hadith book logo

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমকালীন আরবের অবস্থা ও তাঁর মক্কী জীবন

লেখকঃ মো. আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

কুরাইশদের অত্যাচার:

যখন ইসলাম ক্রমশ বিস্তার লাভ করতে লাগল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গতিসম্পন্ন সাহাবীগণের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তাঁদের নিজ নিজ বংশ ও গোষ্ঠী। কুরাইশদের আক্রোশ সকল দিকে প্রতিহত হয়ে নিঃস্ব মুসলিমদের উপর পতিত হলো। সহায়-সম্বলহীন, আশ্রয়হারা এ সকল দরিদ্র মুসলিম কেউ ছিলেন দরিদ্র মুসাফির, কেউ ছিলেন খরিদা গোলাম, আবার কেউ প্রতিপত্তিহীন বংশের লোক, জনসমাজে যাদের প্রতিষ্ঠাই ছিল না। এদের উপর কুরাইশরা যে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। সেই দুর্দিনে দরিদ্র মুসলিমদের পক্ষে ছিল জীবন মরণ সমস্যা। [সাইয়েদুল মুরসালীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৯৮।] নিম্নে দু-একটি উদাহরণ উল্লেখ করা হল:

প্রথমেই বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কথা উল্লেখ্য। তিনি ছিলেন একজন হাবশী গোলাম। তাঁর মনিব উমাইয়া ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পেরে তাঁর উপর নানারূপ অত্যাচার শুরু করল এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলল। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই রাযী হলেন না। তাই অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেল। অবশেষে তাঁর হাত-পা বেঁধে মধ্যা ‎‎ হ্নে সূর্যের প্রখর তাপদগ্ধ বালুকার উপর চিৎ করে শুইয়ে রাখত এবং পাশ্ব পরিবর্তন রোধ করতে পারে এ জন্য বুকের উপর ভারী পাথর রেখে দিত। এ মুহূর্তেও তিনি বলতেন আল্লাহ এক, আল্লাহ এক। এ করুণ অবস্থা দেখে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে অর্থের বিনিময়ে মুক্ত করে নেন। [প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৮-১৩৯।]

খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন বিলালের ন্যায় একজন ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে কুরাইশরা তাঁকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে দিত এবং তাঁর বুকের উপর পা দিয়ে চেপে রাখত। শেষ পর্যন্ত জীবনে বেঁচে গিয়েছিলেন বটে, কিন্তু চিরদিনের মত তাঁর পৃষ্ঠে ধবল কুষ্ঠের ন্যায় সাদা দাগ পড়ে গিয়েছিল।

অনুরূপভাবে ওসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তখন কুরাইশগণ একেবারে হিংস্র পশুর ন্যায় ক্ষেপে গেল। ওসমানের পিতৃব্যের সাথে যোগ দিয়ে তারা ওসমানকে হাত-পা বেঁধে প্রত্যহ নির্মমভাবে প্রহার করত। ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর নামে তা সহ্য করে যেতেন। [প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪০।]