hadith book logo

দো‘আ-মোনাজাত কখন ও কীভাবে

লেখকঃ শাইখ ফায়সাল ইবন আলী আল-বা‘দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

৯- সিয়ামপালনকারী, মুসাফির, মজলুমের দো‘আ এবং সন্তানের বিরুদ্ধে মাতা-পিতার দো‘আ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ : دَعْوَةُ المَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ المُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ» .

“তিনটি দো‘আ কবুল হবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্তানের বিপক্ষে মাতা-পিতার দো‘আ, মুসাফিরের দো‘আ এবং মযলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দো‘আ”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৪৮]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু‘আয ইবন জাবালকে ইয়েমেনে গভর্নর করে পাঠান তখন তাকে কয়েকটি নির্দেশ দেন। তার একটি ছিল:

«اتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ، فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ»

“সাবধান থাকবে মযলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দো‘আ হতে। জেনে রেখ! তার দো‘আ ও আল্লাহর মধ্যে কোনো অন্তরায় নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯]

মযলুমের বদ দো‘আ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে সর্বদা। এর অর্থ এটা নয় যে, মজলুমকে দো‘আ করতে দেওয়া যাবে না। বরং রাসূলের বাণীর উদ্দেশ্য হলো, কখনো কাউকে সামান্যতম অত্যাচার করা যাবে না। নিজের কাজ-কর্ম, কথা দ্বারা কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এটার প্রতি সতর্ক থাকা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসের উদ্দেশ্য। যদি আমার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সে হবে মযলুম বা অত্যাচারিত। সে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দো‘আ করলে তা অবশ্যই কবুল হবে। এটা ভয় করে চলতে পারলে এ হাদীস স্বার্থক হবে আমাদের জন্য।