hadith book logo

সূরা আন-নাবা-এর তাফসীর

লেখকঃ আবু আবদুল্লাহ কুরতুবী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

কিয়ামতের দিন কাফিরদের অসহায়ত্ব:

আল্লাহ তা‘আলা যখন বললেন, وَيَقُولُ ٱلۡكَافِرُ “আর কাফির বলবে” তখন বুঝা যায় যে, তিনি المرء দ্বারা মুমিনগণের উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, المرء দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য উবাই ইবন খালফ, উকবাহ ইবন আবু আবু মু‘ঈত আর وَيَقُولُ ٱلۡكَافِرُ দ্বারা উদ্দেশ্য আবু জাহাল

কেউ বলেন, এর দ্বারা সাধারণভাবে সকলেই উদ্দেশ্য, মানুষ সেদিন তার কর্মফল প্রত্যক্ষ করবে।

মুকাতিল বলেন, يَوۡمَ يَنظُرُ ٱلۡمَرۡءُ مَا قَدَّمَتۡ يَدَاهُ “যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কী (‘আমাল) পাঠিয়েছে” এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে আবু আবু সালামাহ ইবন আব্দুল আসাদ আল মাখযূমীর ব্যাপারে।

وَيَقُولُ ٱلۡكَافِرُ يَٰلَيۡتَنِي كُنتُ تُرَٰبَۢا “আর কাফির বলবে ‘হায়! আমি যদি মাটি হতাম” (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না) এ আয়াতটি তার (সালামার) ভাই আসওয়াদ ইবন আব্দুল আসাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

সা‘লাবী বলেন, আমি আবুল কাসিম ইবন হাবীবকে বলতে শুনেছি: এখানে কাফির দ্বারা উদ্দেশ্য ইবলিস, সে আদম আলাইহিস সালামের দোষ ধরেছিল যে, তিনি মাটির তৈরী, আর সে অহঙ্কার করে যে, সে আগুনের তৈরি, এরপর কিয়ামত দিবসে যখন সে স্বচক্ষে আদম আলাইহিস সালাম এবং তার সন্তানাদি কী ধরণের পুরস্কার, আরাম-আয়েশ ও রহমতের মাঝে, আর সে কী ধরণের কষ্ট ও শাস্তির মাঝে রয়েছে প্রত্যক্ষ করবে তখন সে আকাঙ্খা করবে সে যদি আদম আলাইহিস সালামের স্থানে থাকত, সে বলবে, يَٰلَيۡتَنِي كُنتُ تُرَٰبَۢا “হায়! আমি যদি মাটি হতাম” (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না) তিনি বলেন, আমি কুশাইরী আবু নাসরের কোনো তাফসীরে দেখেছি। যাতে বলা হয়েছে: অর্থাৎ ইবলিস বলবে: হায় আফসোস, আমি যদি মাটির তৈরি হতাম, আর যদি না বলতাম ‘আমি আদমের চেয়ে উত্তম’।

আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কিয়ামত দিবসে জমিনকে উপরিভাবে সম্প্রসারিত (প্রশস্ত) করা হবে, এরপর ভারবাহি জন্তু, জানোয়ার ও বন্য প্রাণীদের একত্রিত করা হবে, এর জীব-জন্তুর মাঝে কিসাস (বদলা) সংঘটিত হবে, গুতা মারার কারণে শিংওয়ালা বকরী থেকে শিংবিহীন জন্তুর কিসাস নেওয়া হবে, তাদের কিসাসের কার্যাদি সমাপ্ত হওয়ার পরে তাদেকে বলা হবে: মাটি হয়ে যাও, সে সময় কাফির বলবে: হায় আফসোস, যদি মাটি হতাম। অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে আবু হুরাইরাহ, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম থেকেও আমরা এ বিষয়টি ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে সুন্দররূপে উল্লেখ করেছি মৃত্যুর অবস্থাসমূহ ও পরকালের বিষয়াদি সহকারে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

আবু আবু জা‘ফার আন-নাহ্হাস বর্ণনা করেন: হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাফে‘ (তিনি বলেন) হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাদের নিকট সালামাহ ইবন শাবীব ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম (তিনি) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা চতুষ্পদ জন্তু, পাখি, মানুষ সকলকে একত্রিত করবেন, এরপর চতুষ্পদ জন্তু এবং পাখিদের বলবেন: মাটি হয়ে যাও, সে সময় কাফির বলবে: يَٰلَيۡتَنِي كُنتُ تُرَٰبَۢا “হায়! আমি যদি মাটি হতাম”।

কেউ কেউ বলেন, يَٰلَيۡتَنِي كُنتُ تُرَٰبَۢا “হায়! আমি যদি মাটি হতাম” অর্থাৎ যদি পুনরুত্থিত না হতাম, যেমন তারা বলবে: ﴿فَيَقُولُ يَٰلَيۡتَنِي لَمۡ أُوتَ كِتَٰبِيَهۡ ٢٥﴾ [ الحاقة : ٢٥ ] “হায়! আমাকে যদি আমার ‘আমালনামা না দেওয়া হত” [সূরা আল-হা-ক্কাহ, আয়াত: ২৫]

আবু আবুয যিনাদ বলেন, মানুষের মাঝে যখন ফায়সালা করে দেওয়া হবে, জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে যেতে নির্দেশ দেওয়া হবে, আর জাহান্নামীদের নির্দেশ দেওয়া হবে জাহান্নামে যেতে, তখন (মানুষ ব্যতীত) অন্য সকল প্রজাতি এবং মুমিন জিন্নদের বলা হবে: মাটিতে ফিরেও যাও, (অর্থাৎ মাটি হয়ে যাও) তারা মাটি হয়ে যাবে কাফিররা যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা বলবে: يَٰلَيۡتَنِي كُنتُ تُرَٰبَۢا “হায়! আমি যদি মাটি হতাম”।

লাইস ইবন আবু আবু সুলাইম বলেন, মুমিন জিন্নেরা মাটি হয়ে যাবে, উমার ইবন আব্দুল আযীয, ইমাম যুহরী, কালবী এবং মুজাহিদ রহ. বলেন, মুমিন জিন্নেরা জান্নাতের চারপাশে বিশ্রাম ও প্রশস্ততার মাঝে থাকবে, তারা এর ভেতরে থাকবে না আর এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত। এ সম্পর্কে সূরা আর-রহমানে আলোচনা করা হয়েছে, তারা মুকাল্লাফ বা শরী‘আতের বিধি-বিধান পালনে বাধ্য, তাদেরকে (তাদের ভালো-মন্দ কর্মের ভিত্তিতে) সাওয়াব-শাস্তি দেওয়া হবে, তারা মানুষের মতো। আল্লাহ তা‘আলা সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক অবগত। আল্লাহই ভালো জানেন।