১
মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন
লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
১২- জানাযা বহনের নিয়ম
ক- হেটে চলা লোকজন জানাযার সামনে চলা সুন্নাত। তবে জানাযার পিছনে চলা মাকরূহ নয়। কেননা হাদীসে এসেছে, সালিম রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
«رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ»
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে জানাযার আগে আগে যেতে দেখেছি”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৭৯, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
ইমাম যুহুরী রহ. বলেন, সালিম রহ. তাকে বর্ণনা করেছেন যে,
«أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَمْشِي أَمَامَ الجَنَازَةِ» .
“তার পিতা (আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাযার সামনে চলতেন”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১০০৯।]
আর আরোহীর জন্য সুন্নাত হলো জানাযার পিছনে চলা। মুগীরা ইবন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ধারণা, যিয়াদের লোকেরা এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الرَّاكِبُ يَسِيرُ خَلْفَ الْجَنَازَةِ، وَالْمَاشِي يَمْشِي خَلْفَهَا، وَأَمَامَهَا، وَعَنْ يَمِينِهَا، وَعَنْ يَسَارِهَا قَرِيبًا مِنْهَا، وَالسِّقْطُ يُصَلَّى عَلَيْهِ، وَيُدْعَى لِوَالِدَيْهِ بِالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ»
“আরোহীর উচিৎ জানাযার পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করা। আর পদব্রজে গমনকারী জানাযার আগে, পিছে, ডানে ও বামে যেতে পারে এবং সাথে সাথেও চলতে পারে। গর্ভপাত হওয়ার ফলে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তার জানাযার সালাত পড়তে হবে এবং তার মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দো‘আ করা হবে”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৮০, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
তবে আরোহী ব্যক্তি জানাযার সামনে চলা মাকরূহ। কেননা সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে একটি জানাযায় বের হলাম। তখন তিনি কিছু লোককে আরোহী অবস্থায় চলতে দেখে বললেন,
«أَلَا تَسْتَحْيُونَ إِنَّ مَلَائِكَةَ اللَّهِ عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَأَنْتُمْ عَلَى ظُهُورِ الدَّوَابِّ»
“তোমাদের কি লজ্জা করে না, আল্লাহ ফিরিশতারা তো পায়ে হেটে চলছেন আর তোমরা চলছ পশুর পিঠে সাওয়ার হয়ে”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১০১২। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, এ পরিচ্ছেদে মুগীরা ইবন শু‘বা ও জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীসটি মাওকুফ সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ রহ. বলেছেন, এ বর্ণনাটি মাওকুফ হওয়াটাই বেশি সহীহ। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪৮০।]
সালাতের মধ্যে যেমন ইমামের নিকটবর্তী থাকা উত্তম তেমনি জানাযার সময়ও মাইয়্যেতের নিকটবর্তী থাকা উত্তম। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«مَنِ اتَّبَعَ جِنَازَةً فَلْيَحْمِلْ بِجَوَانِبِ السَّرِيرِ كُلِّهَا؛ فَإِنَّهُ مِنَ السُّنَّةِ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ فَلْيَتَطَوَّعْ، وَإِنْ شَاءَ فَلْيَدَعْ»
“যে ব্যক্তি লাশ বহন করে, সে যেন খাটের চারদিক ধারণ করে। কারণ, এটা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে চাইলে আরো ধরতে পারে, আর চাইলে ত্যাগও করতে পারে”। [ইবন মাজাহ, হাদীস ননহ ১৪৭৮। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]
খ- জানাযার সম্মানে দাঁড়ানো মাকরূহ। মাসউদ ইবন হাকাম আনসারী রহ. আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জানাযার ব্যাপারে বলতে শুনেছেন,
«إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ، ثُمَّ قَعَدَ» وَإِنَّمَا حَدَّثَ بِذَلِكَ لِأَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ رَأَى وَاقِدَ بْنَ عَمْرٍو قَامَ، حَتَّى وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে দাঁড়াতেন ও পরের দিকে বসে থাকতেন”। নাফে‘ ইবন জুবায়ের কথাটা এ জন্য বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওয়াকিদ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখলেন যে, তিনি লাশ নিচে রাখার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬২।]
গ- জানাযার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা, চিৎকার করা, এমনকি উচ্চস্বরে যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করাও মাকরূহ। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تُتْبَعُ الْجَنَازَةُ بِصَوْتٍ، وَلَا نَارٍ» زَادَ هَارُونُ : «وَلَا يُمْشَى بَيْنَ يَدَيْهَا»
“জানাযার পেছনে চিৎকার করতে করতে এবং আগুন নিয়ে যাবে না”। বর্ণনাকারী হারুন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ‘জানাযার আগে আগেও গমন করবে না”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৭১। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]
কায়েস ইবন আব্বাদ রহ. বলেন,
«كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْرَهُونَ رَفْعَ الصَّوْتِ عِنْدَ الْجَنَائِزِ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ জানাযার সময় উচ্চ আওয়াজ করতে অপছন্দ করতেন”। [বায়হাকী, হাদীস নং ৭১৮২, (৪/১২৪)।]
«رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ»
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে জানাযার আগে আগে যেতে দেখেছি”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৭৯, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
ইমাম যুহুরী রহ. বলেন, সালিম রহ. তাকে বর্ণনা করেছেন যে,
«أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَمْشِي أَمَامَ الجَنَازَةِ» .
“তার পিতা (আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাযার সামনে চলতেন”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১০০৯।]
আর আরোহীর জন্য সুন্নাত হলো জানাযার পিছনে চলা। মুগীরা ইবন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ধারণা, যিয়াদের লোকেরা এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الرَّاكِبُ يَسِيرُ خَلْفَ الْجَنَازَةِ، وَالْمَاشِي يَمْشِي خَلْفَهَا، وَأَمَامَهَا، وَعَنْ يَمِينِهَا، وَعَنْ يَسَارِهَا قَرِيبًا مِنْهَا، وَالسِّقْطُ يُصَلَّى عَلَيْهِ، وَيُدْعَى لِوَالِدَيْهِ بِالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ»
“আরোহীর উচিৎ জানাযার পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করা। আর পদব্রজে গমনকারী জানাযার আগে, পিছে, ডানে ও বামে যেতে পারে এবং সাথে সাথেও চলতে পারে। গর্ভপাত হওয়ার ফলে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তার জানাযার সালাত পড়তে হবে এবং তার মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দো‘আ করা হবে”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৮০, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
তবে আরোহী ব্যক্তি জানাযার সামনে চলা মাকরূহ। কেননা সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে একটি জানাযায় বের হলাম। তখন তিনি কিছু লোককে আরোহী অবস্থায় চলতে দেখে বললেন,
«أَلَا تَسْتَحْيُونَ إِنَّ مَلَائِكَةَ اللَّهِ عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَأَنْتُمْ عَلَى ظُهُورِ الدَّوَابِّ»
“তোমাদের কি লজ্জা করে না, আল্লাহ ফিরিশতারা তো পায়ে হেটে চলছেন আর তোমরা চলছ পশুর পিঠে সাওয়ার হয়ে”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১০১২। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, এ পরিচ্ছেদে মুগীরা ইবন শু‘বা ও জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীসটি মাওকুফ সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ রহ. বলেছেন, এ বর্ণনাটি মাওকুফ হওয়াটাই বেশি সহীহ। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪৮০।]
সালাতের মধ্যে যেমন ইমামের নিকটবর্তী থাকা উত্তম তেমনি জানাযার সময়ও মাইয়্যেতের নিকটবর্তী থাকা উত্তম। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«مَنِ اتَّبَعَ جِنَازَةً فَلْيَحْمِلْ بِجَوَانِبِ السَّرِيرِ كُلِّهَا؛ فَإِنَّهُ مِنَ السُّنَّةِ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ فَلْيَتَطَوَّعْ، وَإِنْ شَاءَ فَلْيَدَعْ»
“যে ব্যক্তি লাশ বহন করে, সে যেন খাটের চারদিক ধারণ করে। কারণ, এটা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে চাইলে আরো ধরতে পারে, আর চাইলে ত্যাগও করতে পারে”। [ইবন মাজাহ, হাদীস ননহ ১৪৭৮। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]
খ- জানাযার সম্মানে দাঁড়ানো মাকরূহ। মাসউদ ইবন হাকাম আনসারী রহ. আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জানাযার ব্যাপারে বলতে শুনেছেন,
«إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ، ثُمَّ قَعَدَ» وَإِنَّمَا حَدَّثَ بِذَلِكَ لِأَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ رَأَى وَاقِدَ بْنَ عَمْرٍو قَامَ، حَتَّى وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে দাঁড়াতেন ও পরের দিকে বসে থাকতেন”। নাফে‘ ইবন জুবায়ের কথাটা এ জন্য বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওয়াকিদ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখলেন যে, তিনি লাশ নিচে রাখার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬২।]
গ- জানাযার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা, চিৎকার করা, এমনকি উচ্চস্বরে যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করাও মাকরূহ। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تُتْبَعُ الْجَنَازَةُ بِصَوْتٍ، وَلَا نَارٍ» زَادَ هَارُونُ : «وَلَا يُمْشَى بَيْنَ يَدَيْهَا»
“জানাযার পেছনে চিৎকার করতে করতে এবং আগুন নিয়ে যাবে না”। বর্ণনাকারী হারুন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ‘জানাযার আগে আগেও গমন করবে না”। [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩১৭১। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]
কায়েস ইবন আব্বাদ রহ. বলেন,
«كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْرَهُونَ رَفْعَ الصَّوْتِ عِنْدَ الْجَنَائِزِ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ জানাযার সময় উচ্চ আওয়াজ করতে অপছন্দ করতেন”। [বায়হাকী, হাদীস নং ৭১৮২, (৪/১২৪)।]