১
মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন
লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
৯- জানাযা সালাত আদায় পদ্ধতি
ঘ- জানাযা সালাত আদায় করা ফরযে কেফায়া। সুন্নাত হলো, ইমাম পুরুষের মাথা বরাবর দাঁড়াবে। আর মহিলার মধ্যবর্তী স্থান বরাবর দাঁড়াবে। সামুরা ইবন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَصَلَّى عَلَى أُمِّ كَعْبٍ، مَاتَتْ وَهِيَ نُفَسَاءُ، «فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلصَّلَاةِ عَلَيْهَا وَسَطَهَا»
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে জানাযার সালাত পড়লাম। তিনি উম্মু কা‘আবের জানাযা পড়ছিলেন। তিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়ার সময়ে তার লাশের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬৪।]
ঙ- চার তাকবীরের সাথে জানাযা আদায় করতে হয়। আবূ হুরায়ারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَى لِلنَّاسِ النَّجَاشِيَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى، وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ»
“যেদিন নাজ্জাশীর বাদশাহ মারা গেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের তার মৃত্যু সংবাদ শুনালেন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে সালাতের স্থানে গিয়ে চারটি তাকবীর উচ্চারণ করলেন (জানাযা পড়লেন)”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৫১।]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ : نَعَى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّجَاشِيَ صَاحِبَ الْحَبَشَةِ، فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَقَالَ : «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ : وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ، «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفَّ بِهِمْ بِالْمُصَلَّى، فَصَلَّى فَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ»
“আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর মৃত্যুর খবর জানালেন, যেদিন তিনি মারা গেলেন, তারপর বললেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা কর’। ইবন শিহাব বলেন, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মুসাল্লা বা জানাযা ও ঈদের সালাত আদায়ের স্থানে কাতার করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তার ওপর চার তাকবীর দিয়ে সালাত শেষ করলেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৫১।]”
চ- প্রথম তাকবীর দিয়ে আঊযুবিল্লাহ্… বিসমিল্লাহ্… পাঠ করে সূরা আল-ফাতিহা তারপর ছোট কোনো সূরা পাঠ করবে। দ্বিতীয় তাকবীর দিয়ে দুরূদে ইবরাহীম (যা সালাতে পাঠ করতে হয়) পাঠ করবে। এরপর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে জানাযার জন্য বর্ণিত যে কোনো দো‘আ পাঠ করবে। নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করা যেতে পারে:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا، وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا، وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ»
“ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবিত ও মৃতদের ক্ষমা করুন। আমাদের ছোট ও বড়, পুরুষ ও স্ত্রী, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ঈমানের ওপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দেন, তাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের বিনিময় হতে মাহরূম করবেন না এবং এরপর আর আমাদের গুমরাহ করবেন না”। [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩২০১, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪৯৮।]
অথবা এ দো‘আটিও পড়া যেতে পারে:
«اللهُمَّ، اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ - أَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ -»
“হে আল্লাহ! তাকে মাফ করে দাও ও তার প্রতি দয়া কর। তাকে নিরাপদ রাখ ও তার ত্রুটি মার্জনা কর। তাকে উত্তম সামগ্রী দান কর ও তার প্রবেশস্থলকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে মুছে দাও এবং গুনাহ থেকে এরূপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপ সাদা কাপর ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। তাকে তার ঘরকে উত্তম ঘরে পরিণত করে দাও, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান কর, তার স্ত্রীর তুলনায় উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬৩।]
অথবা এ দো‘আও পড়া যায়:
«اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ، فَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ - قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ : مِنْ ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ - وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَمْدِ، اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ »
“ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মায়। আপনি তাকে কবরের ‘আযাব থেকে রক্ষা করুন”। বর্ণনাকারী আবদুর রহমান এরূপ দো‘আর কথা বলেছেন, “এ ব্যক্তি আপনার যিম্মায় এবং আপনার প্রতিবেশী। আপনি একে কবরের আযাবের ফিতনা ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। আপনি ওয়াদা পূরণকারী এবং প্রশংসার প্রতীক। ইয়া আল্লাহ! আপনি একে ক্ষমা করুন এবং তার ওপর রহম করুন। আপনি মহাক্ষমাশীল, মেহেরবান”। [আবু দাঊদ, হাদীস নং ৩২০২। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
ছ- এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সামান্য একটু চুপ থেকে ডান দিকে সালাম ফিরাবে। বাম দিকেও সালাম ফেরাতে পারে। কারো যদি জানাযার কিছু অংশ ছুটে যায়, তবে সে ইমামের অনুসরণ করবে। আর ইমামের সালাম ফিরানোর পর লাশ উঠানোর আগে যদি সম্ভব হয় তবে বাকী তাকবীর কাযা আদায় করে নিবে। সম্ভব না হলে ইমামের সাথেই সালাম ফিরিয়ে দিবে।
«صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَصَلَّى عَلَى أُمِّ كَعْبٍ، مَاتَتْ وَهِيَ نُفَسَاءُ، «فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلصَّلَاةِ عَلَيْهَا وَسَطَهَا»
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে জানাযার সালাত পড়লাম। তিনি উম্মু কা‘আবের জানাযা পড়ছিলেন। তিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়ার সময়ে তার লাশের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬৪।]
ঙ- চার তাকবীরের সাথে জানাযা আদায় করতে হয়। আবূ হুরায়ারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَى لِلنَّاسِ النَّجَاشِيَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى، وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ»
“যেদিন নাজ্জাশীর বাদশাহ মারা গেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের তার মৃত্যু সংবাদ শুনালেন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে সালাতের স্থানে গিয়ে চারটি তাকবীর উচ্চারণ করলেন (জানাযা পড়লেন)”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৫১।]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ : نَعَى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّجَاشِيَ صَاحِبَ الْحَبَشَةِ، فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَقَالَ : «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ : وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ، «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفَّ بِهِمْ بِالْمُصَلَّى، فَصَلَّى فَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ»
“আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর মৃত্যুর খবর জানালেন, যেদিন তিনি মারা গেলেন, তারপর বললেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা কর’। ইবন শিহাব বলেন, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মুসাল্লা বা জানাযা ও ঈদের সালাত আদায়ের স্থানে কাতার করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তার ওপর চার তাকবীর দিয়ে সালাত শেষ করলেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৫১।]”
চ- প্রথম তাকবীর দিয়ে আঊযুবিল্লাহ্… বিসমিল্লাহ্… পাঠ করে সূরা আল-ফাতিহা তারপর ছোট কোনো সূরা পাঠ করবে। দ্বিতীয় তাকবীর দিয়ে দুরূদে ইবরাহীম (যা সালাতে পাঠ করতে হয়) পাঠ করবে। এরপর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে জানাযার জন্য বর্ণিত যে কোনো দো‘আ পাঠ করবে। নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করা যেতে পারে:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا، وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا، وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ»
“ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবিত ও মৃতদের ক্ষমা করুন। আমাদের ছোট ও বড়, পুরুষ ও স্ত্রী, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ঈমানের ওপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দেন, তাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের বিনিময় হতে মাহরূম করবেন না এবং এরপর আর আমাদের গুমরাহ করবেন না”। [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩২০১, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪৯৮।]
অথবা এ দো‘আটিও পড়া যেতে পারে:
«اللهُمَّ، اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ - أَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ -»
“হে আল্লাহ! তাকে মাফ করে দাও ও তার প্রতি দয়া কর। তাকে নিরাপদ রাখ ও তার ত্রুটি মার্জনা কর। তাকে উত্তম সামগ্রী দান কর ও তার প্রবেশস্থলকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে মুছে দাও এবং গুনাহ থেকে এরূপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপ সাদা কাপর ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। তাকে তার ঘরকে উত্তম ঘরে পরিণত করে দাও, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান কর, তার স্ত্রীর তুলনায় উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬৩।]
অথবা এ দো‘আও পড়া যায়:
«اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ، فَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ - قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ : مِنْ ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ - وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَمْدِ، اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ »
“ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মায়। আপনি তাকে কবরের ‘আযাব থেকে রক্ষা করুন”। বর্ণনাকারী আবদুর রহমান এরূপ দো‘আর কথা বলেছেন, “এ ব্যক্তি আপনার যিম্মায় এবং আপনার প্রতিবেশী। আপনি একে কবরের আযাবের ফিতনা ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। আপনি ওয়াদা পূরণকারী এবং প্রশংসার প্রতীক। ইয়া আল্লাহ! আপনি একে ক্ষমা করুন এবং তার ওপর রহম করুন। আপনি মহাক্ষমাশীল, মেহেরবান”। [আবু দাঊদ, হাদীস নং ৩২০২। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
ছ- এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সামান্য একটু চুপ থেকে ডান দিকে সালাম ফিরাবে। বাম দিকেও সালাম ফেরাতে পারে। কারো যদি জানাযার কিছু অংশ ছুটে যায়, তবে সে ইমামের অনুসরণ করবে। আর ইমামের সালাম ফিরানোর পর লাশ উঠানোর আগে যদি সম্ভব হয় তবে বাকী তাকবীর কাযা আদায় করে নিবে। সম্ভব না হলে ইমামের সাথেই সালাম ফিরিয়ে দিবে।