hadith book logo

দো‘আ-মোনাজাত কখন ও কীভাবে

লেখকঃ শাইখ ফায়সাল ইবন আলী আল-বা‘দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১

১২- দো‘আয় উচ্চস্বর পরিহার করা

অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা দো‘আ করার সময় আওয়াজ উঁচু করেন বা চিৎকার করে দো‘আ করেন। এটা দো‘আর আদবের পরিপন্থী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعٗا وَخُفۡيَةًۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ ٥٥﴾ [ الاعراف : ٥٥ ]

“তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালকের কাছে দো‘আ কর। তিনি সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৫]

এ আয়াতে গোপনে দো‘আ করতে বলা হয়েছে এবং দো‘আয় সীমালংঘন সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রায় সকল তাফসীরবিদের অভিমত হলো, এ আয়াতে সীমালংঘনকারী বলতে তাদের বুঝানো হয়েছে যারা উচ্চ আওয়াযে দো‘আ করে।

আল্লাহ তা‘আলা নবী যাকারিয়া ‘আলাইহিস সালামের প্রশংসায় বলেছেন:

﴿إِذۡ نَادَىٰ رَبَّهُۥ نِدَآءً خَفِيّٗا ٣﴾ [ مريم : ٣ ]

“যখন সে তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল নিভৃতে”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ০৩]

এ আয়াতে গোপনে দো‘আ করতে বলা হয়েছে এবং দো‘আতে সীমালংঘন থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

অপর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا، إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا، وَهُوَ مَعَكُمْ»

“হে মানব সকল! তোমরা নিজেদের ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা কোনো বধির বা অসুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তোমরাতো ডাকছ এমন সত্তাকে যিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটে এবং তোমাদেরই সঙ্গে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৪]

যখন একদল সাহাবী উচ্চ আওয়াজে দো‘আ করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন।