১
সূরা আন-নাবা-এর তাফসীর
লেখকঃ আবু আবদুল্লাহ কুরতুবী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
সূরা আন-নাবা মক্কায় অবতীর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। একে সূরা আম্মা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এর আয়াত সংখ্যা চল্লিশ অথবা একচল্লিশটি। কিয়ামত দিবস সম্পর্কে মক্কার মুশরিকদের বিভিন্ন অলিক কথা-বার্তার জবাব আল্লাহ তা‘আলা এ সূরাটিতে তুলে ধরেন। আল্লাহ তা‘আলা পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী কাফির ও মুশরিদের জানিয়ে দেন যে, কিয়ামত তথা বিচার ফায়সালার দিন অবশ্যই সংঘটিত হবে। আর তার বাস্তবায়ন আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। কারণ, যিনি আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, নদ-নদী ইত্যাদিকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি এসব মাখলুককে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে পারবেন না? প্রথমবার সৃষ্টি করা যতটা কঠিন দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা ততটা কঠিন নয়; বরং তা আরো সহজ। সুতরাং আল্লাহর জন্য পুনরুত্থান কোনো কঠিন বিষয় নয়। এ ছাড়াও যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করবে, আখিরাত দিবসের ওপর বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি বিশ্বাস করবে, তাদের জন্য জান্নাতে কি কি নিয়‘আমত, পুরস্কার, সাওয়াব ও বিনিময় রয়েছে তার একটি চিত্র এ সূরায় তুলে ধরা হয়েছে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করে, আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করে, আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে না এবং নবী ও রাসূলদের বিশ্বাস করে না তাদের পরিণতি যে কত ভয়াবহ এবং তাদের শাস্তি ও ‘আযাব যে কত করুণ ও বেদনাদায়ক হবে তাও এ সূরাতে তুলে ধরা হয়ে। আখিরাত বিষয়ে মক্কায় অবতীর্ণ এ সূরাটি মুমিনের হৃদয়কে বিগলিত করবে। মনের মধ্যে নাড়া দেওয়ার মতো যথেষ্ট বর্ণনা এ সূরার মধ্যে বিদ্যমান। অনেক ইমাম সাহেবকে সালাতে এ সূরাটি পড়তে শোনা যায়। কিন্তু খুব কম সংখ্যক লোকই রয়েছেন যারা এ সূরার অর্থ ও বর্ণনা সম্পর্কে অবগত। তাই সূরাটির তাফসীর তুলে ধরাটা বাংলাভাষা-ভাষীদের জন্য প্রয়োজন মনে করি। ফলে মুহাম্মাদ ইবন ইবন জারীর আবু জাফর আত-তাবারীর তাফসীর ‘তাফসীরে তাবারী’ থেকে এ সূরাটির তাফসীর তুলে ধরার চেষ্টা করি। এ মূল তাফসীরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সনদ ও বিভিন্ন কবিদের কাব্যগুলো উহ্য রাখা হয়েছে, যাতে পাঠকের জন্য লম্বা এবং বিরক্তির কারণ না হয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের কুরআন বুঝা ও অনুধাবন করা তাওফীক দিন। আমীন।
জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের
জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের