১
রাসূলের শানে সমসাময়িক ধৃষ্টতা আকার-প্রকৃতি ও নেপথ্য কাহিনী
লেখকঃ নাসের বিন সুলাইমান আল-উমর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
প্রথমত :
কতিপয় ওয়েব সাইট এবং আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘হিউস্টন বোর্স’-এর প্রচারকৃত সংবাদে বলা হয়েছে, আমেরিকার একটি সিনেমা হলে ‘নবি মুহাম্মদের যৌন জীবন’ নামে একটি উন্মুক্ত ছবি মুক্তি পাচ্ছে।
টেক্সাস অঙ্গ রাজ্যের মুসলমানদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সত্ত্বেও সে দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ। অধিকন্তু তারা মুসলমানদের দাবি যে কোনো মূল্যে হলেও প্রত্যাখ্যান করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পুলিশ প্রশাসনের নিকট প্রতিবাদকারীদের দমন করার জন্য সাহায্য চেয়েছে। তা সত্ত্বে ক্ষমতাধর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ করার জন্য।
সাম্প্রতিক কালেরও কিছু আগের আরেকটি ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য। ইহুদিবাদীদের সংস্থা ‘বনী বুরাইসে’ [একটি ইহুদিবাদী সংস্থা, যার সম্পর্কে গুপ্তচর বৃদ্ধির অপবাদ রয়েছে।]-র প্রধান কার্যালয় এবং আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বড় দু’টি প্রাসাদের উপর ১৯৭৭ ইংরেজি সনে আক্রমণের ঘটনা। যার প্রেক্ষিতে একটি ইসলামি সংস্থার দাবি ছিল, জরিমানা বাবদ ৭৫০ ডলার আক্কেল সেলামি দেয়া, ‘মুহাম্মদ রাসূল্লাহ’ নামক সিনেমা বন্ধ করা, এবং যারা মালকুম এক্সকে [একজন আমেরিকান মুসলমান। প্রথমত সে একটি ইসলামি বাতেল ফেরকার সাথে সম্পৃক্ত ছিল, যে ফেরকাটি মূলত ইসলাম ও তার মৌলিকত্ব নষ্ট করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরিবর্তিতে আল্লাহ তাকে সুযোগ করে দেন আরব, মিসর ও সুদানের ওলামাদের সাথে ঘনিষ্ট হওয়ার, যার সুবাদে সঠিক পথে ফিরে আসে সে এবং ‘আহলে সুন্নত অল-জামাত’ নাম দিয়ে একটি দলের গোড়া পত্তন করে। আরাম্ভ করে দেন নব উদ্দোমে, সঠিক পদ্ধতিতে সত্য দ্বীনের দাওয়াত। তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। আগের মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেক লোকও ফিরে আসে তার এ নতুন দলে। ১৮ শাওয়াল ১৩৮১ হিজরিতে নিইউওয়ার্ক ইউনিভার্সিটির একটি কনফারেন্সে তাকে আমন্ত্রন জানানো হয়। যখন সে মঞ্চে উপবিষ্ট হয়ে বক্তৃতা আরম্ভ করল, হটাৎ হলের মাঝখানে একটি পরিকল্পিত ঝগড়ার সুত্রপাত করা হয়। উপস্থিত সকল মানুষের দৃষ্টি যখন সে দিকে, সুযোগ বুঝে প্রথম সারিতে উপস্থিত তিনজন লোক আঠারটি গুলি বর্ষন করে তাকে সই করে। আর সেখানেই তিনি শহীদ হন।] হত্যা করেছে তাদের সোপর্দ করা। যার প্রসিদ্ধ নাম আলহাজ মালেক সাবাজ। তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ ইসলাম প্রচারক ও দায়ী ছিলেন।
মুদ্দা কথা : রাসূলের শানে ধৃষ্টতার উদাহরণ নতুন কিছু নয়, বহু পুরোনো। বিশ্ববাসী এর ফলাফলও স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছে। তবে, কখনো উদ্যমী হয় কখনো নিস্পৃহ থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত আরো হচ্ছে অধুনা ও প্রাচীন পশ্চিমাদের হলুদ সাংবাদিকতা। তাদের অভ্যাস ইসলাম ও মুসলমানদের বাস্তব চিত্র ও সঠিক ইতিহাস বিক্রীত করে এবং মোক্ষম সময়টি বাচাই করে কৌশলগত যুদ্ধের নামে বার বার প্রচার করা।
এটাও নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৮৫ ইংরেজি সনে ফ্রান্সের শিল্প বিপ্লবে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ‘বারনার বেফু’ বহুল প্রসিদ্ধ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি পর্বের শিরোনাম দিয়ে ছিল, ‘আবুস্ত্তরুফ’ আরবিতে যার নাম ‘ফাসেলা’ বাংলায় যাকে ‘পার্থক্য সৃষ্টিকারী’ বলা যায়। যার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘কুরআন এবং সন্ত্রাস’। সেখানে সে মুহাম্মদ আরকুন, আলাল সি নাসের এবং জেল কিবল ও অন্যান্যদের আহবান করেছে। অথচ ‘কুরআন এবং সন্ত্রাস’ এ শিরোনাম নির্ধারণকারী ব্যক্তি উপস্থাপনার শুরুতেই দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, ‘আমি কুরআন পড়েনি’ তবে, কুরআন যে সন্ত্রাসবাদের ইন্ধন দেয়, সে প্রমাণ আমি কুরআন না পড়েও বের করতে সক্ষম!
অধুনা কতক লেখক, সাংবাদিকদের দেখা যায়, তারা চর্বিত চর্বণে অভ্যস্ত। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডেনমার্ক সাংবাদিক ও সুদান সাংবাদিকদের নগ্ন ধৃষ্টতা।
সাম্প্রতিককালের মুরতাদদের ভেতর সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ‘আয়ান হারসি’ এ ব্যাপারে আরো নগ্ন ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সে বলেছে, ‘পশ্চাত্ব মানদন্ডে নবি মুহাম্মদ বিক্রীত মানসিকতা সম্পন্ন ও স্বেচ্ছাচারী একজন লোক।’ এর স্বপক্ষে সে প্রমাণ পেশ করেছে, যে নবি মুহাম্মদ মাত্র নয় বৎসরের একটি মেয়ে বিয়ে করেছেন। আয়ান হারসির বিপরীতে বহু ইসলামি সংঘটন, অনেক মুসলমান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার করেছে যে, এটা আয়ান হারসির বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তবে, এ নিয়ে তারা কোর্ট পর্যন্ত যায়নি। কারণ, তারা জানতো ‘এটা হলেন্ডের মুসলিম সমাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার এ প্রোপাগান্ডা হলেন্ডের মুসলমানদের স্বার্থে কোনো আঘাত হানবে না। অন্যদের ন্যায় তাদের অধিকার গুলোও সংখ্যালঘু হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।’ কাফস আল-আজারা নামক প্রকাশনা তার বইটি প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে সে তার নিজের ইচ্ছে ব্যক্ত করে বলেছে : ব্রাউনের জীবনের নির্মিত ছবির আদলে নবি মুহাম্মদের জীবনের উপরও একটি ছবি নির্মাণ করবে। যেখানে নিজের মতো করে মুহাম্মদের বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তুলবে এবং তার ব্যাখ্যা দেবে। সে এও বলেছে, সেখানে একজন লোক মুহাম্মদের আকৃতি ধারণ করে তার সং-গ্রামী জীবনের উপর অভিনয় করবে। সেখানে সে আরো এমন এমন অনেক জিনিস তুলে ধরবে, মুসলমান কিংবা ইসলামি সমাজ যা জনসমক্ষে তুলে ধরাকে কিংবা প্রকাশ পাওয়াকে পছন্দ করে না। উদাহরণ স্বরূপ সে নিজ পুত্রের স্ত্রীর সাথে রাসূল সা. এর প্রেমের কথা উল্লেখ করেছে। এটা কীভাবে সম্ভব! তিনি কয়েক দিন হেরা গুহায় গোপন ছিলেন, আর সেখান থেকে এমন যাদুকাটি নিয়ে ফিরে এলেন, যার দ্বারা নিজের পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা বৈধ হয়ে গেল। ডেনমার্কে কার্টুন একে রাসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গ্য চিত্র প্রকাশ করার পর-মুহূর্তে ২০০৫ সালের ২৩ নভেম্বরে ‘সাবফো’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছে, মুসলমানগণ ধর্মীয় ব্যাপারে গোড়াবাদী হওয়ার সাথে সাথে তাদের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে কুরাআনকে পবিত্র জ্ঞান করা। সেখানে সে বলেছে, ‘‘ইদানীংকালে আমি কতক আরব সাংবাদিকদের সাথে মিলিত হয়েছি, তখন আমি আমার ব্যাগ থেকে একটি কুরান বের করে মাটিতে ছুঁড়ে মারি। বেপর্দা এক তুর্কি মহিলা উঠে দাঁড়ায় - যার আদর্শ হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষবাদ- এবং আমাকে বলে, আমি অনুরোধ করছি, আপনি কুরানটি উঠিয়ে ব্যাগের ভেতর রাখেন। আমি তাকে এ বলে উত্তর দিলাম, এটা আমার কুরান, আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারি এর সাথে। তবে, এখন কুরআনকে পবিত্র বলার মুখ তোমার নেই। কারণ, তোমাদের নিকট কুরআনের সবকিছু (গেলাফ, লেখা ও কালি) পবিত্র।’’ তোমার সামনে এক্ষুনি তা আমি কদর্য করে দিয়েছি।
এ মহিলা হলেন্ডের সে লোকের সাথেও অংশ গ্রহণ করেছে যে, ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও বানোয়াট ছবি তৈরি করেছে। যে ছবির নাম দিয়েছে ‘বিনয়ী’। যার ফলে ‘ছবি প্রকাশকারী গুপ্তহত্যার শিকার হয়। অর্থাৎ মরোক্কের একজন মুসলিম যুবক তাকে হত্যার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে এবং হত্যা করে কৃতকার্য হয়।
টেক্সাস অঙ্গ রাজ্যের মুসলমানদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সত্ত্বেও সে দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ। অধিকন্তু তারা মুসলমানদের দাবি যে কোনো মূল্যে হলেও প্রত্যাখ্যান করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পুলিশ প্রশাসনের নিকট প্রতিবাদকারীদের দমন করার জন্য সাহায্য চেয়েছে। তা সত্ত্বে ক্ষমতাধর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ করার জন্য।
সাম্প্রতিক কালেরও কিছু আগের আরেকটি ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য। ইহুদিবাদীদের সংস্থা ‘বনী বুরাইসে’ [একটি ইহুদিবাদী সংস্থা, যার সম্পর্কে গুপ্তচর বৃদ্ধির অপবাদ রয়েছে।]-র প্রধান কার্যালয় এবং আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বড় দু’টি প্রাসাদের উপর ১৯৭৭ ইংরেজি সনে আক্রমণের ঘটনা। যার প্রেক্ষিতে একটি ইসলামি সংস্থার দাবি ছিল, জরিমানা বাবদ ৭৫০ ডলার আক্কেল সেলামি দেয়া, ‘মুহাম্মদ রাসূল্লাহ’ নামক সিনেমা বন্ধ করা, এবং যারা মালকুম এক্সকে [একজন আমেরিকান মুসলমান। প্রথমত সে একটি ইসলামি বাতেল ফেরকার সাথে সম্পৃক্ত ছিল, যে ফেরকাটি মূলত ইসলাম ও তার মৌলিকত্ব নষ্ট করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরিবর্তিতে আল্লাহ তাকে সুযোগ করে দেন আরব, মিসর ও সুদানের ওলামাদের সাথে ঘনিষ্ট হওয়ার, যার সুবাদে সঠিক পথে ফিরে আসে সে এবং ‘আহলে সুন্নত অল-জামাত’ নাম দিয়ে একটি দলের গোড়া পত্তন করে। আরাম্ভ করে দেন নব উদ্দোমে, সঠিক পদ্ধতিতে সত্য দ্বীনের দাওয়াত। তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। আগের মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেক লোকও ফিরে আসে তার এ নতুন দলে। ১৮ শাওয়াল ১৩৮১ হিজরিতে নিইউওয়ার্ক ইউনিভার্সিটির একটি কনফারেন্সে তাকে আমন্ত্রন জানানো হয়। যখন সে মঞ্চে উপবিষ্ট হয়ে বক্তৃতা আরম্ভ করল, হটাৎ হলের মাঝখানে একটি পরিকল্পিত ঝগড়ার সুত্রপাত করা হয়। উপস্থিত সকল মানুষের দৃষ্টি যখন সে দিকে, সুযোগ বুঝে প্রথম সারিতে উপস্থিত তিনজন লোক আঠারটি গুলি বর্ষন করে তাকে সই করে। আর সেখানেই তিনি শহীদ হন।] হত্যা করেছে তাদের সোপর্দ করা। যার প্রসিদ্ধ নাম আলহাজ মালেক সাবাজ। তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ ইসলাম প্রচারক ও দায়ী ছিলেন।
মুদ্দা কথা : রাসূলের শানে ধৃষ্টতার উদাহরণ নতুন কিছু নয়, বহু পুরোনো। বিশ্ববাসী এর ফলাফলও স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছে। তবে, কখনো উদ্যমী হয় কখনো নিস্পৃহ থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত আরো হচ্ছে অধুনা ও প্রাচীন পশ্চিমাদের হলুদ সাংবাদিকতা। তাদের অভ্যাস ইসলাম ও মুসলমানদের বাস্তব চিত্র ও সঠিক ইতিহাস বিক্রীত করে এবং মোক্ষম সময়টি বাচাই করে কৌশলগত যুদ্ধের নামে বার বার প্রচার করা।
এটাও নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৮৫ ইংরেজি সনে ফ্রান্সের শিল্প বিপ্লবে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ‘বারনার বেফু’ বহুল প্রসিদ্ধ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি পর্বের শিরোনাম দিয়ে ছিল, ‘আবুস্ত্তরুফ’ আরবিতে যার নাম ‘ফাসেলা’ বাংলায় যাকে ‘পার্থক্য সৃষ্টিকারী’ বলা যায়। যার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘কুরআন এবং সন্ত্রাস’। সেখানে সে মুহাম্মদ আরকুন, আলাল সি নাসের এবং জেল কিবল ও অন্যান্যদের আহবান করেছে। অথচ ‘কুরআন এবং সন্ত্রাস’ এ শিরোনাম নির্ধারণকারী ব্যক্তি উপস্থাপনার শুরুতেই দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, ‘আমি কুরআন পড়েনি’ তবে, কুরআন যে সন্ত্রাসবাদের ইন্ধন দেয়, সে প্রমাণ আমি কুরআন না পড়েও বের করতে সক্ষম!
অধুনা কতক লেখক, সাংবাদিকদের দেখা যায়, তারা চর্বিত চর্বণে অভ্যস্ত। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডেনমার্ক সাংবাদিক ও সুদান সাংবাদিকদের নগ্ন ধৃষ্টতা।
সাম্প্রতিককালের মুরতাদদের ভেতর সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ‘আয়ান হারসি’ এ ব্যাপারে আরো নগ্ন ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সে বলেছে, ‘পশ্চাত্ব মানদন্ডে নবি মুহাম্মদ বিক্রীত মানসিকতা সম্পন্ন ও স্বেচ্ছাচারী একজন লোক।’ এর স্বপক্ষে সে প্রমাণ পেশ করেছে, যে নবি মুহাম্মদ মাত্র নয় বৎসরের একটি মেয়ে বিয়ে করেছেন। আয়ান হারসির বিপরীতে বহু ইসলামি সংঘটন, অনেক মুসলমান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার করেছে যে, এটা আয়ান হারসির বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তবে, এ নিয়ে তারা কোর্ট পর্যন্ত যায়নি। কারণ, তারা জানতো ‘এটা হলেন্ডের মুসলিম সমাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার এ প্রোপাগান্ডা হলেন্ডের মুসলমানদের স্বার্থে কোনো আঘাত হানবে না। অন্যদের ন্যায় তাদের অধিকার গুলোও সংখ্যালঘু হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।’ কাফস আল-আজারা নামক প্রকাশনা তার বইটি প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে সে তার নিজের ইচ্ছে ব্যক্ত করে বলেছে : ব্রাউনের জীবনের নির্মিত ছবির আদলে নবি মুহাম্মদের জীবনের উপরও একটি ছবি নির্মাণ করবে। যেখানে নিজের মতো করে মুহাম্মদের বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তুলবে এবং তার ব্যাখ্যা দেবে। সে এও বলেছে, সেখানে একজন লোক মুহাম্মদের আকৃতি ধারণ করে তার সং-গ্রামী জীবনের উপর অভিনয় করবে। সেখানে সে আরো এমন এমন অনেক জিনিস তুলে ধরবে, মুসলমান কিংবা ইসলামি সমাজ যা জনসমক্ষে তুলে ধরাকে কিংবা প্রকাশ পাওয়াকে পছন্দ করে না। উদাহরণ স্বরূপ সে নিজ পুত্রের স্ত্রীর সাথে রাসূল সা. এর প্রেমের কথা উল্লেখ করেছে। এটা কীভাবে সম্ভব! তিনি কয়েক দিন হেরা গুহায় গোপন ছিলেন, আর সেখান থেকে এমন যাদুকাটি নিয়ে ফিরে এলেন, যার দ্বারা নিজের পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা বৈধ হয়ে গেল। ডেনমার্কে কার্টুন একে রাসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গ্য চিত্র প্রকাশ করার পর-মুহূর্তে ২০০৫ সালের ২৩ নভেম্বরে ‘সাবফো’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছে, মুসলমানগণ ধর্মীয় ব্যাপারে গোড়াবাদী হওয়ার সাথে সাথে তাদের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে কুরাআনকে পবিত্র জ্ঞান করা। সেখানে সে বলেছে, ‘‘ইদানীংকালে আমি কতক আরব সাংবাদিকদের সাথে মিলিত হয়েছি, তখন আমি আমার ব্যাগ থেকে একটি কুরান বের করে মাটিতে ছুঁড়ে মারি। বেপর্দা এক তুর্কি মহিলা উঠে দাঁড়ায় - যার আদর্শ হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষবাদ- এবং আমাকে বলে, আমি অনুরোধ করছি, আপনি কুরানটি উঠিয়ে ব্যাগের ভেতর রাখেন। আমি তাকে এ বলে উত্তর দিলাম, এটা আমার কুরান, আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারি এর সাথে। তবে, এখন কুরআনকে পবিত্র বলার মুখ তোমার নেই। কারণ, তোমাদের নিকট কুরআনের সবকিছু (গেলাফ, লেখা ও কালি) পবিত্র।’’ তোমার সামনে এক্ষুনি তা আমি কদর্য করে দিয়েছি।
এ মহিলা হলেন্ডের সে লোকের সাথেও অংশ গ্রহণ করেছে যে, ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও বানোয়াট ছবি তৈরি করেছে। যে ছবির নাম দিয়েছে ‘বিনয়ী’। যার ফলে ‘ছবি প্রকাশকারী গুপ্তহত্যার শিকার হয়। অর্থাৎ মরোক্কের একজন মুসলিম যুবক তাকে হত্যার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে এবং হত্যা করে কৃতকার্য হয়।