hadith book logo

ঈমানের মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা

লেখকঃ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উছাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

ঈমানের তৃতীয় ভিত্তি: আসমানী কিতাবসমূহের ওপর ঈমান

কিতাব শব্দটি একবচন, অর্থ লেখা। শব্দটির বহুবচন ‘কুতুবুন’; যা দ্বারা ‘মাকতূব’ বা লিখিত গ্রন্থ বুঝায়।

আর এখানে ‘কিতাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হবে সেসব কিতাবসমূহ যা আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি জগতের জন্য হেদায়াত ও রহমতস্বরূপ স্বীয় নবী রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তারা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর প্রদর্শিত সৌভাগ্যের পথে চলা দ্বারা যাবতীয় কল্যাণ ও সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে।

 কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার মধ্যে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১। সর্বপ্রথম এ ঈমান আনয়ন করতে হবে যে, এসব গ্রন্থাবলী মহান আল্লাহর নিকট থেকেই যথাযথভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। (তা মানব রচিত গ্রন্থ নয় অনুরূপভাবে তা কোনো শব্দ বা অর্থের অনুবাদ নয়।)

২। নির্দিষ্ট নামে ঐ সব কিতাবের প্রতি ঈমান স্থাপন করা, যেগুলোর নাম আল্লাহ তা‘আলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন, আল-ক্বুরআন-মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তওরাত অবতীর্ণ হয়েছে মূসা আলাইহিস সালামের ওপর, যাবুর অবতীর্ণ হয়েছে দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর এবং ইঞ্জীল ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর।

আর যে সব আসমানী কিতাবের নাম আমাদের জানা নেই, তার প্রতি সার্বিক ভাবে ঈমান রাখা।

৩। আসমানী গ্রন্থসমূহে পূর্ববর্তী নবী রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মত, শরী‘আত এবং তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে যে সব বিশুদ্ধ বর্ণনা রয়েছে, সেগুলোর প্রতি ঈমান স্থাপন করা। যেমন, কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহ এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের অপরিবর্তিত অথবা অবিকৃত সংবাদসমূহের ওপর ঈমান রাখা।

৪। আসমানী গ্রন্থসমূহে বর্ণিত এমন আদেশসমূহের ওপর আমল করা যা রহিত হয় নি এবং ঐ সব হুকুমের হিকমত আমাদের জানা থাকুক বা না-ই থাকুক সর্বাবস্থায় মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা অনুভব করা ছাড়া হৃদয়ের সন্তুষ্টি ও আনুগত্যের সাথে তা মেনে নেওয়া। আর কুরআনুল করীমের দ্বারা পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থসমূহ মানসূখ বা রহিত করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন,

﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمُهَيۡمِنًا عَلَيۡهِۖ﴾ [ المائ‍دة : ٤٨ ]

“আর আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্য গ্রন্থ, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী।” (অর্থাৎ যথাযথ সত্য-মিথ্যা নির্ধারণকারী)। [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৮]

একারণে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের কোনো হুকুমের ওপর আমল করা জায়েয হবে না, একমাত্র ঐসব হুকুম ব্যতীত যা বিশুদ্ধ ভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং কুরআনের দ্বারা তা প্রতিপাদিত ও বলবৎ রাখা হয়েছে।

আসমানী কিতাবসমূহের ওপর ঈমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রথম: বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অশেষ রহমত ও অনুগ্রহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, কেননা তিনি প্রত্যেক জাতির প্রতি তাদের হিদায়াতের উদ্দেশ্যে কিতাব পাঠিয়েছেন।

দ্বিতীয়: শরী‘আত প্রবর্তনে আল্লাহ তা‘আলার হিকমত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, যেহেতু তিনি প্রতিটি জাতির প্রতি তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যশীল শরী‘আত প্রবর্তন করে পাঠিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿لِكُلّٖ جَعَلۡنَا مِنكُمۡ شِرۡعَةٗ وَمِنۡهَاجٗاۚ﴾ [ المائ‍دة : ٤٨ ]

“আমরা তোমাদের -প্রতিটি সম্প্রদায়ের- জন্য শরী‘আত ও জীবন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি।” [সূরা আল-মায়িদাহ-৪৮]

তৃতীয়: উপরোক্ত নি‘আমতসমূহের জন্য আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া জ্ঞাপন।