১
হিল্লা, তালাক ও ফতোয়া যে কথাগুলো না বললেই নয়
লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক
শরীয়তে তালাক শব্দকে খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। তালাক শব্দ নিয়ে কেউ ঠাট্টা-মশকরা করতে পারে না। ছোট-খাটো পরিস্থিতিতে কেউ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারে না। এ কারণে তালাক শব্দ একমাত্র পাগল ছাড়া যে কেউ উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয়ে যাবে। তিন তালাক একসঙ্গে দেবার অনুমতি নেই। তাই কেউ তার স্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে কিংবা তার স্ত্রীর নাম ধরে অথবা তাকে সম্বোধন করে সাধারণভাবে এক বা দুই তালাক উচ্চারণ করলে তা তালাক ‘রজঈ’ বা প্রত্যাহারযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। স্বামী চাইলেই স্ত্রীকে যে কোনো মুহূর্তে ফিরে নিতে পারবেন।
অবশ্য কেউ শরীয়তের নিয়ম লঙ্ঘন করে তিন তালাক একসঙ্গে উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয়ে যাবে কী না এ ব্যাপারে দু’টি মত প্রসিদ্ধ।
এক. চার ইমাম তথা ইমাম আবু হানিফা, মালেক, শাফে‘ঈ ও আহমাদ ইবন হাম্বলসহ শহুরে ইমামগণ বলেন, এতে করে তিন তালাকই পতিত হবে, তবে এর জন্য তালাকদাতা গুনাহগার হবে। কারণ সে বিদ‘আতচর্চা করেছে।
দুই. অনেক সাহাবী, তাবে‘ঈ, তাবে তাবে‘ঈন ও সুক্ষ্নদর্শী অনেক আলেম যেমন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা, ইবনুল কাইয়্যেমসহ অধিকাংশ আহলে হাদীস বলেন যে, এর দ্বারা এক তালাক হবে।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, প্রবন্ধটিতে আমরা দলীল-প্রমাণাদি দিয়ে ভারী করতে চাচ্ছি না, বিষয়টি ফকীহ ও জ্ঞানীদের সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং থাকবে।
কিন্তু একটি কথা অনস্বীকার্য যে, এ ব্যাপারে রাষ্ট্র চাইলে দু’টি মতের একটিকে রাষ্ট্রিয়ভাবে গ্রহণ করতে পারে। অথবা যারা তিন তালাক এক সাথে দিবে, তাদের এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছাড়া যে কোনো শাস্তিই দিতে পারে।
কিন্তু তা না করে শরী‘য়াতের দৃষ্টিভঙ্গীর তোয়াক্কা না করে আমাদের দেশে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে চালানো এবং মৌখিক তালাক অগ্রহণীয় বলে যে আইন করা হয়েছে তা নারী-পুরুষের নিপুণ স্রষ্টা এবং সর্বোচ্চ কল্যাণকামী আল্লাহর সঙ্গে মাতব্বরী ও অনধিকার চর্চার পর্যায়ে পড়ে।
কেউ যদি রাগের মাথায় কিংবা আবেগের বশে কাউকে গুলি করে বা কারো গলায় ছুরি চালায় তবে কি সে আহত বা নিহত হবে না? ভুল করে যদি কেউ কাউকে সজোরে চপেটাঘাত করে তবে কি সে গালে যাতনা অনুভব করবে না? নাকি স্যরি বললে মনের জ্বালার সঙ্গে গাল জ্বলাও তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যাবে? তাহলে কি করে মুখের তালাককে অকার্যকর ধরে তালাকের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ শরঈ বিধানকে অসম্মান করা হবে। যত্রতত্র এ বিধানকে প্রয়োগযোগ্য করা হবে?
তালাক যেভাবেই উচ্চারিত হোক শরীয়ত সেটাতে সিরিয়াসলি নেয় নারীকে শায়েস্তা করতে নয়; তার সম্মান রক্ষার্থে। এটা তার জন্য শাস্তি নয়, বরং তার জন্য রহমত। স্ত্রী হিসেবে নারীর যে সম্মান, তালাক তা কমিয়ে দেয়। যে স্বামী কথায় কথায় বা রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে, সে মূলত স্ত্রীকে অসম্মানই করে। এটা অনেকটা এরকম যে, আপনি একটা খেলনার পুতুল দিয়ে ইচ্ছে মতো খেললেন, এরপর যখন মন চায় ভেঙে ফেললেন।
স্ত্রী নিশ্চয় খেলনা নন। স্ত্রী হলেন জীবনসঙ্গীনী। জীবন বলতে জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মান-সম্মান স্ত্রী সবকিছুরই অংশীদার। বিনা অজুহাতে, রাগের মাথায় তাকে তালাক দেয়ার অর্থ তাকে অসম্মান করা। তালাক হলো আল্লাহ তা‘আলার হালাল করা সবচে অপ্রিয় বিষয়। ইবন উমরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلَاقُ»
‘আল্লাহ আ‘আলার কাছে সবচে অপ্রিয় হালাল বিষয় হলো তালাক।’ [আবূ দাউদ : ২১৭৮; ইবন মাজা : ২০১৮, শায়খ আলাবানী হাদীসটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন।]
অর্থাৎ তালাকের অনুমতি দেয়া হয়েছে একমাত্র অনন্যোপায় হলে। যে ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর কোনোভাবেই একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয় না, তখন তালাক দেয়া যায়। এই নিকৃষ্ট হালালকে যখন যত্রতত্র ব্যবহার করা হয়, তখন তা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। স্ত্রী হিসেবে নারীর সম্মান তখন ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হয়।
অবশ্য কেউ শরীয়তের নিয়ম লঙ্ঘন করে তিন তালাক একসঙ্গে উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয়ে যাবে কী না এ ব্যাপারে দু’টি মত প্রসিদ্ধ।
এক. চার ইমাম তথা ইমাম আবু হানিফা, মালেক, শাফে‘ঈ ও আহমাদ ইবন হাম্বলসহ শহুরে ইমামগণ বলেন, এতে করে তিন তালাকই পতিত হবে, তবে এর জন্য তালাকদাতা গুনাহগার হবে। কারণ সে বিদ‘আতচর্চা করেছে।
দুই. অনেক সাহাবী, তাবে‘ঈ, তাবে তাবে‘ঈন ও সুক্ষ্নদর্শী অনেক আলেম যেমন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা, ইবনুল কাইয়্যেমসহ অধিকাংশ আহলে হাদীস বলেন যে, এর দ্বারা এক তালাক হবে।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, প্রবন্ধটিতে আমরা দলীল-প্রমাণাদি দিয়ে ভারী করতে চাচ্ছি না, বিষয়টি ফকীহ ও জ্ঞানীদের সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং থাকবে।
কিন্তু একটি কথা অনস্বীকার্য যে, এ ব্যাপারে রাষ্ট্র চাইলে দু’টি মতের একটিকে রাষ্ট্রিয়ভাবে গ্রহণ করতে পারে। অথবা যারা তিন তালাক এক সাথে দিবে, তাদের এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছাড়া যে কোনো শাস্তিই দিতে পারে।
কিন্তু তা না করে শরী‘য়াতের দৃষ্টিভঙ্গীর তোয়াক্কা না করে আমাদের দেশে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে চালানো এবং মৌখিক তালাক অগ্রহণীয় বলে যে আইন করা হয়েছে তা নারী-পুরুষের নিপুণ স্রষ্টা এবং সর্বোচ্চ কল্যাণকামী আল্লাহর সঙ্গে মাতব্বরী ও অনধিকার চর্চার পর্যায়ে পড়ে।
কেউ যদি রাগের মাথায় কিংবা আবেগের বশে কাউকে গুলি করে বা কারো গলায় ছুরি চালায় তবে কি সে আহত বা নিহত হবে না? ভুল করে যদি কেউ কাউকে সজোরে চপেটাঘাত করে তবে কি সে গালে যাতনা অনুভব করবে না? নাকি স্যরি বললে মনের জ্বালার সঙ্গে গাল জ্বলাও তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যাবে? তাহলে কি করে মুখের তালাককে অকার্যকর ধরে তালাকের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ শরঈ বিধানকে অসম্মান করা হবে। যত্রতত্র এ বিধানকে প্রয়োগযোগ্য করা হবে?
তালাক যেভাবেই উচ্চারিত হোক শরীয়ত সেটাতে সিরিয়াসলি নেয় নারীকে শায়েস্তা করতে নয়; তার সম্মান রক্ষার্থে। এটা তার জন্য শাস্তি নয়, বরং তার জন্য রহমত। স্ত্রী হিসেবে নারীর যে সম্মান, তালাক তা কমিয়ে দেয়। যে স্বামী কথায় কথায় বা রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে, সে মূলত স্ত্রীকে অসম্মানই করে। এটা অনেকটা এরকম যে, আপনি একটা খেলনার পুতুল দিয়ে ইচ্ছে মতো খেললেন, এরপর যখন মন চায় ভেঙে ফেললেন।
স্ত্রী নিশ্চয় খেলনা নন। স্ত্রী হলেন জীবনসঙ্গীনী। জীবন বলতে জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মান-সম্মান স্ত্রী সবকিছুরই অংশীদার। বিনা অজুহাতে, রাগের মাথায় তাকে তালাক দেয়ার অর্থ তাকে অসম্মান করা। তালাক হলো আল্লাহ তা‘আলার হালাল করা সবচে অপ্রিয় বিষয়। ইবন উমরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلَاقُ»
‘আল্লাহ আ‘আলার কাছে সবচে অপ্রিয় হালাল বিষয় হলো তালাক।’ [আবূ দাউদ : ২১৭৮; ইবন মাজা : ২০১৮, শায়খ আলাবানী হাদীসটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন।]
অর্থাৎ তালাকের অনুমতি দেয়া হয়েছে একমাত্র অনন্যোপায় হলে। যে ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর কোনোভাবেই একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয় না, তখন তালাক দেয়া যায়। এই নিকৃষ্ট হালালকে যখন যত্রতত্র ব্যবহার করা হয়, তখন তা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। স্ত্রী হিসেবে নারীর সম্মান তখন ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হয়।