hadith book logo

হিল্লা, তালাক ও ফতোয়া যে কথাগুলো না বললেই নয়

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

আয়াতদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত তাফসীর :

যে তালাক থেকে ফিরে নেবার সুযোগ রয়েছে তা হলো দুই তালাক, একটির পর একটি। প্রত্যেক তালাক প্রদানের পর আল্লাহর বিধান হলো : হয়তো স্ত্রীকে সন্তুষ্টচিত্তে সদুপায়ে ফেরত নেবে এবং ফেরত নেবার পর সুন্দরভাবে বসবাস করবে অথবা তাকে সুন্দর ব্যবহার করে তার পথ ছেড়ে দেবে। আর তা হলো তার হকসমূহগুলো দিয়ে তাকে বিদায় দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে মন্দভাবে স্মরণ না করা। আর হে স্বামীবৃন্দ, তোমরা তাদের মোহর ইত্যাদি যা দিয়েছ তা ফেরত নেওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। তবে স্বামী-স্ত্রী যদি বৈবাহিক অধিকারাবলি কায়েম করার ব্যাপারে আশঙ্কা করে তবে তাদের বিষয় উত্থাপন করা হবে অভিভাবকবৃন্দের কাছে। অভিভাবকগণ যদি স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করেন যে তারা আল্লাহর বিধান কায়েম করবে না, তবে স্বামী-স্ত্রীর জন্য তাতে কোনো অপরাধ হবে না স্ত্রী তার তালাকের বিনিময়ে স্বামীকে যা প্রদান করবে। এই বিধানগুলো হলো হালাল ও হারামের মধ্যে আল্লাহর সীমারেখা। অতএব তোমরা তা অতিক্রম কর না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা অতিক্রম করবে তারাই নিজেদেরকে আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন করার মাধ্যমে নিজেদের ওপর যুলুম করবে।

তারপর যদি স্বামী আপন স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেন, তবে সে আর তার জন্য হালাল হবার নয়। তবে যদি অন্য কোনো পুরুষকে যথাযথভাবে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে সহবাস করে। আর এ বিয়ে হয় আগ্রহের ভিত্তিতে; প্রথম স্বামীর জন্য হালাল বানানোর হিলা হিসেবে হয়। অতপর পরের স্বামী যদি তাকে তালাক প্রদান করে কিংবা তিনি মারা যান এবং তার ইদ্দত পূর্ণ হয়, তবে তখনই কেবল প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। আর তা নতুন বিয়ে এবং নতুন মহর নির্ধারণের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর নির্ধারিত বিধি-বিধান পালন করতে পারবে বলে যদি তারা আত্মপ্রত্যয়ী হয়। আর এসব হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধি-বিধান যা তিনি এমন কওমের জন্য বর্ণনা করেছেন যারা তাঁর বিধানাবলি ও সীমারেখা সম্পর্কে জানে। কারণ, এরাই মূলত এ থেকে উপকৃত হয়। [আত-তাফসীরুল মুইয়াসসার, উপর্যুক্ত আয়াত দ্রষ্টব্য]