hadith book logo

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমকালীন আরবের অবস্থা ও তাঁর মক্কী জীবন

লেখকঃ মো. আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

ইসরা ও মিরাজ:

হিজরতের পূর্বে মহান আল্লাহ ইসরা ও মি‘রাজের মাধ্যমে তাঁর নবীকে সম্মানিত করেন। ইসরা হলো একই রাত্রিতে বায়তুল মাকদাসে গমন করা এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করা। অতঃপর মি‘রাজ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উর্ধ্ব জগতে আরোহণ করা। [নুরুল ইয়াকীন, পৃ. ৬৯।]

একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার হাতিমে শুয়েছিলেন। এমন সময় জিবরাঈল ‘আলাইহিস সালাম তাঁকে জাগিয়ে বুরাক নাম বাহনের মাধ্যমে বায়তুল মাকদাসে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি সমস্ত নবীর ইমাম হয়ে সালাত পড়েন। [হামেদ মাহমুদ লিমুদ, মুনতাকান নুকুল (মাক্বাতুল মুকাররামাহ: রাবেতা আ’লাম আল ইসলামী, তা. বি), পৃ. ২১৮।] অতঃপর একটি সিঁড়ির মাধ্যমে তিনি বায়তুল মাকদাস থেকে আসমানের দিকে উপরে উঠেন। প্রতিটি আসমানের দরজায় গেলে প্রহরারত ফেরেশতা তাঁকে সম্বর্ধনা জানায়। প্রতিটি আসমানেই তিনি আগের নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ১৩৮।] অতঃপর সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছেন। সেখানে বায়তুল মা‘মুরের কাছে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-কে দেখতে পান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বচক্ষে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখতে পান। সে সময় মহান আল্লাহ তাঁর উম্মতের উপর ৫০ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন। পরে তা হ্রাস করে মহান আল্লাহ ৫ ওয়াক্তে পরিণত করেছেন। [মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্‌হাব, মুখতাসারু সীরাতুল রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল মামলাকাতুল আরাবীয়া; আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৫৬/১৩৭৫, পৃ. ৪৫।] অতঃপর কুরাইশদের মাঝে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তারা ঠাট্টা ও উপহাসের সাথে সেটাতে মিথ্যারোপ করল। কিন্তু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটাকে নির্দ্বিধায় সত্য বলে বিশ্বাস করেন। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ‘সিদ্দীক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।