১
মাবরুর হজ
লেখকঃ মুহাম্মদ ইবন জামীল যাইনু • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
হজ ও ওমরার কতিপয় আদব
১- সর্ব প্রথম নিয়ত পরিশুদ্ধ করুন। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই এ মহান কাজটি আপনি সম্পাদন করছেন মর্মে নিশ্চিত হোন। এ ছাড়া যাবতীয় ইচ্ছ পরিহার করুন। এবং হজ শুরুর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় বলুন।
«اللَّهُمَّ حَجَّةٌ لَا رِيَاءَ فِيهَا، وَلَا سُمْعَةَ»
“হে আল্লাহ! এ এমন হজ, যাতে কোনো প্রদর্শনেচ্ছা বা প্রচারেচ্ছা নেই”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৮৯০, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
২- আপনার হজ যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পাদিত হজের অনুকরণে হয় সে জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা ও সাধনা করুন। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خذوا عني مناسككم»
“তোমরা তোমাদের হজের মানাসিক (তথা বিধি-বাধান) আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৯৫২৪।]
৩- আপনার হজ কবুল হবে সে আশায় অশ্লীলতা, পাপাচার, অহেতুক ঝগড়া-বিবাদ হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
৪- আল্লাহ ব্যতীত মৃত কারো নিকট সাহায্য প্রার্থনা-ফরিয়াদ করা হতে একেবারে বিরত থাকুন। কারণ এটি শির্ক, যা হজসহ যাবতীয় আমলকে নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥﴾ [ الزمر : ٦٤ ]
“তুমি যদি শির্ক কর, তাহলে অবশ্যই তোমার আমল নষ্ট হয়ে যাবে। আর তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৪]
৫- তাওয়াফ, সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপসহ যাবতীয় বিধান সম্পাদন কালে অন্য হজকারীদের প্রতি সদয় থাকুন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখুন। কনোভাবেই তাদের কষ্ট দেবেন না। তাদের কষ্ট হয় এমন সব পন্থা-পদ্ধতি পরিহার করুন। উচ্চ আওয়াজে দো‘আ, যিকির করে অপরের মনযোগ নষ্ট করবেন না। বিশেষ করে সম্মিলিত দো‘আ একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
৬- হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করার জন্য অযথা ভিড় সৃষ্টি করে লোকদের কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকুন। সেখানে অবস্থান করে তাওয়াফকে কষ্টসঙ্কুল করে তুলবেন না।
৭- তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ চলা কালে সালাতের ইকামত হলে তাওয়াফ ও সাঈ বন্ধ রেখে সালাতে অংশগ্রহণ করুন। সাঈ চালু রেখে জামাত ত্যাগ করবেন না।
৮- মক্কায় অবস্থান কালে জামাতের প্রতি অধিক যত্নবান থাকবেন। বিশেষ করে হারামের জামাতের প্রতি।
৯- সম্মুখে যাবার জন্য মুসল্লিদের গর্দান মাড়িয়ে তাদের কষ্ট দেবেন না। যেখানে জায়গা পাবেন, বসে পড়বেন।
১০- উভয় হারামেও সালাতরত মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাতায়াত করবেন না। এটি শয়তানের কাজ। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা।
১১- মক্কায় অবস্থান কালে বেশি বেশি তাওয়াফ করুন। কারণ তাতে অনেক সাওয়াব রছেয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«من طاف بالبيت سبعاً، وصلى ركعتين، كان كعتق رقبة»
“যে ব্যক্তি বায়তুল্লহকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে তাওয়াফ করবে এবং দু’রাকাত সালাত আদায় করবে। তার এ কাজটি একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হবে”। [শু‘আবুল ঈমান লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৩৭৫১।]
অর্থাৎ একটি তাওয়াফের পরিবর্তে তাকে একটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব দান করা হবে।
১২- কুরবানীর দিন আসার পূর্বে আপনার হাদী জবাই করবেন না। আর তার মূল্য সদকা করাও জায়েয হবে না।
১৩- আপনার হজ কবুল হবার নিদর্শন হলো, আপনার আকিদা, ইবাদত, মুয়ামালা, স্বভাব-চরিত্র এক কথায় যাবতীয় কাজে পরিবর্তন সাধন হওয়া। পূর্বের অবস্থা থেকে আরো উন্নত হয়ে যাওয়া। এজন্য আপনি এই দো‘আ করতে পারেন।
﴿رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ١٢٧﴾ [ البقرة : ١٢٧ ]
“হে আমাদের রব, আমাদের থেকে কবুল করুন। আপনিতো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৭]
«اللَّهُمَّ حَجَّةٌ لَا رِيَاءَ فِيهَا، وَلَا سُمْعَةَ»
“হে আল্লাহ! এ এমন হজ, যাতে কোনো প্রদর্শনেচ্ছা বা প্রচারেচ্ছা নেই”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৮৯০, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
২- আপনার হজ যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পাদিত হজের অনুকরণে হয় সে জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা ও সাধনা করুন। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خذوا عني مناسككم»
“তোমরা তোমাদের হজের মানাসিক (তথা বিধি-বাধান) আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৯৫২৪।]
৩- আপনার হজ কবুল হবে সে আশায় অশ্লীলতা, পাপাচার, অহেতুক ঝগড়া-বিবাদ হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
৪- আল্লাহ ব্যতীত মৃত কারো নিকট সাহায্য প্রার্থনা-ফরিয়াদ করা হতে একেবারে বিরত থাকুন। কারণ এটি শির্ক, যা হজসহ যাবতীয় আমলকে নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥﴾ [ الزمر : ٦٤ ]
“তুমি যদি শির্ক কর, তাহলে অবশ্যই তোমার আমল নষ্ট হয়ে যাবে। আর তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৪]
৫- তাওয়াফ, সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপসহ যাবতীয় বিধান সম্পাদন কালে অন্য হজকারীদের প্রতি সদয় থাকুন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখুন। কনোভাবেই তাদের কষ্ট দেবেন না। তাদের কষ্ট হয় এমন সব পন্থা-পদ্ধতি পরিহার করুন। উচ্চ আওয়াজে দো‘আ, যিকির করে অপরের মনযোগ নষ্ট করবেন না। বিশেষ করে সম্মিলিত দো‘আ একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
৬- হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করার জন্য অযথা ভিড় সৃষ্টি করে লোকদের কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকুন। সেখানে অবস্থান করে তাওয়াফকে কষ্টসঙ্কুল করে তুলবেন না।
৭- তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ চলা কালে সালাতের ইকামত হলে তাওয়াফ ও সাঈ বন্ধ রেখে সালাতে অংশগ্রহণ করুন। সাঈ চালু রেখে জামাত ত্যাগ করবেন না।
৮- মক্কায় অবস্থান কালে জামাতের প্রতি অধিক যত্নবান থাকবেন। বিশেষ করে হারামের জামাতের প্রতি।
৯- সম্মুখে যাবার জন্য মুসল্লিদের গর্দান মাড়িয়ে তাদের কষ্ট দেবেন না। যেখানে জায়গা পাবেন, বসে পড়বেন।
১০- উভয় হারামেও সালাতরত মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাতায়াত করবেন না। এটি শয়তানের কাজ। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা।
১১- মক্কায় অবস্থান কালে বেশি বেশি তাওয়াফ করুন। কারণ তাতে অনেক সাওয়াব রছেয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«من طاف بالبيت سبعاً، وصلى ركعتين، كان كعتق رقبة»
“যে ব্যক্তি বায়তুল্লহকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে তাওয়াফ করবে এবং দু’রাকাত সালাত আদায় করবে। তার এ কাজটি একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হবে”। [শু‘আবুল ঈমান লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৩৭৫১।]
অর্থাৎ একটি তাওয়াফের পরিবর্তে তাকে একটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব দান করা হবে।
১২- কুরবানীর দিন আসার পূর্বে আপনার হাদী জবাই করবেন না। আর তার মূল্য সদকা করাও জায়েয হবে না।
১৩- আপনার হজ কবুল হবার নিদর্শন হলো, আপনার আকিদা, ইবাদত, মুয়ামালা, স্বভাব-চরিত্র এক কথায় যাবতীয় কাজে পরিবর্তন সাধন হওয়া। পূর্বের অবস্থা থেকে আরো উন্নত হয়ে যাওয়া। এজন্য আপনি এই দো‘আ করতে পারেন।
﴿رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ١٢٧﴾ [ البقرة : ١٢٧ ]
“হে আমাদের রব, আমাদের থেকে কবুল করুন। আপনিতো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৭]