি মহান মিলনমেলা। এর মাধ্যমে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দের মাঝে পরিচয় ঘটে, হৃদ্যতা বৃদ্ধি পায়। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমস্যাদি সমাধানের রাস্তা প্রশস্ত হয়। পার্থিব ও ধর্মীয় কল্যাণ লাভে সমর্থ হয়।
৭- ওমরার জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট করা নেই। বছরের যে কোনো সময়ই তা সম্পাদন করা যায়। তবে রমজান মাসে সম্পাদন করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«عُمرة في رمضان تعدل حجة»
“রমদানে সম্পাদিত ওমরা হজের সমান”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৫৬।]
৮- মসজিদুল হারামে সম্পাদিত সালাত অন্যস্থানে সম্পাদিত সালাত হতে এক লক্ষগুণ বেশি উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا المَسْجِدَ الحَرَامَ»
“আমার এই মসজিদে (নববী) সম্পাদিত সালাত কা‘বা ব্যতীত অন্য সকল মসজিদের সালাত হতে এক হাজার গুণ বেশি উত্তম”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯৪।]
তিনি আরও বলেন,
«وصلاة في المسجد الحرام أفضل من صلاة في مسجدي هذا بمائة صلاة»
“আর মসজিদুল হারামে সম্পাদিত সালাত আমার এই মসজিদে সম্পাদিত সালাত হতে একশ গুণ বেশি উত্তম”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪১৩, আলবানী রহ. সমদটিকে দয়ীফ বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৬১১৭, আল্লামা শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে সহীহ বলেছেন।]
এক কথায় হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন। দুনিয়া ও আখিরাত ব্যাপী রয়েছে তার বহুবিধ কল্যাণ ও উপকারিতা। হে প্রিয় ভ্রাতৃবৃন্দ, সামর্থ্য থাকলে পাপী হয়ে মারা যাওয়ার পূর্বে তা সম্পাদন করে নিন। আর অশ্লীলতা, পাপাচার, ঝগড়া-বিবাদ ও যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকুন।
﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٩٧ ﴾ [ ال عمران : ٩٧ ]
“সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফুরী করে, তবে আল্লাতো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]
২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ»
“এক ওমরা হতে অন্য ওমরা, এ দুয়ের মাঝে (সঙ্ঘটিত পাপের) জন্য কাফ্ফারা। আর মাবরূর হজের বিনিময় জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৩।]
৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه»
“যে হজ করল এবং শরী‘আত অনুমতি দেয় না এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত রইল, যৌনস্পর্শ রয়েছে এমন কাজ ও থেকেও বিরত থাকল, সে তার যাবতীয় পাপ থেকে মাতৃ-গর্ভ হতে ভূমিষ্ট হওয়ার দিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে এল”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৫০, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৭১৩৬, আল্লামা শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
৪ তিনি আরও বলেছেন,
«خذوا عني مناسككم»
“তোমরা তোমাদের হজের মানাসিক (তথা বিধি-বাধান) আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৯৫২৪।]
৫- হজ ও ওমরার যাবতীয় ব্যয় হালাল মাল হতে হওয়া আবশ্যক। যাতে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا»
“নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ভিন্ন কবুল করেন না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৫।]
৬- হজ মুসলিমদের জন্য একটি মহান মিলনমেলা। এর মাধ্যমে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দের মাঝে পরিচয় ঘটে, হৃদ্যতা বৃদ্ধি পায়। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমস্যাদি সমাধানের রাস্তা প্রশস্ত হয়। পার্থিব ও ধর্মীয় কল্যাণ লাভে সমর্থ হয়।
৭- ওমরার জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট করা নেই। বছরের যে কোনো সময়ই তা সম্পাদন করা যায়। তবে রমজান মাসে সম্পাদন করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«عُمرة في رمضان تعدل حجة»
“রমদানে সম্পাদিত ওমরা হজের সমান”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৫৬।]
৮- মসজিদুল হারামে সম্পাদিত সালাত অন্যস্থানে সম্পাদিত সালাত হতে এক লক্ষগুণ বেশি উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا المَسْجِدَ الحَرَامَ»
“আমার এই মসজিদে (নববী) সম্পাদিত সালাত কা‘বা ব্যতীত অন্য সকল মসজিদের সালাত হতে এক হাজার গুণ বেশি উত্তম”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯৪।]
তিনি আরও বলেন,
«وصلاة في المسجد الحرام أفضل من صلاة في مسجدي هذا بمائة صلاة»
“আর মসজিদুল হারামে সম্পাদিত সালাত আমার এই মসজিদে সম্পাদিত সালাত হতে একশ গুণ বেশি উত্তম”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪১৩, আলবানী রহ. সমদটিকে দয়ীফ বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৬১১৭, আল্লামা শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে সহীহ বলেছেন।]
এক কথায় হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন। দুনিয়া ও আখিরাত ব্যাপী রয়েছে তার বহুবিধ কল্যাণ ও উপকারিতা। হে প্রিয় ভ্রাতৃবৃন্দ, সামর্থ্য থাকলে পাপী হয়ে মারা যাওয়ার পূর্বে তা সম্পাদন করে নিন। আর অশ্লীলতা, পাপাচার, ঝগড়া-বিবাদ ও যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকুন।